বাংলাদেশের বন্দরে দক্ষতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এর বিরোধিতা না করে বরং সমর্থন দেওয়া উচিত।
রোববার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হাইটসে আয়োজিত “চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ ইন দ্য লজিস্টিকস সেক্টর” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মত উঠে আসে।
আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মো. মামুন হাবিব।
অনুষ্ঠানের সহায়তায় ছিল বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, কনভেয়ার গ্রুপ, বিএসএএ, অ্যাংকরেজ কনটেইনার ডিপো ও বিসিএসএ।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিদেশি অপারেটররা বন্দরের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং স্থানীয় জনশক্তি আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস শিখতে পারবে। তিনি হঠাৎ করে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪০% চার্জ বৃদ্ধির সমালোচনা করেন এবং দ্রুত বে টার্মিনাল চালু করা ও মংলা-পায়রা বন্দর পুরোপুরি ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে পাঁচ থেকে ছয় দিন লেগে যায়, যেখানে বৈশ্বিক মান এক থেকে দুই দিন। এর ফলে অনেক সময় ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্ট করতে হয়।
বাফা -এর সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করছে। তিনি বিমানের অদক্ষতা ও শাহজালাল বিমানবন্দরের সমস্যারও সমালোচনা করেন।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা দুর্নীতি, ঘুষ, উচ্চ পরিবহন খরচ ও বহু মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারি পক্ষ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. ইউসুফ জানান, চট্টগ্রামের বে টার্মিনালে মাল্টি-মডাল লজিস্টিকস হাব নির্মাণ শিগগিরই শুরু হবে। তিনটি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করবে সিঙ্গাপুরের PSA, একটি DP World এবং একটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০৩৬ সালের মধ্যে বে টার্মিনাল বছরে ৫.৩৬ মিলিয়ন টিইইউ হ্যান্ডল করতে পারবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার দ্বিগুণ।
তিনি জানান, জাতীয় লজিস্টিকস নীতি সংশোধন প্রক্রিয়াধীন এবং একটি সমন্বিত পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে একটি কনটেইনার ট্রেন বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৈশ্বিক লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে (২০২৩ সালে ৮৮তম), যা রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বড় বাধা। তাই দ্রুত বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, নীতি সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে লজিস্টিকস খাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
বিটি/ আরকে
Tags: ‘ব্যবসায়ী, বন্দর, বিদেশি অপারে, সরকারি কর্মকর্তারা