বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করে রেকর্ড গড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও মুদ্রা বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নীতিসহায়ক সুদের হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সরবরাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাই মূলত এই বাড়তি মুনাফার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এক অর্থবছরেই প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বাড়তি মুনাফা অর্জন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মঞ্জুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৪৩তম বোর্ড সভায় ২০২৫ অর্থবছরের আয়-ব্যয় হিসাব উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ১০ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, গত অর্থবছরে স্বল্পমেয়াদি ঋণের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংককে দেওয়া রেপো ও স্পেশাল রেপো সুবিধা থেকে সর্বাধিক আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে নীতিসহায়ক সুদের হার ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এ পদক্ষেপ নিট মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের অবদান রাখে।
অন্য এক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ইংরেজি দৈনিক এফইকে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তা খাতের ওপর দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নির্ভরশীলতা ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “এই নির্ভরশীলতাই রেকর্ড মুনাফা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।”
তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে নির্ধারিত ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো ও বিশেষ তারল্য সুবিধার মাধ্যমে ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়। এপ্রিল, মে ও জুন মাসে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় যথাক্রমে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ও ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মসরুর রিয়াজ বলেন, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বিনিয়োগ-নিষ্প্রাণ পরিস্থিতিতে এত বিপুল মুনাফার প্রেক্ষিতে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে তার সেবা ও তারল্য সহায়তার খরচ কীভাবে কমানো যায় তা খতিয়ে দেখা।
তিনি মনে করেন, এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের গ্রাহকদের ব্যবসায়িক ব্যয় হ্রাস পাবে এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সহায়ক হবে।
বিটি/ আরকে
Tags: বাংলাদেশ ব্যাংক, বৃদ্ধি, মুনাফা