সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
বৈঠক শেষে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী মাঠে কতদিন থাকবে বা কীভাবে মোতায়েন হবে, সেই বিষয়ে আলোচনাসহ বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তিনি জানান, প্রথম দিন থেকেই সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, চেকপোস্ট ও রিজার্ভ ফোর্স—এই তিন স্তরে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
ইসি সচিব বলেন, অপতথ্য প্রতিরোধ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যেসব অবৈধ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের ওপর বিশেষ নজরদারি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে তাগিদ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলের কোনো নেতা বা প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া যাবে না—এই নির্দেশনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব, ডিএমপি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা, অপতথ্য মোকাবিলা, সন্ত্রাসী দমন ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
Tags: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী