<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>স্পটলাইট &#8211; বিজনেস টাইমস: ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়ন চিত্রের গণমাধ্যম</title>
	<atom:link href="https://businesstimes.com.bd/category/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://businesstimes.com.bd</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Mon, 11 May 2026 07:14:53 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0</generator>

<image>
	<url>https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2024/11/cropped-bt-favicon-32x32.jpg</url>
	<title>স্পটলাইট &#8211; বিজনেস টাইমস: ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়ন চিত্রের গণমাধ্যম</title>
	<link>https://businesstimes.com.bd</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>আদর্শ, পরিবার এবং ইতিহাস&#8217;: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিরোধের নেপথ্য কারণ</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 11 May 2026 07:14:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[ইউএই]]></category>
		<category><![CDATA[ইয়েমেন]]></category>
		<category><![CDATA[কাতার]]></category>
		<category><![CDATA[মধ্যপ্রাচ্য]]></category>
		<category><![CDATA[মিশর]]></category>
		<category><![CDATA[সংযুক্ত আরব আমিরাত]]></category>
		<category><![CDATA[সৌদি]]></category>
		<category><![CDATA[সৌদি আরব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=10230</guid>

					<description><![CDATA[সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহিয়ান পরিবারের এক রাজপুত্রকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল যেন একটি মরুভূমির মরূদ্যান দখল করা যায়, যেখানে প্রচুর তেল থাকার সম্ভাবনা ছিল। সেই শেখ তার পরিবারকে বিশ্বাসঘাতকতা করার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরবর্তীতে সৌদি আরব ওই অঞ্চলে একটি ব্যর্থ সামরিক অভিযান চালায়। প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড হোল্ডেন তার ১৯৬৬ সালের ধ্রুপদী বই [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহিয়ান পরিবারের এক রাজপুত্রকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল যেন একটি মরুভূমির মরূদ্যান দখল করা যায়, যেখানে প্রচুর তেল থাকার সম্ভাবনা ছিল। সেই শেখ তার পরিবারকে বিশ্বাসঘাতকতা করার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরবর্তীতে সৌদি আরব ওই অঞ্চলে একটি ব্যর্থ সামরিক অভিযান চালায়।</strong></p>
<p>প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড হোল্ডেন তার ১৯৬৬ সালের ধ্রুপদী বই &#8216;ফেয়ারওয়েল টু অ্যারাবিয়া&#8217;তে ১৯৫০-এর দশকের সৌদি রাজপরিবার, ওমান এবং ট্রুশিয়াল স্টেটসের (যা পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়) মধ্যে ঐতিহাসিক বুরাইমি বিরোধের সারসংক্ষেপ এভাবেই করেছিলেন।</p>
<p>হোল্ডেনের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদিরা যে শেখকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তিনি ছিলেন জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান, যাকে তখন &#8220;বুরাইমির লর্ড&#8221; বলা হতো কিন্তু ইতিহাসে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্মরণীয়। তার ছেলে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড), এখন আরেক সৌদি পরিবারের সদস্য ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সাথে এক তিক্ত দ্বন্দ্বে লিপ্ত।</p>
<p>সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিক থেরোস &#8216;মিডল ইস্ট আই&#8217;কে বলেন, &#8220;আপনি যদি আদর্শ, পরিবার এবং ইতিহাসকে একসাথে রাখেন, তবেই আপনি সৌদি-ইউএই বিরোধ বুঝতে পারবেন।&#8221; থেরোস যখন প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে আসেন, তখন বুরাইমি বিরোধের উত্তেজনা তখনও তাজা ছিল।</p>
<p>বর্তমানে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।</p>
<p>কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিশ্লেষকরা বলছেন যে, তাদের এই দ্বন্দ্ব বৃহত্তরভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টিকে থাকার ক্ষমতা যখন প্রশ্নের মুখে, তখন এই বিভাজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই মতপার্থক্য এমনকি এশিয়া, ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের পকেটেও প্রভাব ফেলবে।</p>
<p>এই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল কার্টেল ওপেক ত্যাগ করেছে। আবু ধাবি ঘোষণা করেছে যে, এর ফলে তারা প্রতিদিন আরও লাখ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করবে, যা সৌদি আরবের সাথে একটি ভবিষ্যৎ মূল্য যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইউএই-র ওপেক ত্যাগ করা এই বিস্তৃত ফাটলের একটি প্রতীকী রূপ।</p>
<p>দৃশ্যত, আবু ধাবি ৬০ বছর পর ওপেক ছেড়েছে কারণ উৎপাদন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়ে রিয়াদের সাথে তাদের মতভেদ দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্রুত বেশি তেল উৎপাদন করে এখনই মুনাফা তুলে নিতে চায়, যেখানে সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদী দাম বজায় রাখতে বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে আগ্রহী।</p>
<p>তবে এই কারিগরি পার্থক্যের গভীরে রয়েছে আরও বড় একটি অস্বস্তির জায়গা।</p>
<p>ওপেক মূলত সৌদি আরবের নির্দেশনায় জ্বালানি নীতি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া তেল-সমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলোর একটি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের তেলের মজুদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া এটি ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার দেশ। এর ৩.৫ কোটি জনসংখ্যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ কোটি জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি (যাদের মধ্যে মাত্র ১০ লাখ আমিরাতি নাগরিক)।</p>
<p>কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রব গেস্ট পিনফোল্ড এমইই-কে বলেছেন, &#8220;সৌদি আরব ওপেক এবং জিসিসি-র (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) মাধ্যমে তার ক্ষমতা জাহির করতে চায়। এর আয়তন এবং সম্পদের কারণে এটি নিজেকে উপসাগরের স্বাভাবিক নেতা হিসেবে দেখে।&#8221;</p>
<p>তিনি আরও বলেন, &#8220;সংযুক্ত আরব আমিরাত আয়তনে ছোট হলেও একটি বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য অভাবনীয় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। ইউএই মনে করে যে সৌদিদের প্রাধান্য মেনে নেওয়া তাদের বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে।&#8221;<img fetchpriority="high" decoding="async" class="alignnone wp-image-10232" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-KSA--300x169.jpg" alt="" width="850" height="478" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-KSA--300x169.jpg 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-KSA--1024x576.jpg 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-KSA--768x432.jpg 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-KSA--600x337.jpg 600w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-KSA-.jpg 1200w" sizes="(max-width: 850px) 100vw, 850px" /></p>
<p><strong>সৌদি আরব এবং পারস্যদের মোকাবিলা</strong><br />
উপসাগরীয় বাণিজ্যিক সম্প্রদায়গুলো, যা পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠন করেছিল, ঐতিহাসিকভাবে পূর্বে পারস্য এবং পশ্চিমে নজদ অঞ্চলের গোত্রগুলোর মধ্যে আটকে ছিল। নজদ হলো কেন্দ্রীয় আরব উপদ্বীপের সেই অঞ্চল যেখান থেকে সৌদি রাজপরিবারের উৎপত্তি।</p>
<p>কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি মূলত পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতারই এক একবিংশ শতাব্দীর সংস্করণ, যা তেলের সম্পদ এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে।</p>
<p>সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত থেরোস বলেন, &#8220;আমিরাতিরা সব সময় সৌদিদের এক &#8216;শিকারি প্রতিবেশী&#8217; হিসেবে দেখেছে যারা তাদের দাসে পরিণত করতে চায়। তারা ঐতিহাসিকভাবে উপসাগরে পারস্যদের প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও সতর্ক ছিল।&#8221; তিনি আরও বলেন, &#8220;এমবিজেড অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে একটি ছোট উপসাগরীয় দেশের পক্ষেও সৌদি এবং পারস্যদের মুখোমুখি দাঁড়ানো সম্ভব।&#8221;</p>
<p>সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্যতম প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে। ইরান যখন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ইউএই-কে আক্রমণ করেছিল, তখন ইসরায়েল তাদের রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। একইভাবে, ইউএই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি ভিত্তিতে মার্কিন ডলার সরবরাহের অনুরোধ করেছে।</p>
<p>নিজেদের ছোট আয়তন পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ইউএই-র আরেকটি কৌশল হলো পশ্চিমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে স্থানীয় অংশীদার খুঁজে বের করা। এটি সৌদি আরবকে ক্ষুব্ধ করেছে, কারণ তারা নিজেদের সীমানার বাইরে অন্য কোনো আরব দেশের এমন হস্তক্ষেপ নিয়ে শঙ্কিত।</p>
<p>সুদানের গৃহযুদ্ধেও এই দুই প্রতিবেশী দেশ বিপরীত পক্ষগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। এমইই প্রথম উন্মোচন করেছিল যে সুদানে তাদের সম্পর্ক কতটা তিক্ত হয়েছে। একটি রিপোর্টে জানানো হয় যে, রিয়াদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়েছে যেন তারা প্যারামিলিটারি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-কে সমর্থনের জন্য ইউএই-কে শাস্তি দেয়।</p>
<p>ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে, সৌদি আরব ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি রিয়াদ ইয়েমেনের সুদূর পূর্বে আমিরাতি আধিপত্য ঠেকাতে ওমানের সাথে জোট বেঁধেছে।</p>
<p>এই সব যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সেই &#8216;কৌশলগত গভীরতা&#8217; দিতে পারে যা ভৌগোলিকভাবে তাদের নেই। যদি সুদানে আরএসএফ সফল হয়, তবে সৌদি আরবের উল্টো দিকে লোহিত সাগর উপকূলে ইউএই-র একজন শক্ত মিত্র থাকবে। একইভাবে, ইয়েমেনের &#8216;সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল&#8217; বাব এল-মান্দেব প্রণালীর পাশে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।</p>
<p>ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি লোহিত সাগরের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার মাধ্যমে সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি করে। ইউএই বিচ্ছিন্নতাবাদী সোমালিল্যান্ডকেও সমর্থন করেছে, যাকে ইসরায়েল স্বীকৃতি দিয়েছে।</p>
<p>তবে এই সংঘাতগুলোর পেছনে আরেকটি গভীর কারণ রয়েছে।</p>
<p><strong>&#8216;প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে অতিরিক্ত মাথাব্যথা&#8217;</strong><br />
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর ইয়েমেন, লিবিয়া এবং সুদান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মুখে পড়ে। যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীকে সমর্থন করেছে, সেখানে সৌদি আরব নিয়মিত সামরিক বাহিনী এবং প্রতিষ্ঠিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে। ইউএই দাবি করে যে ইয়েমেন এবং সুদানের মতো কিছু সরকার &#8220;ইসলামপন্থীদের&#8221; দ্বারা গঠিত।</p>
<p>কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর স্কলার হিশাম আলঘান্নাম এমইই-কে বলেছেন, &#8220;আমাদের (সৌদি) দৃষ্টিভঙ্গি জাতি-রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার ওপর ভিত্তি করে: এর ঐক্য রক্ষা করা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। অন্যদিকে, অন্য পক্ষের আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা প্রায়ই ইসলামপন্থী বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনের এক সংকীর্ণ কৌশলী মানসিকতা দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে এবং সমান্তরাল মিলিশিয়া বাহিনী তৈরি করে যা বৈধ কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে।&#8221;</p>
<p>তবে একটা সময় ছিল যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব দুজনেই আরব বসন্ত পরবর্তী পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কাজ করাকে তাদের স্বার্থ বলে মনে করত। ২০১২ সালে মিশরের নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিজয় উভয় রাজপরিবারকেই আতঙ্কিত করেছিল। একইভাবে, ইয়েমেনে তারা হুতিদের উত্থানকে হুমকি হিসেবে দেখেছিল। তারা একসাথে কাতারকে বয়কট করেছিল কারণ তারা মনে করত কাতার এমন সব রাজনৈতিক আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে যা তাদের রাজতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে।</p>
<p>বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ২০১৫ সালে তরুণ ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে যেভাবে পথ দেখিয়েছিলেন, তা তাদের সম্পর্ককে শুরুতে সহজ করেছিল। চ্যাথাম হাউসের বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়াম বলেন, &#8220;এমবিজেড-ই মূলত এমবিএসকে কাতার বয়কট করতে রাজি করিয়েছিলেন।&#8221;</p>
<p>কিন্তু কুইলিয়াম মনে করেন, সেই ঐক্য ছিল একটি সাময়িক বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০০৯ সালেই ইউএই উপসাগরীয় একক মুদ্রা প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল কারণ এর সদর দপ্তর আবু ধাবির বদলে রিয়াদে হওয়ার কথা ছিল।</p>
<p>মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিখসেন বলেন, &#8220;আরব বসন্ত সাময়িকভাবে তাদের কাছাকাছি এনেছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তারা সব সময়ই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।&#8221;<img decoding="async" class="alignnone wp-image-10233" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-Q-KSA-Red-Sea-300x169.jpg" alt="" width="850" height="477" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-Q-KSA-Red-Sea-300x169.jpg 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-Q-KSA-Red-Sea-1024x575.jpg 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-Q-KSA-Red-Sea-768x431.jpg 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-Q-KSA-Red-Sea-600x337.jpg 600w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2026/05/UAE-Q-KSA-Red-Sea.jpg 1200w" sizes="(max-width: 850px) 100vw, 850px" /></p>
<p><strong>ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র</strong><br />
এই মতভেদের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ইসরায়েলের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। ২০২০ সালে যখন ইউএই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তখন তারা সৌদি আরবের তৈরি কয়েক দশকের পুরনো আরব শান্তি পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে কোনো সম্পর্ক হবে না।</p>
<p>সৌদি আরব যখন ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা ভাবছিল, তখনই গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ সেই সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দেয়। জাতিসংঘ এই আক্রমণকে &#8216;গণহত্যা&#8217; হিসেবে অভিহিত করেছে, যেখানে ৭২,৬০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। একটি জরিপে দেখা গেছে যে ৯৬ শতাংশ সৌদি নাগরিক ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে।</p>
<p>ইরানের সাথে যুদ্ধ এই দুই দেশের পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। যদিও উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, কিন্তু তারা এখন ওয়াশিংটনের অন্যান্য অংশীদারদের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জোট গঠন করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সাথে তাদের অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করছে, যেখানে সৌদি আরব তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তানকে নিয়ে একটি বড় জোট তৈরি করছে।</p>
<p>প্যাট্রিক থেরোস বলেন, &#8220;ইউএই বা সৌদি আরব কেউই যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে পারবে না। তবে এই নতুন তৈরি হওয়া নিজস্ব জোটগুলো ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।&#8221;</p>
<p><strong>সূত্র:</strong> মিডল ইস্ট আই</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে ঢাকা-ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%8f%e0%a6%ab-%e0%a7%a7%e0%a7%ad-%e0%a6%af%e0%a7%81/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 06 Jan 2026 10:25:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা-ইসলামাবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[পাকিস্তান]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=9253</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি পাকিস্তানের তৈরি অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।</strong></p>
<p>পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএপিআর) জানিয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশের বিমান বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।</p>
<p>আইএপিআরের বরাতে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন বৈঠকে আলোচিত প্রধান কিছু দিক তুলে ধরেছে। যার মধ্যে রয়েছে-</p>
<p><strong>জেএফ-১৭ ক্রয় আলোচনা:</strong> বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বহুমুখী এই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।</p>
<p><strong>সুপার মুশশাক সরবরাহ:</strong> বৈঠকে পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান বাংলাদেশকে দ্রুততম সময়ে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের আশ্বাস দেন।</p>
<p><strong>প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি:</strong> বাংলাদেশি পাইলটদের জন্য মৌলিক থেকে উন্নত পর্যায়ের উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্সের বিষয়ে পাকিস্তান পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে।</p>
<p><strong>রক্ষণাবেক্ষণ ও রাডার সহায়তা:</strong> বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বর্তমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদার করতে রাডার সিস্টেম একীভূত করার বিষয়ে পাকিস্তানের অপারেশনাল দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।</p>
<p>পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু বলেন,&#8221;পাকিস্তান বিমান বাহিনী বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।&#8221;</p>
<p>প্রতিবদেনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক, পিএএফ সাইবার কমান্ড এবং ন্যাশনাল আইএসআর ও ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অপারেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। তারা পাকিস্তানের আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও সাইবার সক্ষমতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।</p>
<p>ডনের প্রতিবদেনের শেষে বলা হয়, এই সফরটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এবং বাংলাদেশের &#8216;ফোর্সেস গোল ২০৩০&#8217; বাস্তবায়নের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বের পথ প্রশস্ত করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।</p>
<p>বিটি/ আরকে</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার কি কোনো আইনি ভিত্তি আছে?</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 04 Jan 2026 05:34:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[আইনি ভিত্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ভেনেজুয়েলা]]></category>
		<category><![CDATA[মার্কিন হামলা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=9202</guid>

					<description><![CDATA[ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সকালে ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় একটি &#8220;বড় আকারের হামলা&#8221; চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করেছে। এই দম্পতিকে এখন নিউইয়র্কে সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি &#8220;নারকো-সন্ত্রাসী সংগঠন&#8221; পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন। তবে এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এমনকি [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সকালে ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় একটি &#8220;বড় আকারের হামলা&#8221; চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করেছে। এই দম্পতিকে এখন নিউইয়র্কে সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি &#8220;নারকো-সন্ত্রাসী সংগঠন&#8221; পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন।</strong></p>
<p>তবে এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এমনকি ট্রাম্পের কিছু মিত্রও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।</p>
<p>ভেনেজুয়েলার এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদলের মতামত জানতে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য গার্ডিয়ান।</p>
<p><strong>ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান কি আন্তর্জাতিক আইনে ন্যায়সংগত?</strong><br />
গার্ডিয়ান যেসব বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছে, তারা একমত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত জাতিসংঘ সনদের শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে। ১৯৪৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত এই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো আরেকটি বড় সংঘাত রোধ করা। এই চুক্তির একটি কেন্দ্রীয় বিধান—যা অনুচ্ছেদ ২(৪) নামে পরিচিত—তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তাদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে।</p>
<p>ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান এবং সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ আদালতের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিওফ্রে রবার্টসন কেসি বলেন, ভেনেজুয়েলায় এই হামলা সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪)-এর পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, “বাস্তবতা হলো আমেরিকা জাতিসংঘ সনদ ভঙ্গ করেছে। এটি &#8216;আগ্রাসনের অপরাধ&#8217; (ক্রাইম অব আগ্রাসন) করেছে, যাকে নুরেমবার্গের আদালত &#8216;সর্বোচ্চ অপরাধ&#8217; হিসেবে বর্ণনা করেছিল।”</p>
<p>কিংস্টন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এলভিরা ডমিঙ্গুয়েজ-রেডন্ডো এই অভিযানকে &#8220;আগ্রাসনের অপরাধ এবং অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে শক্তির অবৈধ ব্যবহার&#8221; হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ ফেলো এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক সুসান ব্রু একমত পোষণ করে বলেন যে, এই হামলা তখনই বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারতো যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব থাকতো অথবা তারা আত্মরক্ষার্থে কাজ করতো। ব্রু বলেন, “এই দুটির কোনোটির পক্ষেই বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই।”</p>
<p><strong>যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিতে পারে?</strong><br />
যুক্তরাষ্ট্র যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে যে, মাদুরোর নেতৃত্বাধীন কথিত “নারকো-সন্ত্রাসী সংগঠন” থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করতে তারা আত্মরক্ষার্থে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘ সনদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন—উভয় ক্ষেত্রেই আত্মরক্ষার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের কিছু বিধান রয়েছে।</p>
<p>তবে রবার্টসন বলেন: “আমেরিকা কোনোভাবেই দাবি করতে পারে না যে, এই পদক্ষেপ আত্মরক্ষার্থে নেওয়া হয়েছে, যদিও তারা নিঃসন্দেহে তা করবে। আপনি যদি আত্মরক্ষার যুক্তি ব্যবহার করতে চান, তবে আপনার এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে, আপনি সশস্ত্র হামলার শিকার হতে যাচ্ছেন। কেউ দাবি করেনি যে, ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল&#8230; মাদুরো কোনো বড় মাদক সম্রাট—এই ধারণা দিয়ে শাসন পরিবর্তনের জন্য আক্রমণ চালানোর অবৈধতাকে আড়াল করা যাবে না।”</p>
<p>অধ্যাপক ব্রু আরও যোগ করেন: “আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে ওই মাদক পাচারকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ছিল। যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে যুক্তি দেবে যে মাদক পাচার একটি অভিশাপ এবং এটি অনেক মানুষকে হত্যা করছে, এবং আমি তাতে একমত। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এটি খতিয়ে দেখছেন এবং এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই যে ওই মাদক পাচারকারীরা ভেনেজুয়েলার ছিল, মাদুরো তাদের পরিচালনা করতেন—এমন প্রমাণ তো দূরের কথা।”</p>
<p><strong>এই কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে?</strong><br />
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টায় দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স—এর ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।</p>
<p>রবার্টসন বলেন, “নিষেধাজ্ঞা নিরাপত্তা পরিষদকে আরোপ করতে হবে এবং আমেরিকা সেখানে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে, নিরাপত্তা পরিষদ একটি অকেজো সংস্থা। একটি দেশ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেও কেবল ভেটো দিয়ে নিন্দা এড়াতে পারে&#8230; যে একমাত্র সংস্থা ব্যবস্থা নিতে পারত, তা মার্কিন ভেটোর কারণে অকার্যকর হয়ে পড়বে।”</p>
<p>ডমিঙ্গুয়েজ-রেডন্ডো এই পরিস্থিতিকে &#8220;অসম্ভব&#8221; বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে অন্যান্য দেশগুলো সেগুলো অনুসরণ করবে কি না তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। যেহেতু আমেরিকার ভেটো ক্ষমতা আছে, তাই সেখানে কখনোই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হবে না।”</p>
<p><strong>এটি বিশ্বজুড়ে কী ধরনের নজির স্থাপন করতে পারে?</strong><br />
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো পরিণতির মুখোমুখি না হয়, তবে এটি অন্যান্য দেশকেও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অভিযান চালাতে উৎসাহিত করতে পারে।</p>
<p>রবার্টসন বলেন, “সবচেয়ে স্পষ্ট পরিণতি হবে এই যে চীন তাইওয়ান দখলের সুযোগ নেবে। ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণ এবং ইউক্রেন আক্রমণে রাশিয়ার প্রতি তার তোষণমূলক নীতির নজির দ্বারা উৎসাহিত হয়ে চীন এটি করার জন্য উপযুক্ত সময় খুঁজে পাবে। প্রকৃতপক্ষে, আমি বলব ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণ হলো সেই আগ্রাসনের অপরাধ, যা পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করে করেছেন।”</p>
<p>ডমিঙ্গুয়েজ-রেডন্ডো যোগ করেন যে, এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ ছিল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধের মেকানিজম। এটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে—মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা, তবে যুক্তরাজ্যও যখন ইরাকে বিনা অনুমতিতে যুদ্ধে গিয়েছিল তখন এতে ভূমিকা রেখেছিল। নিরাপত্তা পরিষদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।”</p>
<p><strong>ট্রাম্পের এই হামলা মার্কিন মিত্রদের কোন অবস্থানে দাঁড় করালো?</strong><br />
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা অভিযানের তথ্য জানতে ট্রাম্প এবং অন্যান্য মিত্রদের সাথে কথা বলতে চান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাজ্য এই আক্রমণে জড়িত ছিল না এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, “আমাদের সবারই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত।” ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।</p>
<p>রবার্টসন বলেন, “যুক্তরাজ্যের কর্তব্য হলো আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করা। আমি বলব যে নেতারা যুদ্ধ শুরু করেন, তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ এবং মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী।”</p>
<p>তিনি আরও যোগ করেন, “কিয়ার স্টারমারের ওপর একটি দায়িত্ব রয়েছে—যিনি এখন পর্যন্ত সঠিক পথে চলছেন এবং পূর্ণ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সম্ভবত এই দায়িত্ব তার ওপরই বর্তাবে যে, তিনি নুরেমবার্গের নীতিগুলোর পক্ষে দাঁড়ান, আগ্রাসনের অপরাধ করার জন্য ট্রাম্পের নিন্দা করেন এবং এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেন।”</p>
<p>বিটি/ আরকে</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এবং পুতিনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: ভারত কি উভয়দিক বজায় রাখতে পারবে?</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/trade-deal-with-trump-and-warm-welcome-for-putin-can-india-have-it-both-ways/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 04 Dec 2025 06:50:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিশ্ববাণিজ্য]]></category>
		<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[উষ্ণ অভ্যর্থনা]]></category>
		<category><![CDATA[ট্রাম্প]]></category>
		<category><![CDATA[পুতিন]]></category>
		<category><![CDATA[বাণিজ্য চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=8623</guid>

					<description><![CDATA[বৃহস্পতিবার যখন ভ্লাদিমির পুতিনের বিমান নয়াদিল্লিতে অবতরণ করবে, তখন ভারতের অন্যতম অবিচল অংশীদার হিসেবে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হবে। কিন্তু একই সময়ে, তার আয়োজক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, একটি প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও একটি গভীর কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এটি হলো ভারতের কূটনৈতিক &#8216;স্প্লিট স্ক্রিন&#8217; বা বিভক্ত পর্দা। একদিকে রয়েছে: উন্নত রুশ যুদ্ধবিমান [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বৃহস্পতিবার যখন ভ্লাদিমির পুতিনের বিমান নয়াদিল্লিতে অবতরণ করবে, তখন ভারতের অন্যতম অবিচল অংশীদার হিসেবে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হবে। কিন্তু একই সময়ে, তার আয়োজক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, একটি প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও একটি গভীর কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।</strong></p>
<p>এটি হলো ভারতের কূটনৈতিক &#8216;স্প্লিট স্ক্রিন&#8217; বা বিভক্ত পর্দা। একদিকে রয়েছে: উন্নত রুশ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা, সস্তা তেল এবং শীতল যুদ্ধের সময় থেকে গড়ে ওঠা এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্ব। অন্যদিকে: প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আমেরিকান সহযোগিতা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত কঠোর শুল্ক তুলে নেওয়ার আশা।</p>
<p>পুতিন ইউক্রেন আক্রমণের পর, ভারত তার কৌশলগত সম্পদ একটি বিশাল বাজার এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে হোয়াইট হাউস এবং ক্রেমলিন উভয়ের কাছ থেকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।</p>
<p>ভারতের রাজধানীর কেন্দ্রে রুশ ও ভারতীয় পতাকা পাশাপাশি উড়ছে এবং সুউচ্চ বিলবোর্ডে পুতিনকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তবে পুতিনের এই সফর—যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতে তার প্রথম আগমন—মোদির জন্য একটি সংবেদনশীল সময়ে এসেছে।</p>
<p>নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সাথে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, কারণ ভারতকে ৫০% শুল্কের মুখে পড়তে হয়েছে—যার অর্ধেকই ছিল নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ছাড়কৃত রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার সরাসরি শাস্তি।</p>
<p>নয়াদিল্লি সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে শান্ত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন রুশ তেল কেনা কমানো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কেনার চুক্তি করা।</p>
<p>তবুও, পুতিনের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো মস্কোর সাথে আরও প্রতিরক্ষা চুক্তি—যা ভারত পাকিস্তান ও চীনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক মনে করে, যাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।</p>
<p>এটি তুলে ধরে যে, ভারতকে একটি জটিল প্রতিবেশী অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে চলতে হচ্ছে: রাশিয়া চীনেরও ঘনিষ্ঠ অংশীদার, আর বেইজিং পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী।</p>
<p>অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিজিটিং প্রফেসর কান্তি বাজপেয়ী বলেছেন, পুতিনের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়ে নয়াদিল্লি পশ্চিম এবং চীন উভয়কেই এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তার হাতে “বিকল্প পথ আছে”।</p>
<p>তিনি বলেন, “এটি একটি ইঙ্গিত যে, রাশিয়া ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও ভারত রুশদের পাশে থাকতে ইচ্ছুক। তেল ও অস্ত্র ছাড়াও এটি হলো কূটনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে দিল্লি বেইজিং ও ওয়াশিংটনকে দেখাচ্ছে যে, তার কাছে একটি তৃতীয় বিকল্প রয়েছে, যা তাকে দর কষাকষির কিছুটা বেশি সুযোগ করে দেবে।”<img decoding="async" class="alignnone wp-image-8625" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Modi-putin-300x200.avif" alt="" width="800" height="534" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Modi-putin-300x200.avif 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Modi-putin-1024x683.avif 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Modi-putin-768x512.avif 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Modi-putin.avif 1202w" sizes="(max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>‘সময়ের পরীক্ষিত’ বন্ধুত্ব</strong><br />
ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শীতল যুদ্ধের সময়কালে গড়ে ওঠে, যখন সদ্য স্বাধীন দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে “জোট নিরপেক্ষ” ছিল, কিন্তু নতুন দেশ হিসেবে পথ চলতে গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে প্রচুর শিল্প ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছিল।</p>
<p>তবে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা আসে ১৯৭০-এর দশকে, যা ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও আর্থিক সমর্থন দ্বারা চালিত হয়েছিল। রাশিয়া ভারতকে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে এবং মস্কো একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নেয়, যার গুরুত্ব তারা তখন থেকেই বজায় রেখেছে।</p>
<p>যদিও গত চার বছরে ভারত কর্তৃক রুশ অস্ত্র সংগ্রহ কমেছে, তবুও বৈশ্বিক অস্ত্র বিক্রি ট্র্যাক করা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) অনুসারে, মস্কো এখনও ভারতের শীর্ষ সামরিক সরবরাহকারী।</p>
<p>এই রুশ হার্ডওয়্যারের বেশিরভাগই কেনা হয় ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে লক্ষ্য করে—যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, কিন্তু যার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা রয়েছে।</p>
<p>এদিকে, বেইজিং হলো ভারতের আরেক চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী, যার মধ্যে এমন জেটও রয়েছে যা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি সংক্ষিপ্ত সীমান্ত সংঘাতের সময় ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে ব্যবহার করেছিল বলে দাবি করা হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, ভূপাতিত হওয়া জেটগুলির মধ্যে একটি ছিল রুশ-নির্মিত সুখোই সু-৩০ও।</p>
<p>রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের ২৯টি ফাইটার স্কোয়াড্রনের বেশিরভাগই রুশ সু-৩০ জেটে গঠিত।</p>
<p>ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সপ্তাহে রাশিয়ার সাথে আলোচনায় সম্ভবত তাদের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান সু-৫৭-এর জন্য একটি সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।</p>
<p>কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, মস্কোর সাথে নয়াদিল্লির অর্থনৈতিক সম্পর্কই শিরোনামে এসেছে—এবং সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে।</p>
<p>২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে যখন রুশ তেলের দাম কমে যায়, তখন ভারত সেই সুযোগটি গ্রহণ করে। তার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে জ্বালানি সরবরাহ এবং ১.৪ বিলিয়নেরও (১৪০ কোটি) বেশি জনসংখ্যার সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য একটি সস্তা দর পেতে আগ্রহী দেশটি রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়, এবং ক্রেমলিনের শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-8626" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Trump-putin-300x200.webp" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Trump-putin-300x200.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Trump-putin-768x512.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/Trump-putin.webp 860w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>পশ্চিমের নিন্দার জবাবে, ভারত ধারাবাহিকভাবে যুক্তি দিয়েছে যে, তার প্রাথমিক দায়িত্ব হলো তার নিজের জনগণ এবং অর্থনীতির প্রতি।</p>
<p>নয়াদিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)-এর ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো নন্দন উন্নিকৃষ্ণান বলেন, “আমাদের শত শত মিলিয়ন দরিদ্র মানুষ আছে। আমাদের তাদের দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে আনতে হবে… এটি মোকাবেলা করার জন্য, ভারতকে সকল পরাশক্তির সাথে একটি শালীন কর্মসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।”</p>
<p>কিন্তু আগস্ট মাসে ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে এবং তিনি ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেন—যা ওয়াশিংটনের সাথে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির জন্য এবং সেই সাথে রুশ তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসেবে দেওয়া হয়।</p>
<p>এরপর অক্টোবরে, ট্রাম্প রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম তেল কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন, যা ভারতে অবিলম্বে তরঙ্গ সৃষ্টি করে। রয়টার্সকে ট্রেড ও শোধনকারী সূত্র জানিয়েছে যে, দেশটির ডিসেম্বরের তেল আমদানি কমপক্ষে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।</p>
<p>ওয়াশিংটনের এই আর্থিক চাপ কেবল সম্পর্ককে টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে না, বরং বেইজিং-এর সাথেও সম্প্রীতিকে ত্বরান্বিত করছে বলে মনে হচ্ছে। ট্রাম্পের ভারত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক দিন পর, মোদি সাত বছরের মধ্যে তার প্রথম চীন সফরে যান। এই শীর্ষ সম্মেলনটি চীনা নেতা শি জিনপিং দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল, যা বেইজিংকে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম একটি বৈশ্বিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার জন্য নকশা করা হয়েছিল।</p>
<p>সেই একই শীর্ষ সম্মেলনটি ছিল মোদি এবং পুতিনের শেষ সাক্ষাতের স্থান। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে, দু&#8217;জন একটি উষ্ণ, দৃঢ় করমর্দন করেন এবং তারপর জনসম্মুখ থেকে সরে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত, ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা রুশ প্রেসিডেন্টের লিমুজিন গাড়ির ভেতরে গোপনীয়তার মধ্যে করেন।</p>
<p>অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজপেয়ী বলেন, “আমার মনে হয় লোকেরা বুঝতে পেরেছিল যে, ভারত সেখানে কী করার চেষ্টা করছিল এবং কিছুটা হলেও পশ্চিমের দিকে নাক গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল।”<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-8627" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/plane-300x200.webp" alt="" width="800" height="532" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/plane-300x200.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/plane-768x511.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/12/plane.webp 860w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>দড়ির উপর দিয়ে হাঁটা</strong><br />
ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন, পাশাপাশি জো বাইডেনের প্রশাসনও, ভারতকে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছিল এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করেছিল।</p>
<p>মোদির সাথে ট্রাম্পেরও একটি সুসম্পর্ক ছিল, যিনিও একজন সহকর্মী ডানপন্থী লোকবাদী এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে বিশাল প্রদর্শনীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে পারদর্শী। ভারতীয় নেতা তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আতিথেয়তা দেন এবং কূটনৈতিক প্রোটোকল উপেক্ষা করে হিউস্টনে &#8220;হাউডি মোদি!&#8221; নামক একটি সমাবেশে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রচারণা চালান।</p>
<p>সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে তার একটি ইঙ্গিত হিসেবে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি নতুন ১০-বছরের কাঠামোতে সম্মত হয়েছে।</p>
<p>এবং নয়াদিল্লি এখনও ওয়াশিংটনের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করছে। ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল গত সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন যে, তিনি আশা করছেন এই বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে।</p>
<p>তবে, ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপগুলি তার অন্যান্য অংশীদারদের থেকে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দেয় না। ওআরএফ-এর উন্নিকৃষ্ণান যেমন উল্লেখ করেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাণিজ্য চুক্তি করা এবং রাশিয়ার সাথে একটি কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।”</p>
<p>বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রেমলিনের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাসের জোর রয়েছে।</p>
<p>বাজপেয়ী বলেন, “নয়াদিল্লি এবং মস্কোর মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পুতিন জানেন যে, মোদি সেখানে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে আছেন। তার দেশীয় ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং তিনি একটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন।”</p>
<p>তবুও, এই সংবেদনশীল ভারসাম্যটি ওয়াশিংটনের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে থাকবে, বিশেষ করে পুতিনের নয়াদিল্লি সফরের সময় যখন প্রধান প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।</p>
<p>উন্নিকৃষ্ণান বলেন, “ভারতকে সেই পরিমাণে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে যেহেতু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি। আপনি এমন একটি কঠিন পর্যায়ে আর কোনো বিরক্তিকর বিষয় যোগ করতে চাইবেন না, যা আজ বিদ্যমান।”</p>
<p><strong>সূত্র:</strong> সিএনএন</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Oct 2025 13:49:27 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[গাজা]]></category>
		<category><![CDATA[ট্রাম্প]]></category>
		<category><![CDATA[নেতানিয়াহু]]></category>
		<category><![CDATA[ফিলিস্তিন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=7745</guid>

					<description><![CDATA[যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইসরায়েলের গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি ২০-দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ আগেই হোয়াইট হাউস এই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করে। মিডল ইস্ট আই এই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে: ১. গাজা হবে একটি মৌলবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল যা তার প্রতিবেশীদের জন্য [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইসরায়েলের গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি ২০-দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ আগেই হোয়াইট হাউস এই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করে।</strong></p>
<p><strong>মিডল ইস্ট আই এই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে:</strong></p>
<p><strong>১.</strong> গাজা হবে একটি মৌলবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল যা তার প্রতিবেশীদের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।</p>
<p><strong>২.</strong> গাজার জনগণের উপকারের জন্য গাজার পুনর্গঠন করা হবে, যারা যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।</p>
<p><strong>৩.</strong> যদি উভয় পক্ষ এই প্রস্তাবে সম্মত হয়, তাহলে অবিলম্বে যুদ্ধ শেষ হবে। ইসরায়েলি বাহিনী জিম্মিদের মুক্তির প্রস্তুতির জন্য সম্মত রেখায় প্রত্যাহার করবে। এই সময়ে, বিমান ও আর্টিলারি বোমাবর্ষণসহ সকল সামরিক অভিযান স্থগিত করা হবে এবং সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন করার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্র স্থিতিশীল থাকবে।</p>
<p><strong>৪.</strong> ইসরায়েলের এই চুক্তি জনসমক্ষে গ্রহণ করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সকল জিম্মি, জীবিত ও মৃত, ফিরিয়ে দেওয়া হবে।</p>
<p><strong>৫.</strong> সকল জিম্মি মুক্তি পাওয়ার পর, ইসরায়েল ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক ১,৭০০ গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে, যার মধ্যে ওই সময়ে আটক সকল নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহ মুক্তির বিনিময়ে, ইসরায়েল ১৫ জন মৃত গাজাবাসীর মৃতদেহ মুক্তি দেবে।</p>
<p><strong>৬.</strong> সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর, হামাসের যেসব সদস্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এবং তাদের অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হবে, তাদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। হামাসের যেসব সদস্য গাজা ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক, তাদের গন্তব্য দেশে নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।</p>
<p><strong>৭.</strong> এই চুক্তি গ্রহণ করার সাথে সাথে গাজা উপত্যকায় পূর্ণাঙ্গ সহায়তা পাঠানো হবে। সর্বনিম্নভাবে, ত্রাণ সামগ্রীর পরিমাণ ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫-এর মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যার মধ্যে অবকাঠামোর (পানি, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন) পুনর্বাসন, হাসপাতাল ও বেকারির পুনর্বাসন, এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর ও রাস্তা খোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রবেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।</p>
<p><strong>৮.</strong> গাজা উপত্যকায় ত্রাণ বিতরণ ও প্রবেশ দুই পক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই জাতিসংঘ ও তার সংস্থা, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা কোনো পক্ষের সাথে কোনোভাবে যুক্ত নয়। রাফা ক্রসিং উভয় দিকে খোলা ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫-এর চুক্তির অধীনে বাস্তবায়িত একই ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হবে।</p>
<p><strong>৯.</strong> গাজা একটি প্রযুক্তিগত, অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটির অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অধীনে পরিচালিত হবে, যা গাজার জনগণের জন্য দৈনন্দিন গণসেবা ও পৌরসভার কার্য পরিচালনার জন্য দায়ী থাকবে। এই কমিটি যোগ্য ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যা একটি নতুন আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী সংস্থা, &#8220;বোর্ড অফ পিস&#8221;-এর তত্ত্বাবধানে থাকবে। এই সংস্থার প্রধান ও চেয়ারম্যান হবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প, এবং অন্যান্য সদস্য ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নাম ঘোষণা করা হবে, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই সংস্থা গাজার পুনর্গঠনের জন্য কাঠামো তৈরি ও অর্থায়ন পরিচালনা করবে, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তার সংস্কার কর্মসূচি সম্পন্ন করে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০২০ সালের শান্তি পরিকল্পনা এবং সৌদি-ফরাসি প্রস্তাবসহ বিভিন্ন প্রস্তাবেoutlined করা হয়েছে, এবং নিরাপদে ও কার্যকরভাবে গাজার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে পারে। এই সংস্থা গাজার মানুষের সেবা করার জন্য এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য আধুনিক ও দক্ষ শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে সেরা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করবে।</p>
<p><strong>১০.</strong> মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সমৃদ্ধ আধুনিক অলৌকিক শহর গঠনে সাহায্যকারী বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল একত্রিত করে গাজার পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য একটি ট্রাম্প অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। বহু চিন্তাশীল বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং উত্তেজনাপূর্ণ উন্নয়নের ধারণা সুউদ্দেশ্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর দ্বারা তৈরি করা হয়েছে, এবং এগুলো বিবেচনা করে নিরাপত্তা ও শাসন কাঠামোকে সমন্বিত করা হবে যাতে এই বিনিয়োগগুলো আকৃষ্ট করা ও সহজ করা যায়, যা ভবিষ্যতের গাজায় চাকরি, সুযোগ এবং আশা তৈরি করবে।</p>
<p><strong>১১.</strong> একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক ও প্রবেশের হার নির্ধারণ করা হবে।</p>
<p><strong>১২.</strong> কাউকে গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে না, এবং যারা যেতে ইচ্ছুক তারা স্বাধীনভাবে তা করতে পারবে এবং ফিরে আসার স্বাধীনতাও পাবে। আমরা মানুষকে থেকে যেতে উৎসাহিত করব এবং তাদের একটি উন্নত গাজা গড়ার সুযোগ দেব।</p>
<p><strong>১৩.</strong> হামাস এবং অন্যান্য দল প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ বা কোনোভাবেই গাজার শাসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না। সমস্ত সামরিক, সন্ত্রাসী এবং আক্রমণাত্মক অবকাঠামো, যার মধ্যে সুড়ঙ্গ এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত, ধ্বংস করা হবে এবং পুনরায় তৈরি করা হবে না। স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে গাজার নিরস্ত্রীকরণের একটি প্রক্রিয়া থাকবে, যার মধ্যে অস্ত্র একটি সম্মত নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অব্যবহারযোগ্য করা হবে এবং একটি আন্তর্জাতিকভাবে অর্থায়িত পুনঃক্রয় ও পুনর্মিলন কর্মসূচির মাধ্যমে সমর্থন করা হবে, যা সকল স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের দ্বারা যাচাই করা হবে। নতুন গাজা একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং তার প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।</p>
<p><strong>১৪.</strong> আঞ্চলিক অংশীদাররা নিশ্চিত করবে যে হামাস এবং অন্যান্য দল তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলবে এবং নতুন গাজা তার প্রতিবেশী বা তার জনগণের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।</p>
<p><strong>১৫.</strong> যুক্তরাষ্ট্র আরব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ করে গাজায় অবিলম্বে মোতায়েনের জন্য একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (International Stabilization Force &#8211; ISF) তৈরি করবে। ISF গাজার যাচাইকৃত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে এবং জর্ডান ও মিশরের সাথে পরামর্শ করবে যাদের এই ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বাহিনী হবে দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমাধান। ISF ইসরায়েল এবং মিশরের সাথে সীমান্ত অঞ্চল সুরক্ষিত করতে সাহায্য করবে, নতুন প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সাথে। গাজায় অস্ত্রশস্ত্র প্রবেশ রোধ করা এবং গাজার পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবনের জন্য পণ্যসামগ্রীর দ্রুত ও নিরাপদ প্রবাহ সহজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সংঘর্ষ নিরসন ব্যবস্থা সম্মত হবে।</p>
<p><strong>১৬.</strong> ইসরায়েল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না। ISF যখন নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে, তখন [ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী] এমন মানদণ্ড, মাইলফলক এবং সময়সীমার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করবে যা নিরস্ত্রীকরণের সাথে যুক্ত এবং যা [ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী], ISF, জামিনদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্মত হবে, যার উদ্দেশ্য হবে একটি নিরাপদ গাজা যা ইসরায়েল, মিশর বা তার নাগরিকদের জন্য আর কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না। কার্যত, [ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী] দখলকৃত গাজার অঞ্চল ধীরে ধীরে ISF-এর কাছে হস্তান্তর করবে একটি চুক্তি অনুযায়ী যা তারা অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের সাথে করবে, যতক্ষণ না তারা গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে, একটি নিরাপত্তা পরিধি উপস্থিতি ব্যতীত যা যেকোনো পুনরায় সন্ত্রাসী হুমকি থেকে গাজাকে সঠিকভাবে সুরক্ষিত না করা পর্যন্ত থাকবে।</p>
<p><strong>১৭.</strong> হামাস এই প্রস্তাবে বিলম্ব বা প্রত্যাখ্যান করলে, উপরের বিষয়গুলো, যার মধ্যে বর্ধিত ত্রাণ অভিযানও অন্তর্ভুক্ত, [ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী] থেকে ISF-এর হাতে তুলে দেওয়া সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলগুলোতে অগ্রসর হবে।</p>
<p><strong>১৮.</strong> ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মানসিকতা এবং আখ্যান পরিবর্তন করার জন্য সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে একটি আন্তঃধর্মীয় সংলাপ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হবে, যা শান্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধাগুলোকে তুলে ধরবে।</p>
<p><strong>১৯.</strong> গাজার পুনর্গঠন অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে এবং যখন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচি বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন হবে, তখন ফিলিস্তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রত্বের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরির শর্ত অবশেষে তৈরি হতে পারে, যাকে আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দিই।</p>
<p><strong>২০.</strong> যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সহাবস্থানের জন্য একটি রাজনৈতিক দিগন্তের বিষয়ে একমত হওয়ার জন্য ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি সংলাপ স্থাপন করবে।</p>
<p>বিটি/ আরকে</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পৃথিবীর ৮ম সর্বোচ্চ চূড়া জয় করে ইতিহাসে বাংলাদেশি পর্বতারোহী</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a7%ae%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%9a%e0%a7%82%e0%a6%a1%e0%a6%bc/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 25 Sep 2025 05:41:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[তমাল]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশি পর্বতারোহী]]></category>
		<category><![CDATA[মানাসুল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=7647</guid>

					<description><![CDATA[পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মানাসলু (৮,১৬৩ মিটার) জয় করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী তৌফিক আহমেদ তমাল। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ৩ টায় নেপালের স্থানীয় সময় তিনি বিশ্বের প্রাণঘাতী পর্বতগুলোর একটি মানাসলুর শীর্ষে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু থেকে যাত্রা শুরু করে কঠিন আবহাওয়া, তীব্র শীত আর বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এই গৌরব [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মানাসলু (৮,১৬৩ মিটার) জয় করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী তৌফিক আহমেদ তমাল। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ৩ টায় নেপালের স্থানীয় সময় তিনি বিশ্বের প্রাণঘাতী পর্বতগুলোর একটি মানাসলুর শীর্ষে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন।</strong></p>
<p>গত ১ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু থেকে যাত্রা শুরু করে কঠিন আবহাওয়া, তীব্র শীত আর বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। অভিযান পরিচালনা করে নেপালের খ্যাতনামা পর্বতারোহণ সংস্থা ‘সেভেন সামিটস’। বর্তমানে তিনি নিরাপদে ক্যাম্প–৪-এর পথে নেমে আসছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযানের বাংলাদেশ সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আল মুহিত।</p>
<p>মুহিত বলেন, “তমালের এই সাফল্য কেবল তার একার নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের অর্জন। তার একাগ্রতা, সাহস ও দীর্ঘ প্রস্তুতি আজ সার্থক হয়েছে। আমরা গর্বিত এবং তার নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি।”</p>
<p>তৌফিক আহমেদ তমাল গত ১৪ বছর ধরে দেশ-বিদেশে নিয়মিত ট্রেকিং ও উচ্চ পর্বতারোহণের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ভারতের নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এর আগে তিনি ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মিটার উচ্চতার সাতটি এবং ৬৫০০ মিটারের দুটি পর্বত জয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শীতকালীন অভিযানে থার্পু চুল্লি জয়, ভাগীরথী–২ (৬৫১২ মিটার) জয় এবং গত বছর বিশ্বের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ মাউন্ট আমা দাবলাম (৬৮১৪ মিটার) আরোহণ।</p>
<p>মানাসলু তার প্রথম ‘আট-হাজারী’ শৃঙ্গ হলেও এর বিশেষত্ব হলো—এই অভিযানে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা করপোরেট অর্থায়ন নেননি। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই কঠিন শৃঙ্গ জয় করে তিনি বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।</p>
<p>রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই অভিযানের আগে বাংলাদেশি প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার তাকে জাতীয় পতাকা তুলে দেন। আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে পর্বতারোহণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।</p>
<p>উল্লেখ্য, মানাসলু পশ্চিম-মধ্য নেপালের মানসিরি হিমালে অবস্থিত। সংস্কৃত শব্দ ‘মনসা’ থেকে নামটির উৎপত্তি, যার অর্থ ‘বুদ্ধি’ বা ‘আত্মা’। তাই মানাসলু মানে দাঁড়ায় ‘আত্মার পর্বত’। ১৯৫৬ সালে জাপানি পর্বতারোহী তোশিও ইমানিশি এবং গ্যালজেন নরবু প্রথম এই পর্বতের চূড়ায় পৌঁছান। উচ্চতায় এটি অষ্টম হলেও, বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী পর্বতগুলোর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।</p>
<p>বিটি/ আরকে</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রোহিঙ্গা থেকে গাজা: গণহত্যা প্রতিরোধ ও অপরাধীদের শাস্তিদানে আদালতের নিষ্ক্রিয়তা</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%b9%e0%a6%a4%e0%a7%8d/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 21 Sep 2025 06:19:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[আইসিজে]]></category>
		<category><![CDATA[গণহত্যা]]></category>
		<category><![CDATA[গাজা]]></category>
		<category><![CDATA[রোহিঙ্গা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=7568</guid>

					<description><![CDATA[আজ থেকে আট বছর আগে, ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু করে। এই নৃশংস অভিযানে ২০১৭ সালের শরতে ৭৪০,০০০-এর বেশি রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয় এবং &#8220;মুসলিম সন্ত্রাসী&#8221; দমনের নামে ৩০০ গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন বেসামরিক সরকার প্রধান অং সান সু চি এই জাতিগত নিধনকে প্রকাশ্যে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আজ থেকে আট বছর আগে, ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু করে। এই নৃশংস অভিযানে ২০১৭ সালের শরতে ৭৪০,০০০-এর বেশি রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয় এবং &#8220;মুসলিম সন্ত্রাসী&#8221; দমনের নামে ৩০০ গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।</strong></p>
<p>তৎকালীন বেসামরিক সরকার প্রধান অং সান সু চি এই জাতিগত নিধনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর পক্ষে সাফাই গান। সেই সময়, আমরা দুজনই বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও উচ্ছেদের ভয়াবহ গল্প শুনি। আজও রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের গণহত্যা চলমান। তাদের কোনো অধিকার বা সুরক্ষা নেই, এবং স্বদেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনাও নেই, যা ফিলিস্তিনিদের বর্তমান অবস্থার সাথে তুলনীয়।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা</strong><br />
আট বছর পর একটি বিষয় পরিষ্কার: আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং এর প্রধান বিচারিক অঙ্গ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বারবার অপরাধী রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলস্বরূপ মিয়ানমারে অপরাধের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অন্যান্য সমসাময়িক গণহত্যার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যেমন, গাজায় ইসরায়েলের তথাকথিত &#8220;শহুরে যুদ্ধ&#8221;-এ নিহতদের ৮৩ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক, যা একটি ফাঁস হওয়া ইসরায়েলি সামরিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।</p>
<p>মিয়ানমারের মতো ইসরায়েলও বর্তমানে আইসিজে-তে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আইসিজে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ণয় করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থাকা ৬০০,০০০ রোহিঙ্গাকে সুরক্ষিত গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সহিংসতা বন্ধের নির্দেশ দেয়।</p>
<p>তবে, এর পর থেকে মিয়ানমারে দায়মুক্তির মাত্রা কেবল বেড়েছে। জাতিসংঘ-এর এই প্রধান বিচারিক অঙ্গ নতুন করে গণহত্যা বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আইসিজে-এর আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা অনেক দ্রুত গতিতে চলছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যুদ্ধাপরাধ করছে। এর মধ্যে আরাকান আর্মি নামের একটি জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ মিলিশিয়াও রয়েছে, যারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। এই অপরাধগুলোর পেছনে রয়েছে ইসলামবিরোধী বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ।</p>
<p><strong>&#8216;ধীরগতির গণহত্যা&#8217;</strong><br />
২০১৪ সালের একটি গবেষণায় আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম। ধীরগতির গণহত্যা বলতে বোঝানো হয় রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আইন এবং সহিংসতা উভয়কেই গণহত্যামূলক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সমাজের ব্যাপক সমর্থনও এই প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। মিয়ানমারের ক্ষেত্রে, সাধারণ মানুষ সামরিক বাহিনীর ইসলাম-বিদ্বেষী আদর্শের সাথে একাত্মতা পোষণ করে।</p>
<p>অং সান সু চি ২০২০ সালে আইসিজে-তে গিয়ে যখন তার দেশের পক্ষে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তখন তিনি কেবল নিজের নৈতিক অবস্থানই হারাননি, বরং মিয়ানমার সমাজের একটি বড় অংশকে তাদের অপরাধের দায় স্বীকার করা থেকেও দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। আরাকান আর্মির সাম্প্রতিক অপরাধের পর ৬০০ রোহিঙ্গার গণকবর আবিষ্কৃত হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নীরবতা খুবই উদ্বেগজনক। তাদের কাছে আরাকান আর্মির সাথে জোট গঠন রোহিঙ্গাদের চলমান হত্যা, দমন ও নির্বাসন থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলমান গণহত্যার মুখে এই নীরবতা আসলে নীরব সম্মতি।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয়তা</strong><br />
সু চির পতন থেকে মিয়ানমারের জনগণ শিক্ষা নেয়নি। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি কারাবন্দী, এবং তার এই অস্বীকার তাকে বিশ্বের সমর্থন থেকে বঞ্চিত করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।</p>
<p>মিয়ানমারের বাইরেও, ব্যক্তি নেতারা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার কোনো বাধা ছাড়াই প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা মানব ইতিহাসের এক গভীর সংকটময় সময়ে প্রবেশ করেছি, যখন পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো, যারা হলোকাস্ট-পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করেছিল, তারাই মানবাধিকার বা গণহত্যা প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।</p>
<p>এর একটি উদাহরণ হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন করছে এবং ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। একই সময়ে, যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা এবং ইহুদি আধিপত্যবাদী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নাগরিকদের দমনের জন্য সন্ত্রাস-বিরোধী আইন ব্যবহার করছে।</p>
<p><strong>লেখক:</strong><br />
<strong>ন্যাটালি ব্রিনহ্যাম- &#8221;</strong>নাগরিকত্ব ও গণহত্যা কার্ড: পরিচয়পত্র, রাষ্ট্রহীনতা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ&#8221; বইয়ের লেখক।</p>
<p><strong>মাউং জার্নি-</strong> www.forsea.co-এর একজন বার্মিজ সহ-প্রতিষ্ঠাতা, রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমারের গণহত্যা (২০১৮) -এর সহ-লেখক এবং কম্বোডিয়ার জেনোসাইড ডকুমেন্টেশন সেন্টারের সহযোগী।</p>
<p><strong>সূত্র:</strong> টিআরটি ওয়ার্ল্ড</p>
<p><strong>ভাষান্তর:</strong> রেজাউল করিম</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মৃত্যু থেকে আরও মৃত্যুর দিকে ছুটছে মানুষ</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a6/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 18 Sep 2025 12:37:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরায়েল]]></category>
		<category><![CDATA[গাজা]]></category>
		<category><![CDATA[ফিলিস্তিন]]></category>
		<category><![CDATA[মিশর]]></category>
		<category><![CDATA[রাফা ক্রসিং]]></category>
		<category><![CDATA[হামাস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=7513</guid>

					<description><![CDATA[একটি হলোকাস্ট থেকে বেঁচে থাকাটা কোনো একটি মাত্র সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না। এটি হলো প্রতিদিনের অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি—যেসব সিদ্ধান্তের উপর জীবন-মৃত্যু নির্ভর করে। আপনি কি থাকবেন নাকি চলে যাবেন? বর্তমানে, ইসরায়েলের গাজা সিটিতে আগ্রাসনের ফলে দশ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন। তাদের সামনে এই দুঃসহ, যন্ত্রণাদায়ক সিদ্ধান্তটি প্রতিদিন নতুন করে এসে দাঁড়াচ্ছে। গত [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>একটি হলোকাস্ট থেকে বেঁচে থাকাটা কোনো একটি মাত্র সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না। এটি হলো প্রতিদিনের অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি—যেসব সিদ্ধান্তের উপর জীবন-মৃত্যু নির্ভর করে।</strong></p>
<p>আপনি কি থাকবেন নাকি চলে যাবেন?</p>
<p>বর্তমানে, ইসরায়েলের গাজা সিটিতে আগ্রাসনের ফলে দশ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন। তাদের সামনে এই দুঃসহ, যন্ত্রণাদায়ক সিদ্ধান্তটি প্রতিদিন নতুন করে এসে দাঁড়াচ্ছে।</p>
<p>গত রোববার, মিডল ইস্ট আইয়ের সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-হাজ্জার তার স্ত্রী ইনাস এবং দুই সন্তানকে নিয়ে চার ঘণ্টা ধরে সূর্যের তীব্র তাপের মধ্যে হেঁটেছিলেন। গাজা সিটির আল রশিদ স্ট্রিট থেকে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, একসময়ের ব্যস্ত এই রাস্তাটি এখন যেন এক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে যাওয়া একটি ধুলো মাটির রাস্তা।</p>
<p>রাস্তাটি ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে রাখা আরবি ভাষায় লেখা লিফলেটে ভরা, যেখানে গাজা সিটির বাসিন্দাদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ইসরায়েলিদের দেওয়া পথে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোহম্মদ আল-হাজ্জারের এক শিশু একটি স্কুলব্যাগ হাতে আর অন্যজন কালো পোশাক পরে অজানা এক গন্তব্যের দিকে হেঁটে চলেছে।<img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-7515" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaa-300x200.jpeg" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaa-300x200.jpeg 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaa-1024x682.jpeg 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaa-768x512.jpeg 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaa.jpeg 1100w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /><strong style="font-size: 14px;"><span style="font-size: 16px;">বেঁচে থাকার জন্য এক মরিয়া লড়াই<br />
</span></strong>গত দুই বছর ধরে মোহাম্মদ তার পরিবারকে গাজার এই ব্যাপক ধ্বংসলীলার মধ্যে দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বেঁচে থাকার প্রতিটি চেষ্টাই নতুন নতুন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।</p>
<p>গত বছর মোহাম্মদ এবং ইনাস তাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষার জন্য গাজা ছেড়ে মিশরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইসরায়েল তখন গাজার সব স্কুল বোমা মেরে ধ্বংস করে দিয়েছিল, যার ফলে সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল।</p>
<p>কিন্তু উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী নেৎজারিম করিডোরে অবস্থিত একটি ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে ইনাসকে গ্রেফতার করা হয়। সৈন্যরা তার সঞ্চয়, পাসপোর্ট, ফোন, ক্রেডিট কার্ড—এমনকি পরিবারের সোনা পর্যন্ত লুট করে নেয়।</p>
<p>দুই দিন পর ইনাসকে মুক্তি দিয়ে আবার উত্তরে ফেরত পাঠানো হয়। তার স্বামী ও সন্তানদের তাকে ছাড়াই সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তারা যখন গন্তব্যে পৌঁছালেন, ততক্ষণে মিশরে যাওয়ার রাফাহ ক্রসিং স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।</p>
<p>মোহাম্মদ ও তার সন্তানরা দক্ষিণে আটকা পড়লেন, আর ইনাস রয়ে গেলেন উত্তরে। জানুয়ারিতে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন মোহাম্মদ তার সন্তানদের নিয়ে আরও হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে পায়ে হেঁটে উত্তরে ফিরে আসেন। ৭৫ দিনের বিচ্ছেদের পর অবশেষে পরিবারটি আবার একত্রিত হয়।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7516" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza-300x169.webp" alt="" width="800" height="450" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza-300x169.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza-1024x576.webp 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza-768x432.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza-600x337.webp 600w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza.webp 1400w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>কিন্তু গত রোববার তিনি এবং তার পরিবার আবারও পথে নামতে বাধ্য হন। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি আমাকে বলেন, &#8220;গত রাতটা ছিল ভয়াবহ। ভোরের দিকে তারা আমাদের ওপর তিনটি বিস্ফোরক রোবট এবং ২০-৩০টি বোমা ফেলেছিল। আমাদের বাড়ি এবং প্রতিবেশীর বাড়ির উপরে একটি কোয়াডকপ্টার ঘোরাফেরা করছিল। এটা ছিল একটা নরকীয় রাত, আমরা ঘুমাতে বা কিছু করতে পারছিলাম না। আমরা আমাদের বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটাই শেষ।&#8221;</p>
<p>গত রাতে হামিদ স্ট্রিটে তাদের পাশের বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী শেল নিক্ষেপ করেছিল। নিজেদের বাড়ি, জিনিসপত্র এবং স্মৃতি পেছনে ফেলে মোহাম্মদ, ইনাস এবং তাদের সন্তানরা এক রাত রাস্তায় ঘুমিয়ে কাটান। এরপর তারা যা কিছু সাথে নিতে পারছিল, তা নিয়ে দক্ষিণে হাঁটা শুরু করে।</p>
<p>মোহাম্মদ বলেন, &#8220;আমরা আজ সকাল থেকে হাঁটছি। এই যাত্রা আমাদের জীবনের দ্বিতীয়-সবচেয়ে খারাপ দিন। প্রথম যাত্রায় তারা আমার স্ত্রীকে আটক করেছিল, আমাদের লুট করেছিল এবং আমাদের আলাদা করে দিয়েছিল। এখন আমরা আবার সেই একই যাত্রায় আছি। আমরা আমাদের বাড়ি এবং গাজাকে বিদায় জানিয়ে অজানার দিকে যাত্রা করছি।&#8221;<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7517" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza1-300x300.webp" alt="" width="800" height="800" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza1-300x300.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza1-1024x1024.webp 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza1-150x150.webp 150w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza1-768x768.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/gaza1.webp 1200w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>জীবনের সমস্ত আশা ধ্বংস হয়ে গেছে</strong><br />
ফিলিস্তিনিদের সামনে এখন একটি অসম্ভব পছন্দ: এমন আশ্রয়শিবিরের দিকে পালিয়ে যাওয়া যেখানে ক্ষুধা ও স্নাইপারের গুলি অপেক্ষা করছে, অথবা গাজা সিটিতে থেকে যাওয়া যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের বেঁচে থাকার প্রতিটি উপায় ধ্বংস করে দিচ্ছে।</p>
<p>ঠিক কতজন পথে নেমেছেন আর কতজন নিজেদের বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।</p>
<p>এমাদ সারসাবি নামে গাজার একজন বাসিন্দা মিডল ইস্ট আইকে জানান, তিনি তার বাড়িতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, &#8220;কয়েক মাস ধরে আমি বলতাম যে, আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিজের বাড়িতে মরতেও রাজি আছি, কিন্তু আবার বাস্তুচ্যুত হতে চাই না। কিন্তু এখন যা ঘটছে, তা কেবল মৃত্যুর চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর।&#8221;</p>
<p>এর আগের দিন, তার প্রতিবেশীর ছাদে থাকা সোলার প্যানেলগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা দিয়ে তারা পানি পাম্প করতেন এবং ডিভাইসগুলো চার্জ দিতেন।</p>
<p>সারসাবি বলেন, &#8220;বোমা পড়লে আমরা সবাই একসঙ্গে মারা যেতাম। কিন্তু এভাবে আমরা পানযোগ্য বা এমনকি অপানযোগ্য পানিও খুঁজে পাচ্ছি না, এবং আমরা ধীরে ধীরে তৃষ্ণায় মারা যাব।&#8221;</p>
<p>গাজা সিটিতে মিডল ইস্ট আইয়ের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, যারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরোধিতা করছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে জোর করে বের করে দিচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আক্রমণগুলো গুরুত্বপূর্ণ জীবনধারণের উৎসগুলোর উপর কেন্দ্রীভূত করছে, যেমন হাজার হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া উঁচু ভবন ও স্কুল, পানির ট্যাংক, ছাদের সোলার প্যানেল, ইন্টারনেট সংযোগ এবং মোবাইল চার্জিং স্টেশন।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7518" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/Gaza3-300x136.jpg" alt="" width="800" height="362" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/Gaza3-300x136.jpg 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/Gaza3-1024x464.jpg 1024w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/Gaza3-768x348.jpg 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/Gaza3.jpg 1170w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>কোনো নিরাপদ জায়গা নেই</strong><br />
যারা দক্ষিণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য বিপদ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।</p>
<p>মোহাম্মদ এবং তার পরিবার যেদিকে যাচ্ছেন, সেটা হলো একটি ক্যাম্পের জীবন। সেখানে খাবার খোঁজা মানে প্রতিদিন স্নাইপারের গুলির মুখে পড়া।</p>
<p>বেনি নামের নাহাল ব্রিগেডের একজন ইসরায়েলি স্নাইপার ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজকে জানিয়েছেন, তিনি এত বেশি সংখ্যক শিশু হত্যা করেছেন যে, তিনি তাদের সংখ্যা গণনা করতে পারেন না। তিনি বলেন, &#8220;আমি প্রতিদিন ৫০-৬০টি গুলি চালাই, গণনা করা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি জানি না আমি কতজনকে মেরেছি, অনেক। শিশু।&#8221;</p>
<p>প্রতিদিন বেনিকে একই কাজ দেওয়া হয়, &#8220;গাজার উত্তরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।&#8221;</p>
<p>তার দিন শুরু হয় ভোর সাড়ে ৩টায়। তিনি ড্রোন এবং সাঁজোয়া যানের আড়ালে একটি স্নাইপার অবস্থান তৈরি করেন এবং অপেক্ষা করেন।</p>
<p>সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সাহায্যবাহী ট্রাকগুলো এসে তাদের জিনিসপত্র নামানো শুরু করে। তখন শত শত ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি লাইনে জায়গা করে নেওয়ার জন্য সামনে এগিয়ে আসে। তারা জানে না, তাদের সামনে একটি অদৃশ্য লাইন আছে।</p>
<p>বেনি বলেন, &#8220;একটি লাইন, যা তারা অতিক্রম করলে আমি তাদের গুলি করতে পারি।&#8221;</p>
<p>তিনি বলেন, &#8220;এটা অনেকটা বিড়াল-ইঁদুরের খেলার মতো। তারা প্রতিবার ভিন্ন রাস্তা দিয়ে আসার চেষ্টা করে, আর আমি স্নাইপার রাইফেল নিয়ে সেখানে থাকি, এবং কর্মকর্তারা আমাকে চিৎকার করে বলেন, ‘একে নামিয়ে দাও, ওকে নামিয়ে দাও’।&#8221;</p>
<p>দক্ষিণের এই পরিস্থিতিই গাজা সিটির হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধা দিচ্ছে।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-6030" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/Gaza-1-300x200.jpg" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/Gaza-1-300x200.jpg 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/Gaza-1-768x512.jpg 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/Gaza-1.jpg 900w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>‘আমার হারানোর কিছু নেই’</strong><br />
গাজা সিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে একটি তীব্র বিতর্ক চলছে—বাড়িতে থেকে মরে যাওয়া নাকি রাস্তায় মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া।</p>
<p>একজন ফিলিস্তিনি বলেন, &#8220;গত বছর দক্ষিণে গিয়ে যে ভুল করেছিলাম, এবার আর সেই ভুল করব না। শুধু নিরাপদ জায়গাই নেই, বরং আমি গাজা সিটিতে আমার বাড়িতে মরতে পছন্দ করি। আমার হারানোর কিছু নেই।&#8221;</p>
<p>ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গাজা সিটি দখলের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, আর এর ফলস্বরূপ হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।</p>
<p>গাজার সিভিল ডিফেন্স রেসকিউ অ্যান্ড সাপোর্ট এজেন্সি জানিয়েছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং বেসামরিকদের ওপর রাতের হামলার ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৭০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।</p>
<p>তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা অনেক বেশি দাবি করছে, তাদের মতে, ৩,০০,০০০ মানুষ পালিয়ে গেছে, যার মধ্যে মাত্র এক রাতেই ২০,০০০ জন। এই তথ্যের পার্থক্য রাজনৈতিক। গাজা সিটি যত বেশি খালি বলে দেখানো হবে, ইসরায়েলি সৈন্যরা তত বেশি অবাধে সেখানে থাকা যে কাউকে হত্যা করতে পারবে বলে মনে করবে।</p>
<p>কয়েক রাত রাস্তায় কাটানোর পর মোহাম্মদ এবং তার পরিবার অবশেষে দির আল-বালাহর উত্তরে অবস্থিত নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-6661" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/gaza3-300x240.avif" alt="" width="800" height="640" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/gaza3-300x240.avif 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/07/gaza3.avif 620w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>দিনের প্রখর তাপে ১২ কিলোমিটার হাঁটার পর তাদের শরীর ছিল ক্লান্ত এবং কাঁধ ভেঙে যাচ্ছিল, কারণ তারা তাদের বাড়ি থেকে যা কিছু বাঁচাতে পেরেছিল, তা বহন করছিল।</p>
<p>তাদের চারপাশে তখনও বোমা পড়ছিল।</p>
<p>মোহাম্মদ বলেন, &#8220;এটা আমার জীবনের সেরা সময় হওয়ার কথা ছিল, যখন আমি আমার সন্তানদের বেড়ে উঠতে দেখতে পারতাম এবং তাদের কিছু একটা হতে দেখতে পারতাম। তার পরিবর্তে, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, এবং আমি জানি না আমি তাদের বড় হতে দেখতে পাব কিনা।&#8221;</p>
<p><strong>সূত্র:</strong> মিডলইস্টআই</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মোটিভেশন লেটার লেখার জন্য যা যা জানতে হবে</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 14 Sep 2025 09:54:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[মোটিভেশন লেটার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=7412</guid>

					<description><![CDATA[বিদেশে বৃত্তি পাওয়ার জন্য অন্যান্য শর্তের মতো মোটিভেশন লেটার লেখাও অপরিহার্য। অসংখ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি আপনাকে আলাদা করে তুলতে সক্ষম। মোটিভেশন লেটার যেমন আপনার প্রাথমিক পরিচয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে, তেমনি আপনার লক্ষ্য পূরণেও অবদান রাখবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়ায় মোটিভেশন লেটার দরকার হয় না। তবে কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে মোটিভেশন লেটার উল্লেখ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বিদেশে বৃত্তি পাওয়ার জন্য অন্যান্য শর্তের মতো মোটিভেশন লেটার লেখাও অপরিহার্য। অসংখ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি আপনাকে আলাদা করে তুলতে সক্ষম। মোটিভেশন লেটার যেমন আপনার প্রাথমিক পরিচয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে, তেমনি আপনার লক্ষ্য পূরণেও অবদান রাখবে।</strong></p>
<p>সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়ায় মোটিভেশন লেটার দরকার হয় না। তবে কোনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শর্তের মধ্যে মোটিভেশন লেটার উল্লেখ থাকলে, এটি মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের আগে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এজন্য মোটিভেশন লেটার সম্পর্কে আমাদের ধারণা রাখতে হবে।</p>
<p>প্রথমে এটির কাঠামো ও বিষয়বস্তু দেখে কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। আপনার অনন্য গুণাবলী উপস্থাপন ও সুযোগ ব্যবহার করার উপায় জানা থাকলে মোটিভেশন লেটার লিখতে বেশ সুবিধা হয়। মোটিভেশন লেটার শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হিসেবে নয় বরং শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র হিসেবেও কাজ করে।</p>
<p>লেখার উপায় জানার আগে এটির গুরুত্ব বোঝা জরুরি। লেটারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে পারে। উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পেছনে লক্ষ্য, আগ্রহ, চালিকা শক্তি কী লেখায় তুলে ধরতে হবে। আপনি কেন স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত এবং আপনাকে কেন নির্বাচন করা উচিত তা জানাতে হবে।</p>
<p>আপনি যে একজন আদর্শ প্রার্থী তা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কৌশলগত উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।</p>
<p><strong>মোটিভেশন লেটার লেখার জন্য যা যা জানতে হবে</strong><br />
ভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট যেমন মোটিভেশন লেটার অন্যান্য নথি থেকে ভিন্ন ধাঁচের। এটি লিখতেও হয় ভিন্নভাবে। পড়ালেখার তহবিল নিশ্চিত করতে এটি ভালো করে গুছিয়ে নিতে হবে।</p>
<p><strong>ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা</strong><br />
স্কলারশিপের জন্য মোটিভেশন লেখার ক্ষেত্রে কপি করা যাবে না। তার চেয়ে নিজের মতো সুন্দরভাবে লিখতে পারলে লাভ হবে। সততা উপস্থাপিত হলে আবেদন প্রত্যাখান নাও হতে পারে।</p>
<p><strong>সুস্পষ্টভাবে লেখা</strong><br />
এটি এমনভাবে লিখতে হবে যেন শ্রোতার সামনে বসে আপনি নিজের সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। পড়ালেখার জন্য নিজের উৎসাহ, স্কলারশিপ কীভাবে লক্ষ্য পূরণ করবে তা প্রদর্শন করতে হবে।</p>
<p><strong>স্কলারশিপের যথার্থতা লিখুন</strong><br />
সব আবেদনের জন্য একইরকম মোটিভেশন লেটার না লিখে ভিন্নভাবে তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করতে হবে। স্কলারশিপ প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট মান এবং উদ্দেশ্য আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেভাবে এগিয়ে দেবে তা লিখতে হবে।</p>
<p><strong>প্রাসঙ্গিকতা উপস্থাপন করুন</strong><br />
স্কলারশিপের সাথে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা, কৃতিত্ব এবং দক্ষতার উপর জোর দিন। আপনার সক্ষমতা, উপযুক্ততা নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে তুলে ধরতে হবে।</p>
<p><strong>ব্যক্তিগত গল্প লিখুন</strong><br />
যেসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেছেন সেগুলো লক্ষ্য পূরণে কীভাবে কাজে আসবে তা লিখতে হবে৷ একটি আকর্ষণীয় বর্ণনা দিয়ে লেটার লিখলে অন্যদের থেকে আপনাকে আলাদা করে তুলবে।</p>
<p><strong>স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হন</strong><br />
স্পষ্টভাবে, সংক্ষিপ্ত আকারে কী-পয়েন্ট দিয়ে মোটিভেশন লেটার লিখতে হবে। শব্দসীমা মেনে চলতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিবরণ এড়িয়ে যেতে হবে। বাক্যগুলো যেন আপনার যোগ্যতা এবং প্রেরণা প্রদর্শনে অবদান রাখে সেদিকে নজর রাখা উচিত।</p>
<p><strong>গবেষণা করুন</strong><br />
বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপনার জ্ঞান কতটুকু তা জানান দিন। আপনার আগ্রহের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম, অনুষদ বা উদ্যোগগুলো উল্লেখ করুন।</p>
<p><strong>একাডেমিক অর্জন তুলে ধরুন</strong><br />
আপনার একাডেমিক কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলুন। প্রাসঙ্গিক প্রকল্প, গবেষণা বা কোর্সওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা করুন যা অধ্যয়নের নির্বাচিত ক্ষেত্রে আবেগ ও দক্ষতা উল্লেখ করবে।</p>
<p><strong>দুর্বলতা ইতিবাচকভাবে দেখুন</strong><br />
আপনার একাডেমিক বা সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোতে ঘাটতি থাকলে স্পষ্টভাবে কৌশল অবলম্বন করে লিখুন। কোন চ্যালেঞ্জ থেকে আপনি কী শিখেছেন এবং কীভাবে আপনার সংকল্পকে সত্যিকারে রূপ দিয়েছে তা উপস্থাপন করুন।</p>
<p><strong>ভবিষ্যৎ লক্ষ্য প্রকাশ করুন</strong><br />
স্পষ্টভাবে আপনার ভবিষ্যত লক্ষ্যের রূপরেখা তুলে ধরুন। লিখুন স্কলারশিপের মাধ্যমে তা অর্জনে অবদান রাখার আশা নিয়ে। এতে দূরদর্শিতা এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনা প্রদর্শন করবে, সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার জন্য আপনার আবেদনকে শক্তিশালী করবে।</p>
<p><strong>প্রুফরিড ও সম্পাদনা করুন</strong><br />
টাইপিং, ব্যাকরণগত ত্রুটি, অতিরিক্ত বাক্যাংশ বাদ দিন। একটি ভালো মোটিভেশন লেটার মনোযোগ ধরে রাখতে ভূমিকা রাখবে।</p>
<p><strong>মোটিভেশন লেটার লেখার কৌশল</strong><br />
কার্যকরভাবে এটি তৈরি করার জন্য স্বকীয়তা বজায় রাখতে হবে। এজন্য একটি সু-সংজ্ঞায়িত কাঠামো মেনে চলা প্রয়োজন। যার মধ্যে রয়েছে;</p>
<p><strong>ভূমিকা</strong><br />
লক্ষ্য এবং স্কলারশিপ চাওয়ার পেছনে আপনার উদ্দেশ্য কী তার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা দিয়ে শুরু করুন। একইরকম লেটার না লিখে আপনার আগ্রহ এমনভাবে লিখুন যাতে কমিটি তা পড়তে উৎসাহী হন।</p>
<p><strong>একাডেমিক এবং পেশাদার প্রোফাইল</strong><br />
আপনার একাডেমিক কৃতিত্ব এবং পেশাদার অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন। অর্জিত মাইলফলক উপস্থাপন করে নির্বাচিত ক্ষেত্রের প্রতি আপনার দক্ষতা চিত্রায়ন করুন।</p>
<p><strong>আর্থিক সাহায্যের যৌক্তিকতা</strong><br />
এবার প্রধান অংশে আসুন। আপনার আর্থিক সাহায্য চাওয়ার পেছনে কারণ বলুন। স্কলারশিপ কীভাবে আপনার প্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের জন্য রূপান্তরকারী হবে তার রূপরেখা দিন।</p>
<p><strong>ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা</strong><br />
আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য দিন। স্কলারশিপ সেই সাফল্যের জন্য কীভাবে উপকারে আসবে তা নিয়ে আলোচনায় আসুন।</p>
<p><strong>উপসংহার</strong><br />
আপনি কেন আর্থিক সাহায্যের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী তা পুনরাবৃত্তি করে মূল পয়েন্টগুলো সংক্ষিপ্ত করুন। স্কলারশিপ কীভাবে আপনার লক্ষ্যে কাজে আসবে এবং এটি কীভাবে ইতিবাচক প্রভাবকে সহজতর করতে পারে তার উপর জোর দিয়ে লেখা শেষ করুন।</p>
<p>সূত্র: এফই</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু অ্যাকশন কি হবে?</title>
		<link>https://businesstimes.com.bd/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%87%e0%a6%b8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[বিজনেস ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 13 Sep 2025 14:28:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শীর্ষখবর]]></category>
		<category><![CDATA[স্পটলাইট]]></category>
		<category><![CDATA[অ্যাকশন]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরায়েল]]></category>
		<category><![CDATA[উপসাগরীয় রাষ্ট্র]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://businesstimes.com.bd/?p=7403</guid>

					<description><![CDATA[কয়েক দশক ধরে, সমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো নিজেদেরকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে স্থিতিশীলতার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা গড়ে তুলেছে ঝকঝকে সব রাজধানী, যেখানে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির হাত ধরে লাখ লাখ বিদেশি কর্মী অর্থনৈতিক সুযোগ এবং করমুক্ত জীবনধারার আকর্ষণে ভিড় জমিয়েছে। কিন্তু এই বছর তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি ভেঙে গেছে, যখন প্রথমবারের মতো দুটি আঞ্চলিক শক্তি সরাসরি [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কয়েক দশক ধরে, সমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো নিজেদেরকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে স্থিতিশীলতার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা গড়ে তুলেছে ঝকঝকে সব রাজধানী, যেখানে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির হাত ধরে লাখ লাখ বিদেশি কর্মী অর্থনৈতিক সুযোগ এবং করমুক্ত জীবনধারার আকর্ষণে ভিড় জমিয়েছে।</strong></p>
<p>কিন্তু এই বছর তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি ভেঙে গেছে, যখন প্রথমবারের মতো দুটি আঞ্চলিক শক্তি সরাসরি একটি উপসাগরীয় দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রথমে জুন মাসে ইরান কাতারে একটি আমেরিকান বিমান ঘাঁটিতে হামলা করে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তার পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল। এরপর এই সপ্তাহে ইসরায়েল হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল দোহাতে অবস্থানরত হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।</p>
<p>গাজা যুদ্ধ, যা প্রায় দুই বছর আগে তাদের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে শুরু হয়েছিল, এখন তাদের ঘরের কাছাকাছি চলে আসায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো বিচলিত।</p>
<p>সামরিক পদক্ষেপের সীমিত বিকল্প থাকায় কাতার ইসরায়েলের এই হামলার বিরুদ্ধে একটি &#8220;যৌথ&#8221; আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি বুধবার সিএনএন-এর বেকি অ্যান্ডারসনকে বলেন, এই প্রতিক্রিয়া বর্তমানে অন্যান্য অংশীদারদের সাথে &#8220;পরামর্শ ও আলোচনার অধীনে&#8221; রয়েছে। দোহায় এই সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিতব্য আরব ও ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে একটি সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত।</p>
<p>সম্ভবত সবচেয়ে দৃশ্যমান এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এসেছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে। হামলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান একটি বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে দোহায় পৌঁছান। দোহা ছিল তার উপসাগরীয় সফরের প্রথম গন্তব্য, যার উদ্দেশ্য ছিল এই হামলার বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করা। তার এই সফর বাহরাইন এবং ওমানের উদ্দেশ্যেও প্রসারিত হয়। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের একজন কূটনীতিককে তলব করে এবং ইসরায়েলের &#8220;নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত&#8221; হামলার নিন্দা জানায়।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7405" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar-1-300x200.avif" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar-1-300x200.avif 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar-1-768x512.avif 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar-1.avif 860w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো এমন বিকল্প খুঁজবে যা আঞ্চলিক ঐক্য প্রদর্শন করে এবং ইসরায়েলের আরও হামলাকে প্রতিহত করতে পারে, তবে তাদের হাতে কার্যকর বিকল্প সীমিত।</p>
<p>কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক বাদর আল-সাইফ উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, &#8220;আমাদের এখন একটি অবস্থান নিতে হবে, কারণ যদি আমরা তা না করি, তবে পরবর্তী লক্ষ্য হবে অন্য কোনো উপসাগরীয় রাজধানী।&#8221;</p>
<p><strong>কূটনৈতিক বিকল্প</strong><br />
বিশ্লেষকদের মতে, একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করা, অথবা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে তাদের অংশগ্রহণ কমানো। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ইসরায়েল এবং তিনটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সাফল্য ছিল।</p>
<p>দোহায় হামলার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এই সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লানা নুসেইবেহ সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ সংযুক্ত করার পরিকল্পনা &#8220;রেড লাইন&#8221; এবং এটি &#8220;আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মূল চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।&#8221;<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7406" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar3-300x200.webp" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar3-300x200.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar3-768x512.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar3.webp 860w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোহা তার প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনসহ আইনি ক্ষেত্র ব্যবহার করবে। বৃহস্পতিবার তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি সর্বসম্মত বিবৃতি লাভে সফল হয়।</p>
<p>বাহরাইনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান বলেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এর আগে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় উল্লেখযোগ্যভাবে অংশ নেয়নি, এবং এই পরিস্থিতি এখন বদলাতে পারে।</p>
<p>তিনি বলেন, &#8220;উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বা আর্থিকভাবে এই ধরনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে সেই মামলাগুলোতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।&#8221;</p>
<p>বিশ্লেষকদের মতে, আরেকটি বিকল্প হলো কাতার যুক্তরাষ্ট্র এবং তার কিছু প্রতিপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে আসা।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7407" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar2-300x200.webp" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar2-300x200.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar2-768x512.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/qatar2.webp 860w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>ভ্রাতৃত্বপূর্ণ নিরাপত্তা</strong><br />
বছরের পর বছর ধরে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলেও, তারা কয়েক দশক আগে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে এখনো একত্রিত রয়েছে।</p>
<p>সৌদি ভিত্তিক উপসাগরীয় গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগের বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো &#8220;পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্স&#8221; সক্রিয় ও সম্প্রসারিত করতে পারে – যা তাদের রাষ্ট্রগুলোকে হামলা থেকে প্রতিহত করার জন্য ১৯৮০-এর দশকের একটি সামরিক চুক্তি।</p>
<p>আলহাসান বলেন, &#8220;এই শর্তগুলো এখন পর্যন্ত তাত্ত্বিক ছিল,&#8221; কিন্তু &#8220;এখন তারা একটি ঐক্যবদ্ধ উপসাগরীয় কমান্ড তৈরি করে, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বিত করে এবং আরও স্বাধীন স্থানীয় সক্ষমতা তৈরি করে সেগুলো সক্রিয় করতে পারে।&#8221;</p>
<p>সাতটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম নির্ভর এবং আমেরিকান ঘাঁটির আতিথ্য প্রদান করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার ধারণা এই আরব রাষ্ট্রগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাইতে প্ররোচিত করতে পারে।<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7396" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/trump_qatar-300x200.webp" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/trump_qatar-300x200.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/trump_qatar-768x512.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/trump_qatar.webp 860w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>সাগের বলেন, ইসরায়েলের এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের শর্তাবলী নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে &#8220;একটি গুরুতর ও সুসংগঠিত সংলাপে প্রবেশ করতে&#8221; বাধ্য করতে পারে, এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনা ছাড়িয়ে &#8220;আরও স্পষ্ট প্রতিরক্ষা গ্যারান্টির&#8221; দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্রের &#8220;প্রতিশ্রুতি অনুপস্থিত বা অস্পষ্ট মনে হয়,&#8221; তখন তার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।</p>
<p>তা সত্ত্বেও, আঞ্চলিক ঐকমত্য খোঁজার প্রচেষ্টা সীমিত হতে পারে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী অভ্যন্তরীণ স্বার্থের কারণে, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ করতে সতর্ক, কারণ এই প্রশাসন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক।</p>
<p>আলহাসান বলেন, &#8220;উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ইসরায়েল সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় তারা খুব একটা সুসজ্জিত নয়, কারণ তাদের জাতীয় নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভরশীল – যার একটি স্পষ্ট বিদেশি প্রতিরক্ষা নীতি রয়েছে যা ইসরায়েলকে সামরিক ক্ষেত্রে গুণগত শ্রেষ্ঠত্ব দেয়।&#8221;<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-7398" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/neta-300x200.webp" alt="" width="800" height="533" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/neta-300x200.webp 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/neta-768x512.webp 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/09/neta.webp 770w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p><strong>অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া</strong><br />
এ অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে বার্ষিক উপার্জিত ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব কৌশলগতভাবে বিশ্বব্যাপী সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়, যা আংশিকভাবে এই অঞ্চলের সফট পাওয়ারকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে।</p>
<p>কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে তাদের বিশাল সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ব্যবহার করতে পারে।</p>
<p>আলহাসান বলেন, &#8220;তারা তাদের তহবিল ব্যবহার করে ইসরায়েলি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।&#8221;<img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone wp-image-4647" src="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/05/trump-qatar-300x180.jpg" alt="" width="800" height="480" srcset="https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/05/trump-qatar-300x180.jpg 300w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/05/trump-qatar-768x461.jpg 768w, https://businesstimes.com.bd/wp-content/uploads/2025/05/trump-qatar.jpg 800w" sizes="auto, (max-width: 800px) 100vw, 800px" /></p>
<p>ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম বিদেশ সফরে এ অঞ্চলে এসেছিলেন, তখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।</p>
<p>আল-সাইফ বলেন, &#8220;পরবর্তী দশকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো যে ট্রিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে পাম্প করছে, তার ভিত্তি হলো একটি নিরাপদ উপসাগরীয় অঞ্চল, যা এই বিনিয়োগ থেকে লাভবান হতে পারে।&#8221;</p>
<p>&#8220;কিন্তু যদি আমরা অনিরাপদ বোধ করি, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের কারণে ঘটছে, তবে এই অর্থ অন্য কোথাও যেতে পারে, তা উপসাগরীয় অঞ্চলকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত করতে হোক বা তাদের বিনিয়োগে আরও ভালো লাভ পেতে হোক।&#8221;</p>
<p><strong>সূত্র:</strong> সিএনএন</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
