ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে জোরালো প্রচেষ্টা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান দেশীয় বাজার ও রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতেও সক্রিয় হয়েছে সরকার।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি প্রধান হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্য প্রতিযোগিতামূলক দাম ও বিপুল ভোক্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েকটি আমদানিকারক দেশ ইতিমধ্যে অনুরোধ করায় স্থানীয় উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক হালাল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ চলছে। সঠিক সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা থাকলেও সার্টিফিকেশন ও অ্যাক্রেডিটেশন ঘাটতির কারণে বাজার এখনো পুরোপুরি ধরতে পারেনি। যদিও একটি স্থানীয় কোম্পানি সীমিত পরিসরে হালাল মাংস রপ্তানির সক্ষমতা দেখিয়েছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম. মাশরুর রিয়াজ বলেন, শিল্পটিকে এগিয়ে নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৭.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার; ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব ভোক্তা ও সার্টিফিকেশনে নেতৃত্ব দিলেও ভারত, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক।
বাংলাদেশ ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত ইতিমধ্যে বৈশ্বিক হালাল বাণিজ্যে বড় সাফল্য পেয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে দ্রুত এগোতে হবে।
দেশটির শক্তি হলো কম খরচে উৎপাদন এবং ক্রমবর্ধমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার, যা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসরত প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি হালাল পণ্যের বড় সম্ভাব্য বাজার।8
সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে এক ব্যবসায়ী ফোরামে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বাংলাদেশের হালাল শিল্পে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ দেবে, আর মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞ সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক বাজার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ তিন ধরণের বিনিয়োগপথ অনুসরণ করছে—গ্রিনফিল্ড প্রকল্প, যৌথ উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ অংশগ্রহণ।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের সার্টিফিকেশন ছাড়া কোনো দেশ খাদ্য রপ্তানি করতে পারবে না। এজন্য সৌদি অ্যাক্রেডিটেশন সেন্টার (SAAC), সৌদি স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (SASO) এবং সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (SFDA)-এর স্বীকৃতি আবশ্যক। একইভাবে মালয়েশিয়ার জাকিম (JAKIM) সনদও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত জুলাইয়ে SAAC-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে এবং পাবনার বেঙ্গল মিট কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। বেঙ্গল মিটের সিইও এএফএম আসিফ জানান, সৌদি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগের উপপরিচালক ড. মো. আবু সালেহ পাঠওয়ারী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে পাঁচটি খাতে (মাংস, খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও প্রসাধনী) অনলাইন আবেদন করা হয়েছে। প্রতিনিধি দল বেঙ্গল মিট ও আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানা ঘুরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৌশলগত পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বাংলাদেশ হালাল হাব হয়ে উঠতে পারবে না। বর্তমানে বাংলাদেশ কিছু হালাল খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও প্রসাধনী মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকায় রপ্তানি করছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ বলেন, “হালালের ধারণা এখন শুধু মাংসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সব পণ্যেই বিস্তৃত হচ্ছে। জাপান ও কোরিয়ার মতো অমুসলিম দেশও এতে যুক্ত হয়েছে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক মানসম্পন্ন সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। এজন্য ইসলামী ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই, দুটি প্রতিষ্ঠানকেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও পরামর্শ দেন, সার্টিফিকেশন ফি কমানো, ব্র্যান্ডিং জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক হালাল মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে হবে।
ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে জোরালো প্রচেষ্টা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান দেশীয় বাজার ও রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতেও সক্রিয় হয়েছে সরকার।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি প্রধান হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্য প্রতিযোগিতামূলক দাম ও বিপুল ভোক্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েকটি আমদানিকারক দেশ ইতিমধ্যে অনুরোধ করায় স্থানীয় উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক হালাল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ চলছে। সঠিক সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা থাকলেও সার্টিফিকেশন ও অ্যাক্রেডিটেশন ঘাটতির কারণে বাজার এখনো পুরোপুরি ধরতে পারেনি। যদিও একটি স্থানীয় কোম্পানি সীমিত পরিসরে হালাল মাংস রপ্তানির সক্ষমতা দেখিয়েছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম. মাশরুর রিয়াজ বলেন, শিল্পটিকে এগিয়ে নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৭.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার; ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব ভোক্তা ও সার্টিফিকেশনে নেতৃত্ব দিলেও ভারত, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক।
বাংলাদেশ ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত ইতিমধ্যে বৈশ্বিক হালাল বাণিজ্যে বড় সাফল্য পেয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে দ্রুত এগোতে হবে।
দেশটির শক্তি হলো কম খরচে উৎপাদন এবং ক্রমবর্ধমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার, যা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসরত প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি হালাল পণ্যের বড় সম্ভাব্য বাজার।
সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে এক ব্যবসায়ী ফোরামে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বাংলাদেশের হালাল শিল্পে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ দেবে, আর মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞ সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক বাজার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ তিন ধরণের বিনিয়োগপথ অনুসরণ করছে—গ্রিনফিল্ড প্রকল্প, যৌথ উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ অংশগ্রহণ।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের সার্টিফিকেশন ছাড়া কোনো দেশ খাদ্য রপ্তানি করতে পারবে না। এজন্য সৌদি অ্যাক্রেডিটেশন সেন্টার (SAAC), সৌদি স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (SASO) এবং সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (SFDA)-এর স্বীকৃতি আবশ্যক। একইভাবে মালয়েশিয়ার জাকিম (JAKIM) সনদও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত জুলাইয়ে SAAC-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে এবং পাবনার বেঙ্গল মিট কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। বেঙ্গল মিটের সিইও এএফএম আসিফ জানান, সৌদি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগের উপপরিচালক ড. মো. আবু সালেহ পাঠওয়ারী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে পাঁচটি খাতে (মাংস, খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও প্রসাধনী) অনলাইন আবেদন করা হয়েছে। প্রতিনিধি দল বেঙ্গল মিট ও আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানা ঘুরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৌশলগত পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বাংলাদেশ হালাল হাব হয়ে উঠতে পারবে না। বর্তমানে বাংলাদেশ কিছু হালাল খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও প্রসাধনী মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকায় রপ্তানি করছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ বলেন, “হালালের ধারণা এখন শুধু মাংসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সব পণ্যেই বিস্তৃত হচ্ছে। জাপান ও কোরিয়ার মতো অমুসলিম দেশও এতে যুক্ত হয়েছে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক মানসম্পন্ন সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। এজন্য ইসলামী ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই, দুটি প্রতিষ্ঠানকেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও পরামর্শ দেন, সার্টিফিকেশন ফি কমানো, ব্র্যান্ডিং জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক হালাল মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে হবে।
সূত্র: এফই
বিটি/ আরকে
Tags: বাংলাদেশ, বিশ্ব হালাল অর্থনীতি