ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি করছে। এই নীতিমালার আওতায়, কোনো শীর্ষ আমলা এসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হতে পারবেন না।
এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের কার্যকাল তাদের বার্ষিক কর্মক্ষমতা প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে, যা বোর্ডের চেয়ারম্যান পর্যালোচনা করবেন। পরিচালকদের মধ্যে একজন চার্টার্ড বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন আইনজীবী এবং একজন দক্ষ ব্যাংকার অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে।
খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একজন পরিচালক বা চেয়ারম্যান সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পরপর দুই মেয়াদ শেষ করার পর, তাকে পুনরায় নিয়োগের জন্য তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে।
এই নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার যেখানে শেয়ারহোল্ডার, সেইসব রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচন কমিটি গঠন করা হবে।
পরিচালকদের বার্ষিক কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করবেন চেয়ারম্যান এবং উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। চেয়ারম্যানের কর্মক্ষমতাও একজন উচ্চতর কর্তৃপক্ষ দ্বারা পর্যালোচনা করা হবে, যেখানে মন্ত্রী/উপদেষ্টা এবং সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা থাকবেন।
পরিচালকদের নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি থাকবে। যেমন, তাদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাংকিং বা আর্থিক খাতের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য যোগ্যতা থাকতে হবে। তাদের অর্থনীতি, আর্থিক ও ব্যাংকিং, মুদ্রাবাজার, পুঁজি বাজার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর্পোরেট সুশাসন, ব্যবসা শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, আইন এবং আইসিটি খাত থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই পদে নিয়োগ পেতে হলে, আগ্রহী প্রার্থীদের অবশ্যই নৈতিকভাবে এবং আর্থিকভাবে সৎ হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা যাবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই নির্দেশিকা চূড়ান্ত হলে প্রতিটি পরিচালক দক্ষ ও অভিজ্ঞ হবেন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই মাসেই (সেপ্টেম্বর) নির্দেশিকাটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেন, এটি ব্যাংকিং কার্যক্রমে সঠিক ভারসাম্য নিশ্চিত করবে।
বিটি/ আরকে
Tags: আমলা, চেয়ারম্যান-পরিচালক, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান