1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

বেসরকারি ঋণ বাড়াতে এসডিএফ রেট কমল, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে নীতি সুদহার বা পলিসি রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সোমবার মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানুয়ারি-জুন মেয়াদের এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ঘোষিত শেষ মুদ্রানীতি।

ইউএনবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল সুদের হারগুলো অপরিবর্তিত রাখা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৮ শতাংশ থেকে ৭.৫০ শতাংশ করেছে। ব্যাংকগুলো যাতে তাদের অতিরিক্ত তারল্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে নিরুৎসাহিত হয় এবং ঋণদান ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ড. মনসুর ব্যাখ্যা করেন, এসডিএফ রেট কমানোর ফলে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রাখা ব্যাংকগুলোর জন্য কম লাভজনক হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদান এবং আন্তঃব্যাংক বাজারের দিকে ধাবিত করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। ব্যাংকটি সতর্ক করে বলেছে, জাতীয় নির্বাচন ও রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি খরচ, নিত্যপণ্যের মৌসুমী মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি খাতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কারণে মূল্যের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

গভর্নর বলেন, “এই মুহূর্তে পলিসি রেট কমানো হলে তা টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতি আবার উস্কে দিতে পারে।”

ব্যাংকিং খাতে আমানতের ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আমানত প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে থাকলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, আমানতকারীরা এখন শক্তিশালী সুনাম থাকা ব্যাংকগুলোর দিকে ঝুঁকছেন, যাকে তারা ‘ফ্লাইট টু কোয়ালিটি’ (flight to quality) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

একই সময়ে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ (NPL) বেড়ে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ঋণ শ্রেণিকরণ ও রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের কারণেই খেলাপি ঋণের এই উল্লম্ফন হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল হওয়ার ফলে বাংলাদেশের বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনের অবস্থান বা এক্সটার্নাল পজিশন শক্তিশালী হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালের আগস্টের ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩৩.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করেনি। বরং ২০২৬ অর্থবছরে আন্তঃব্যাংক মার্কেট থেকে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি ঋণদাতাদের ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেছে, যা অর্থনীতির ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান ও নুরুন্নাহারসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিটি/ আরকে

Tags: , ,

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT