নতুন সরকারের অধীনে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করে ব্যবসার খরচ কমানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মোবাইল ফোনে ইংরেজি দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসার খরচ কমাতে ডিরেগুলেশন করা হবে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার অনেক বেশি। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ইউটিলিটির দরও বেশি। ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমছে, কর্মসংস্থানও হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিরেগুলেশন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, ব্যাংক ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং ইজ অব ডুয়িং বিজনেস নিশ্চিত করা হবে।’
আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ অনেক, কিন্তু সম্পদ সীমিত। বিভিন্ন দেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়লেও আমাদের দেশে তা কমছে। ব্যাংকিং খাতসহ আর্থিক খাতের অবস্থা খুবই খারাপ। পুঁজিবাজারের অবস্থাও নাজুক। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এখনও উচ্চ। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে গেছে; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নেই। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে, দারিদ্র্যের হার বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বড় ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএনপি আগে সরকারে থাকাকালেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এবার আরও কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। যেকোনো মূল্যে ব্যবসার খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখবেন অর্থনীতি কোন অবস্থায় রয়েছে। তার ভিত্তিতে নতুন সরকার অর্থনীতিকে কোন দিকে নিতে চায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।’
বিটি/ আরকে
Tags: অর্থমন্ত্রী, আমির খসরু, ব্যবসার খরচ