1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক-কাতারসহ ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদে’ মুসলিম ৭ দেশ মাসের প্রথম ২০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২২২২ মিলিয়ন ডলার ‘ভারতে না গেলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য দল নেবে আইসিসি’ বিশ্বকাপ: আজ আইসিসির জরুরি সভার আগে বিসিবির পাশে পিসিবি গ্রিনল্যান্ড দখলে ন্যাটো ভাঙলেও পিছু হটবেন না ট্রাম্প! রোজার আগেই এলপিজি সংকট কেটে যাবে, আশ্বাস অপারেটরদের বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন ৭৬ হাজার ৫৮০ জন সরকারি চাকরিতে বেতন-ভাতার সুপারিশ প্রতিবেদন জমা হচ্ছে বুধবার ‘আইসিসির অযৌক্তিক চাপে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না’ দুই বছরের আগে ভাড়া বাড়ানো যাবে না, দিতে হবে ছাদের চাবি: ডিএনসিসি

সরকারি খরচে লাগাম: বাজেট ঘাটতি কমেছে

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজনৈতিক পালাবদল ও অস্থিরতার জেরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে (পাবলিক ওয়ার্কস) ধীরগতি আসায় বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি কমে এসেছে। বিষয়টিকে এক ধরণের ‘শাপে বর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অন্তর্বর্তী সরকার বাজেট বরাদ্দের বড় অংশই খরচ করতে পারেনি।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে সরকারের ঋণের চাপ কমলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যয় কমে যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আগের সরকার পতনের আগে ২০২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৭ লক্ষ ৮৮হাজার কোটি টাকার (ঋণ, অগ্রিম এবং খাদ্য হিসাবের নিট ব্যয় বাদে) ব্যয় লক্ষ্যমাত্রায় জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ঘাটতির প্রাক্কলন করেছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে গত অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের ১ লক্ষ ৬২ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংক অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

বাজেট ব্যয় কম হওয়ার প্রেক্ষিতে, গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের পর সরকার মোট ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘাটতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং এই হার প্রাথমিক প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক কম। কিন্তু এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হয়নি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ৪ দশমিক ৬০ শতাংশের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সরকারি তথ্যে আরও দেখা গেছে, এটি আগের ২০২৩ অর্থবছরের চূড়ান্ত ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যদিও সরকার পরিচালন বাজেটে সংশোধিত ৫ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ৯৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, কিন্তু গত অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের অর্থের অধিকাংশই ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পরিচলন বাজেট ব্যয়ের হার আগের ২০২৪ অর্থবছরের চেয়ে বেশি ছিল। সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বরাদ্দের ৯১ শতাংশ ব্যয় করেছিল।

২০২৫ অর্থবছরে বাজেটকৃত উন্নয়ন তহবিল ব্যবহারে অন্তর্বর্তী সরকারের পারফরম্যান্স বেশ দুর্বল ছিল। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো সংশোধিত ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা ৬৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই সামগ্রিক বাজেট ব্যয় কমে গেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু গত অর্থবছরে সুদ পরিশোধে ব্যয় অনেক বেড়ে গিয়েছিল, তাই পরিচালন বাজেট ব্যবহারের হার বেশি ছিল।”

ওই কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে সরকার উন্নয়ন ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল।

ব্যয় সংকোচনের একটি প্রধান কারণ সম্পর্কে অর্থ বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, “বাজেট ঘাটতি কমে আসা দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমার ইঙ্গিত দেয়।”

তিনি মনে করেন, সরকারি ঋণের এই সংযম অভ্যন্তরীণ ঋণ বাজারের ওপর চাপ কমাবে, বেসরকারি খাতের জন্য আরও বেশি তারল্য বা নগদ অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করবে এবং সুদের হার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

তার মতে, সরকারের এই আর্থিক পারফরম্যান্স আগামী অর্থবছরের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে।

কর্মকর্তা আরও ব্যাখ্যা করেন, “সফলভাবে ঘাটতি কমানোর ফলে সরকার জাতীয় ঋণের বোঝা না বাড়িয়েই সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যবস্থাপনায় সম্পদ বরাদ্দের জন্য আরও বেশি নীতিগত সুযোগ পাবে।”

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর অর্থনীতির অধ্যাপক ড. এম এ তাসলিম ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, বাজেট ঘাটতি কমা সরকারি ঋণের দিক থেকে ভালো, কিন্তু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা চিন্তা করলে এটি ভালো লক্ষণ নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, “সরকার যদি উন্নয়ন কাজে বাজেটের অর্থ বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য বিমোচনের গতি ধীর হয়ে যাবে। তাই উন্নয়ন ব্যয়ের সুফল পেতে সরকারের উচিত বিচক্ষণ নীতি প্রয়োগ করা।”

অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, কম সরকারি বিনিয়োগ ইতিমধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলেছে।

গত কয়েক বছরের নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণে অর্থনীতি ইতিমধ্যে একটি “আপেক্ষিক স্থবিরতার” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই অর্থনীতিবিদ পরামর্শ দেন, “যদিও ঘাটতির হার কম হওয়ায় তা বাংলাদেশকে ব্যাংক ও বাহ্যিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়া থেকে বাঁচাবে, তবে এর ফলে উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সরকারকে বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।”

সূত্র: এফই

বিটি/ আরকে

Tags: ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT