পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ক্রিকেটে পড়ার প্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতে বড় ধরণের টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সম্প্রতি ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজনের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে এই দুটি টুর্নামেন্ট ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে চলমান ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদনটি সামনে এসেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর অনুরোধ এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), আইসিসি প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ তাদের জাতীয় দলকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। মূলত পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করে নিলে যে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, তা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও চরমে। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ (যা পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শেষ হয়) পরবর্তী প্রথম বড় টুর্নামেন্ট ছিল ২০২৪ সালের এশিয়া কাপ। সেই টুর্নামেন্টে এবং সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচেও দেখা গেছে যে, ভারতীয় খেলোয়াড় এবং তাদের অধিনায়ক ম্যাচের পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাথে প্রথাগত করমর্দন থেকে বিরত ছিলেন।
তবে ক্রিকেট নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে বিবাদ ২০২৫ সালের মে মাসের যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পিসিবি এবং বিসিসিআই ২০২৫ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য একটি ‘হাইব্রিড মডেল’-এ সম্মত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৭ চক্রের মধ্যে দুই দেশ একে অপরের দেশে আইসিসি টুর্নামেন্ট খেলতে না যাওয়ার এবং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলার বিষয়ে একমত হয়।
বর্তমানে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কেবল আইসিসির বহুজাতিক টুর্নামেন্টেই একে অপরের মুখোমুখি হয়। ২০১২-১৩ সালে পাকিস্তানের ভারত সফরের পর থেকে এই দুই দলের মধ্যে আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নয়া দিল্লি তাদের জাতীয় দলকে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না।
এই পটভূমিতে ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ দুজন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রভাবশালী দুই ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনে সৃষ্ট জটিলতা বিশ্ব ক্রিকেট প্রশাসকদের বিকল্প ভাবনার পথে চালিত করেছে। বড় টুর্নামেন্টগুলো যাতে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই শেষ করা যায়, সেজন্য তারা ব্যাকআপ ভেন্যু হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে শনাক্ত করার মতো বড় ধরণের আলোচনা শুরু করেছে।
অস্ট্রেলিয়া এর আগেও হাই-প্রোফাইল ভারত-পাকিস্তান বিশ্বকাপ ম্যাচের সফল আয়োজন করেছে, যার মধ্যে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উল্লেখযোগ্য। ২০১৫ সালে অ্যাডিলেড ওভালে ৪১,৫৮৭ জন এবং ২০২২ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৯০,২৯৩ জন দর্শক দুই দলের লড়াই উপভোগ করেছিলেন।
বিটি/ আরকে
Tags: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, পাকিস্তান, বিশ্বকাপ, ভারত