এক ঐতিহাসিক প্রথম পদক্ষেপে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম খান পেন্টাগনের আইরন ডোম ইনিশিয়েটিভ-এর ডিরেক্টর অফ স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। এই প্রোগ্রামটি একটি অত্যন্ত গোপনীয়, উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাকে প্রায়শই আমেরিকার ‘আয়রন ডোম’ বলা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান এখন কৌশল, নীতি এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় গবেষণাগার এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের তত্ত্বাবধান করবেন। তার মূল লক্ষ্য থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি এবং মোতায়েন করা, যা আমেরিকার সামরিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খানের এই নিয়োগ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম কর্মকর্তা এখন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং এর মিত্রদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে স্নাতক হওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খানের মহাকাশ ব্যবস্থা, উপগ্রহ পরিচালনা এবং জাতীয় পুনরুদ্ধার মিশনে রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা। তিনি অভিজাত ইউনিটগুলোর কমান্ড করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৩১৯তম স্পেস রেঞ্জ স্কোয়াড্রন এবং কলোরাডোর শ্রিভার স্পেস ফোর্স বেসের ৩১০তম স্পেস উইং। এই ইউনিটগুলোতে তিনি প্রায় ১,৫০০ কর্মীর নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল দুবার মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেছেন, যার মধ্যে ২০০৭ সালের অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রি উল্লেখযোগ্য। তিনি পেন্টাগন, ইউএস স্পেস ফোর্স এবং অফিস অফ দ্য সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স-এর মতো শীর্ষস্থানীয় পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার অসামান্য সেবার জন্য তিনি আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদকগুলো লাভ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে লিজিয়ন অফ মেরিট, ডিফেন্স মেরিটেরিয়াস সার্ভিস মেডেল, এবং আর্মড ফোর্সেস এক্সপিডিশনারি মেডেল।
ইউএস এয়ার ফোর্সের ওয়েবসাইট অনুসারে, “৭৫ বছর ধরে আমেরিকান এয়ারম্যানরা তাদের ‘উড়ে, যুদ্ধ করে এবং জয়লাভ করে’ এই মিশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করে আসছে, যা আমাদের জাতির সুরক্ষায় যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে বিমান শক্তি সরবরাহ করে। এয়ারম্যানদের উদ্ভাবন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং উন্নতি সাধনের জন্য আহ্বান জানানো হয়।”
বিটি/ আরকে
Tags: আমেরিকার ‘আইরন ডোম’, শরিফুল এম খান