প্রায়ই বলা হয়—বন্ধুই সেই পরিবার, যাকে আমরা হৃদয়ের টানে বেছে নেই। তাই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অকালপ্রয়াণ নিঃসন্দেহে আপনজন হারানোর শোকের সমান। আজ গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধাভরে জানাচ্ছি, আমার প্রিয় বন্ধু, শিক্ষাবিদ জনাব আবদুস সামাদ ২১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন।
আমাদের প্রথম পরিচয় স্কুল জীবনে, ১৯৬০-এর দশকে। ছয়টি অর্থবহ বছর আমরা সহপাঠী হিসেবে একসাথে কাটিয়েছি এবং ১৯৬৮ সালে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। সেই দিনগুলোর সরলতা, বন্ধুত্বের উষ্ণতা আর শিক্ষার পবিত্র সাধনা আজও আমার মনে অবিনশ্বর হয়ে আছে। একসাথে খেলাধুলা, পড়াশোনার আনন্দ, আন্তরিকতা, একযোগে দেখা স্বপ্নগুলো —দিনগুলো যেন এখনো আমার অন্তরে জীবন্ত। সামাদ ছিলেন অসম্ভব মেধাবী একজন মানুষ। তাঁর পথচলা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল শিক্ষকতাকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিতে।
বিদ্যালয় জীবনের পরও আমাদের সম্পর্ক অটুট ছিলো। পরে সৌভাগ্যক্রমে একই প্রতিষ্ঠানে সহকর্মী হওয়ার সুযোগও পেয়েছিলাম। তার নম্রতা, নিষ্ঠা ও অক্লান্ত পরিশ্রম সকলকে মুগ্ধ করেছিল। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলেছেন গভীর আন্তরিকতা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল দৃষ্টান্তমূলক—প্রতিটি সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন সৎ ও কল্যাণবোধে উজ্জ্বল।
শিক্ষার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অসীম। শিক্ষকতাকে কোনো পেশা মনে করেননি, বরং মানবসেবার মহৎ ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। শান্ত স্বভাব, দৃঢ় নেতৃত্ব ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তিনি ছাত্র, সহকর্মীসহ অগণিত মানুষের মনে শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার প্রতিটি অবদানের ছোঁয়া আজও বিদ্যালয়ের প্রাণপ্রবাহে বেঁচে আছে।
তার প্রয়াণের গভীর শোক আমাদের বুক চিরে যায়। তবে তার আদর্শ, ধৈর্য ও দৃঢ় নীতি আমাদের অনন্তকাল পথ দেখাবে। তিনি ছিলেন বিরোধহীন, কলহবিমুখ এক আন্তরিক মানুষ, আপনজনসুলভ মানুষ। এমন মানুষ সত্যিই বিরল—যিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে জানেন।
প্রিয় শিক্ষাবিদ ও বন্ধু, আপনার জন্য প্রার্থনা করি চিরশান্তি। আপনার জীবন আমাদের জন্য হয়ে থাকুক অক্ষয় অনুপ্রেরণার।
গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণে
ড. তাজুল ইসলাম
Tags: শোকবার্তা