দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময়ে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে ৪৬২ কোটি ৭ লাখ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৪২৯ কোটি ৪৮ লাখ ও বস্ত্র খাতে ৩৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে এ তিন খাতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৬৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে অংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) বা রিভার্স রেপো হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ঘোষণা দেয়ায় বাজারে বাড়তি প্রাণসঞ্চার ঘটে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কমার সংকেত ও প্রধান নীতিগত হার বা ওভারনাইট রেপো হার কমানোর প্রত্যাশাও বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৬৮ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৯০৯ পয়েন্ট। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১০১ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৯০টির, কমেছে ৮০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির শেয়ারদর। আর লেনদেন হয়নি ১৯টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৪০৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। এছাড়া ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। আর পঞ্চম স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে কাগজ ও মুদ্রণ খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এরপর সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এছাড়া পাট খাতে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ৪ দশমিক ৩৫ এবং সাধারণ বীমা খাতে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৩৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৭৮ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক গত সপ্তাহ শেষে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৭৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৫৯৮ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যেখানে মোট লেনদেন ছিল ৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৭টির, কমেছে ৭৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির বাজারদর।
বিটি/ আরকে
Tags: পুঁজিবাজ, রেসূচক ও লেনদেন