রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস্থা নোভাটেক বাংলাদেশে একটি নতুন, নিরাপদ অনশোর গ্র্যাভিটি-ভিত্তিক স্ট্রাকচার (জিবিএস) এলএনজি টার্মিনাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। যা দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
প্রকল্পটির বিষয়ে অবগত জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে’ জানিয়েছেন, নোভাটেক নামক কোম্পানিটি ৭ দশমিক ৫০ মিলিয়ন টন প্রতি বছর ক্ষমতাসম্পন্ন এই এলএনজি টার্মিনাল ৭৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি অনুমোদনের ২ দশমিক ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য।
নোভাটেক এর প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তারা উপকূলে ২৭০,০০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করতে চায়।
কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের অনশোর এলএনজি টার্মিনাল উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত হয় এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এখানে স্থানান্তর করে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা হয়।
বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট– এক্সেলারেট এনার্জি এবং বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ মালিকানাধীন – প্রতিদিন প্রায় ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুনরায় সরবরাহ করতে সক্ষম। তবে এগুলো আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে কার্যকর থাকে না। অন্যদিকে, জিবিএস অনশোরে নির্মিত হওয়ায় এটি সব আবহাওয়াতেই কার্যকর থাকে।
জিবিএস এর আরেকটি সুবিধা হলো– জেটি, ফেন্ডার, বা মুরিং ডলফিনের প্রয়োজন হয় না এবং জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল নয়। এতে অনশোর যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র সরিয়ে এনে স্থাপন করা সম্ভব এবং তা থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
নোভাটেক বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক এবং গ্লোবালি সপ্তম বৃহত্তম তালিকাভুক্ত গ্যাস কোম্পানি।
প্রসঙ্গত, সামিট গ্রুপ মহেশখালীর উপকূলে ৩ দশমিক ৭৫ এমটিপিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিল। তবে নতুন সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিতর্কিত এই গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে।
আভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই বিরতি পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে, যা বাড়তি এলএনজি সরবরাহ সামাল দিতে সমস্যা করবে।
সামিট এলএনজি টার্মিনাল ২ লিমিটেড, এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের মধ্যে বিল্ড-ওন-অপারেট-এন্ড-ট্রান্সফার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কথা ছিল।
অন্যদিকে, ৭ দশমিক ৫০ এমটিপিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়াও বাতিল করেছে সরকার।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রথম অনশোর এলএনজি টার্মিনালের কাজ আরও পিছিয়ে গেল, যা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস আমদানি ও পুনরায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, পেট্রোবাংলার একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান, গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোম্পানির তালিকা বাতিল করে।
সামিটের ৩ দশমিক ৭৫ এমটিপিএ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট এবং মাতারবাড়ীতে ১,০০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল ২০১০ সালের “বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন”, যা ২০২১ সালে সংশোধিত হয়, সেই আইনের আওতায় প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ছাড়াই প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বাছাই প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে কারণ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্প সংক্রান্ত সব ধরনের আলোচনার, নির্বাচনের এবং ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, এই স্থগিতাদেশ এসেছে সরকারের পরিবর্তনের পর, কারণ আগের বিশেষ আইনের আওতায় প্রকল্পগুলো প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ চুক্তি ও সরকারি তহবিল অপচয়ের অভিযোগে সমালোচিত হচ্ছিল।
বিটি/ আরকে
Tags: এলএনজি টার্মিনাল, নোভাটেক, বাংলাদেশ, রুশ কোম্পানি