1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

খেলা না টাকা? ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পেছনে লুকানো সত্য

রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হলেও, টুর্নামেন্টের আয়োজক, স্পনসর এবং ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আসল উত্তেজনা শুরু হবে রোববার, যখন এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মুখোমুখি হবে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই একটি আকর্ষণীয় ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দুবাইয়ের এই ম্যাচটি অতিরিক্ত মাত্রা পেয়েছে।

মে মাসে দুই দেশের সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর এই প্রথমবারের মতো তারা একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ শেষবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ১৮ বছর আগে। আর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে সীমান্তের ওপার-এপার হওয়া বন্ধ আছে প্রায় ১৩ বছর ধরে।

কিন্তু ১৪ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি টুর্নামেন্টের ফলাফল আয়োজকদের ইচ্ছামতো হয়, তবে পাকিস্তান ও ভারত তিনবার একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে পারে।

দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধই তাদের ক্রীড়া সম্পর্ককে শীতল করে রেখেছে। তবে কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক ক্রিকেট ইভেন্ট এলে সেই বিরোধ সাময়িকভাবে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পর ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানের জন্ম হয়, যার ফলস্বরূপ উপমহাদেশে এক রক্তক্ষয়ী বিভাজন ঘটে। গত ৭৮ বছরে দেশ দুটি চারটি যুদ্ধ করেছে এবং অসংখ্য ছোটখাটো সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কাশ্মীর অঞ্চলের ওপর সম্পূর্ণ দাবি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যদিও উভয় দেশই এর কিছু অংশ নিজেদের অধীনে শাসন করে।

এশিয়া কাপেও রাজনৈতিক প্রভাবের ছাপ দেখা যায়। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনে এই টুর্নামেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৯০-৯১ সালে যখন ভারতে কাশ্মীর উপত্যকায় বিদ্রোহ চলছিল, তখন ভারত এশিয়া কাপের আয়োজক হলেও পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। পরের সংস্করণ, অর্থাৎ ১৯৯৩ সালের টুর্নামেন্টটি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বাতিল করা হয়।

কিন্তু রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ২০১৩ সাল থেকে ক্রিকেটীয় অচলাবস্থা থাকা সত্ত্বেও, ভারত ও পাকিস্তান নিয়মিতভাবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর টুর্নামেন্টগুলোতে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে।

‘দর্শক এবং রাজস্ব বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য’
যদি দুই দল দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনবার ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হতে পারে, তাহলে কেন দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য তারা রাজনীতিকে খেলা থেকে আলাদা করতে পারে না?

আইসিসি-র সাবেক গণমাধ্যম ও যোগাযোগ প্রধান সামি উল হাসান আল জাজিরাকে বলেন, “এর মূল কারণ হলো দর্শক এবং টুর্নামেন্টের রাজস্ব বৃদ্ধি।”

তিনি আরও বলেন, “যখন আইসিসি কোনো বৈশ্বিক ইভেন্টের পরিকল্পনা করে, তখন আয়োজকরা র‌্যাঙ্কিং বা অন্য কোনো বিষয় বিবেচনা করে না। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে ভারত ও পাকিস্তানকে অন্তত একবার একে অপরের বিরুদ্ধে খেলানো। গত দুই দশকে আইসিসি তাদের টুর্নামেন্টের ফরম্যাট একাধিকবার পরিবর্তন করেছে যাতে এটি নিশ্চিত করা যায়।”

অতীতে আইসিসি নিজেরাই স্বীকার করেছে যে, তারা টুর্নামেন্টের ড্র এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে পড়ে।

টুর্নামেন্টের পর দর্শকদের পরিসংখ্যান ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। আইসিসি অনুসারে, ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ভারতে সবচেয়ে বেশি দেখা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের একটি ছিল। এটি টেলিভিশনে ২৬ বিলিয়ন মিনিট দেখার সময় (ওয়াচ টাইম) তৈরি করে, যা ২০২৩ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ১৯.৫ বিলিয়ন মিনিট দেখার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।

আইসিসি এবং এসিসির মতো টুর্নামেন্ট আয়োজকরা সাধারণত সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে সম্প্রচার স্বত্ব এবং স্পনসরশিপ বিক্রি করে। আইসিসি এবং এসিসি এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব নিজেদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিতরণ করে। তাই যত বেশি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে, সদস্য দেশগুলো তত বেশি লাভবান হবে।

হাসানের মতে, সম্প্রচারক এবং স্পনসরদের প্রথম প্রশ্নই থাকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে।

তিনি বলেন, “বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোতে একাধিক ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন, কিন্তু এশিয়া কাপের মতো ছোট টুর্নামেন্টে এটি সহজ। এমনকি এশিয়া কাপেও তারা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ পেয়েছে। তৃতীয়টি (ফাইনালে) আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও তা এখনও সফল হয়নি।”

১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের ১৬টি সংস্করণে ভারত ও পাকিস্তান কখনোই ফাইনালে মুখোমুখি হয়নি।

‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে মাথাব্যথা নেই’
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেকোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলেও, অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের ভক্তরা তাদের দলের প্রতি মনোযোগের অভাব নিয়ে চিন্তিত নন।

মোহাম্মদ আকরাম নামের একজন শ্রীলঙ্কান বলেন, “আমি শুধু শ্রীলঙ্কা দল নিয়েই ভাবি, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কী হচ্ছে তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতক্ষণ না শ্রীলঙ্কা কাপ জিতে নিচ্ছে। আমাদের জন্য, আমাদের দলই গুরুত্বপূর্ণ এবং আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের ভক্তদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। শ্রীলঙ্কাকে সবসময়ই একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। সবকিছুই ভারত ও পাকিস্তানকে ঘিরে, কিন্তু আমরা তাতে কিছু মনে করি না, কারণ আমাদের দলই সবচেয়ে বেশি ফাইনালে খেলেছে।”

এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় সফল দল এবং তারা রেকর্ড ১৩টি ফাইনালে উঠেছে, যার মধ্যে ছয়বার শিরোপা জিতেছে। আরেকটি জয় তাদের সর্বোচ্চ জয়ী ভারত-এর সাথে একই অবস্থানে নিয়ে আসবে।

নিয়ম বদল
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ মাঝে মাঝে এমন কিছু সিদ্ধান্ত এবং নিয়ম বদলের কারণ হয় যা আগে কখনও ঘটেনি।

দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে, ভারত-পাকিস্তানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। উভয় দল পরের রাউন্ডে উঠলে এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায়, আয়োজকরা তাদের সুপার ফোর ম্যাচের জন্য একটি রিজার্ভ ডে রাখেন। এটি ছিল সেই রাউন্ডের একমাত্র ম্যাচ যা এই সুবিধা পেয়েছিল।

টুর্নামেন্টের মাঝপথে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং অন্য দলের ভক্তদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়।

হাসান বলেন, “কারও জন্য নিয়ম বদল করা উচিত নয়। সেবার যা ঘটেছিল তা খেলার জন্য ভালো উদাহরণ ছিল না। খেলার শর্ত ও নিয়ম টুর্নামেন্টের আগে নির্ধারিত হয় এবং তাতে পরিবর্তন আনা উচিত নয়। নির্দিষ্ট ম্যাচকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নিয়ম পরিবর্তন করা এই বার্তা দেয় যে, সবকিছুই অর্থ এবং একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের বাণিজ্যিকীকরণকে কেন্দ্র করে।”

ভারতের ক্রীড়া উচ্চাকাঙ্ক্ষা
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও, উভয় দেশের ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকার এই ম্যাচগুলোতে খেলার অনুমতি দিয়েছে।

আগস্টে, ভারত একটি নতুন ক্রীড়া নীতি ঘোষণা করে, যেখানে বলা হয় যে, তাদের দল ও খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে না, তবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হতে পারবে। এছাড়াও, এটি ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের পাকিস্তানে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে এবং পাকিস্তান থেকে আসা দল ও খেলোয়াড়দের আতিথেয়তা দিতে অস্বীকার করে।

আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা হাসানের মতে, এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে যাতে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক এবং ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ভারতের বিড ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কারণে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে না চায়, তবে একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে।”

সূত্র: আল-জাজিরা

Tags: ,

এই ধরনের আরও নিউজ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT