1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

কাতারে ইসরায়েলি হামলা: আমেরিকাকে নিয়ে ভরসা টলমল আরব মিত্রদের নতুন ভাবনা

রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কাতারের বিশ্বাস ছিল যে, তারা ইসরায়েলি হামলা থেকে সুরক্ষিত। কারণ, ছোট এই উপসাগরীয় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। মাত্র চার মাস আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার সফর করেছিলেন। সেই সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা, শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তি এবং একটি বিতর্কিত প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান উপহার দেওয়া হয়েছিল।

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। হামাসের নতুন যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি চুক্তির জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হায়্যার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই একটি ফলো-আপ বৈঠকে হামাসের পক্ষ থেকে জবাব আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই জবাব আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই, দোহায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।

কাতারের রাজধানীতে এই হামলার পর যে ধাক্কা আর বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টতই দৃশ্যমান। গাজার ২৩ মাসের যুদ্ধ শেষ করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী তার শান্ত ও সংযত স্বভাব ছেড়ে কড়া ও কঠোর ভাষায় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

বুধবার সিএনএন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জিম্মিদের মুক্তির “যেকোনো আশা” নষ্ট করেছেন এবং “শান্তির যেকোনো সম্ভাবনা”কে ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুকে “বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত” কারণ তিনি “প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক আইন” লঙ্ঘন করেছেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও কাতার হামাসের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন যে দোহা “আমাদের সঙ্গে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে শান্তি স্থাপন করছে।”

চলতি বছরের জুনে যখন ইরান আল উদেদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করে, তখনও কাতার আমেরিকার পক্ষ হয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই ঘাঁটিটি এই অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক স্থাপনা। তেহরান জানিয়েছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা করেছে। সেই ঘটনার পর দোহা তীব্র নিন্দা জানালেও এর চেয়ে বেশি কিছু করেনি।

মার্কিন নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন
ইসরায়েলের এই হামলার বার্তা কেবল কাতারের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো, যারা কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকেছিল, তারাও এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রচ্ছন্ন আশ্বাস ছিল। ট্রাম্পের মে মাসের সফরের সময় সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল, যা তারা তাদের পক্ষ থেকে রক্ষা করেছিল।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক এইচ. এ. হেলিয়ারের মতে, “আমি মনে করি এই দেশগুলো এখন ভাবছে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধে তারা কী করতে পারে। একই সঙ্গে, এমন একটি অংশীদারের ওপর নির্ভর না করে তাদের নিজেদের কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যে অংশীদার তার নিজের মিত্রদের কাছ থেকেও তাদের রক্ষা করতে পারেনি।”

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে যে বিশ্বাসের ফাটল ধরেছে, তার কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি অনেকটাই নির্ভর করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মিত্রদের প্রতি কী ধরনের আশ্বাস দেন এবং ইসরায়েলের প্রতি তার জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য কেমন হয় তার ওপর। আরও বড় প্রশ্ন হলো, এই ঘটনা ভবিষ্যতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাগুলোকে কতটা নিরুৎসাহিত করবে।

কাতার গাজায় শান্তি মধ্যস্থতার দরজা বন্ধ না করলেও, আলোচনাগুলো এখন স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এমনকি, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এই গুপ্তহত্যার চেষ্টার আগুনে তা ছাই হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান বলেন, “মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার বিনিময়ে এই ধরনের ঝুঁকি নিতে অঞ্চলের খুব কম দেশই ইচ্ছুক হবে।”

কাতার ও মিশর দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে। ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এবং আরও সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে আলোচনা সহজ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের ব্যবস্থা করেছে। সৌদি আরব বিভিন্ন সংঘাতের শান্তি আলোচনার স্থান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

এই প্রতিটি দেশের নেতারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবেন, কারণ এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আর মঙ্গলবার ইসরায়েলের এই হামলা অঞ্চলের অনেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ইসরায়েলের উদ্দেশ্যই হচ্ছে শান্তি আলোচনাকে ধ্বংস করা।

সূত্র: সিএনএন

Tags: , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT