1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

রোহিঙ্গা থেকে গাজা: গণহত্যা প্রতিরোধ ও অপরাধীদের শাস্তিদানে আদালতের নিষ্ক্রিয়তা

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আজ থেকে আট বছর আগে, ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু করে। এই নৃশংস অভিযানে ২০১৭ সালের শরতে ৭৪০,০০০-এর বেশি রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয় এবং “মুসলিম সন্ত্রাসী” দমনের নামে ৩০০ গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

তৎকালীন বেসামরিক সরকার প্রধান অং সান সু চি এই জাতিগত নিধনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর পক্ষে সাফাই গান। সেই সময়, আমরা দুজনই বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও উচ্ছেদের ভয়াবহ গল্প শুনি। আজও রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের গণহত্যা চলমান। তাদের কোনো অধিকার বা সুরক্ষা নেই, এবং স্বদেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনাও নেই, যা ফিলিস্তিনিদের বর্তমান অবস্থার সাথে তুলনীয়।

আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা
আট বছর পর একটি বিষয় পরিষ্কার: আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং এর প্রধান বিচারিক অঙ্গ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বারবার অপরাধী রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলস্বরূপ মিয়ানমারে অপরাধের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অন্যান্য সমসাময়িক গণহত্যার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যেমন, গাজায় ইসরায়েলের তথাকথিত “শহুরে যুদ্ধ”-এ নিহতদের ৮৩ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক, যা একটি ফাঁস হওয়া ইসরায়েলি সামরিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।

মিয়ানমারের মতো ইসরায়েলও বর্তমানে আইসিজে-তে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আইসিজে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ণয় করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থাকা ৬০০,০০০ রোহিঙ্গাকে সুরক্ষিত গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সহিংসতা বন্ধের নির্দেশ দেয়।

তবে, এর পর থেকে মিয়ানমারে দায়মুক্তির মাত্রা কেবল বেড়েছে। জাতিসংঘ-এর এই প্রধান বিচারিক অঙ্গ নতুন করে গণহত্যা বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আইসিজে-এর আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা অনেক দ্রুত গতিতে চলছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যুদ্ধাপরাধ করছে। এর মধ্যে আরাকান আর্মি নামের একটি জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ মিলিশিয়াও রয়েছে, যারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। এই অপরাধগুলোর পেছনে রয়েছে ইসলামবিরোধী বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ।

‘ধীরগতির গণহত্যা’
২০১৪ সালের একটি গবেষণায় আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম। ধীরগতির গণহত্যা বলতে বোঝানো হয় রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আইন এবং সহিংসতা উভয়কেই গণহত্যামূলক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সমাজের ব্যাপক সমর্থনও এই প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। মিয়ানমারের ক্ষেত্রে, সাধারণ মানুষ সামরিক বাহিনীর ইসলাম-বিদ্বেষী আদর্শের সাথে একাত্মতা পোষণ করে।

অং সান সু চি ২০২০ সালে আইসিজে-তে গিয়ে যখন তার দেশের পক্ষে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তখন তিনি কেবল নিজের নৈতিক অবস্থানই হারাননি, বরং মিয়ানমার সমাজের একটি বড় অংশকে তাদের অপরাধের দায় স্বীকার করা থেকেও দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। আরাকান আর্মির সাম্প্রতিক অপরাধের পর ৬০০ রোহিঙ্গার গণকবর আবিষ্কৃত হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নীরবতা খুবই উদ্বেগজনক। তাদের কাছে আরাকান আর্মির সাথে জোট গঠন রোহিঙ্গাদের চলমান হত্যা, দমন ও নির্বাসন থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলমান গণহত্যার মুখে এই নীরবতা আসলে নীরব সম্মতি।

আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয়তা
সু চির পতন থেকে মিয়ানমারের জনগণ শিক্ষা নেয়নি। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি কারাবন্দী, এবং তার এই অস্বীকার তাকে বিশ্বের সমর্থন থেকে বঞ্চিত করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

মিয়ানমারের বাইরেও, ব্যক্তি নেতারা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার কোনো বাধা ছাড়াই প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা মানব ইতিহাসের এক গভীর সংকটময় সময়ে প্রবেশ করেছি, যখন পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো, যারা হলোকাস্ট-পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করেছিল, তারাই মানবাধিকার বা গণহত্যা প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।

এর একটি উদাহরণ হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন করছে এবং ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। একই সময়ে, যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা এবং ইহুদি আধিপত্যবাদী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নাগরিকদের দমনের জন্য সন্ত্রাস-বিরোধী আইন ব্যবহার করছে।

লেখক:
ন্যাটালি ব্রিনহ্যাম- ”নাগরিকত্ব ও গণহত্যা কার্ড: পরিচয়পত্র, রাষ্ট্রহীনতা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ” বইয়ের লেখক।

মাউং জার্নি- www.forsea.co-এর একজন বার্মিজ সহ-প্রতিষ্ঠাতা, রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমারের গণহত্যা (২০১৮) -এর সহ-লেখক এবং কম্বোডিয়ার জেনোসাইড ডকুমেন্টেশন সেন্টারের সহযোগী।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

ভাষান্তর: রেজাউল করিম

Tags: , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT