ভ্যাট রিটার্ন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে সব করদাতার রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে সংরক্ষণ করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে করদাতারা তাদের আগে দাখিল করা হার্ড কপি রিটার্ন কোনো জরিমানা বা সুদ ছাড়াই নিজেরাই ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে পারবেন।
আজ সোমবার (০৫ জানুয়ারি) এনবিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন সাব-মডিউলটির কার্যপ্রণালী ও প্রক্রিয়া সম্পর্কিত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রটি অনুসরণ করে করদাতারা নিজেদের পূর্বে দাখিল করা হার্ড কপি রিটার্ন সরাসরি ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে সক্ষম হবেন।
বর্তমান ব্যবস্থায় করদাতাদের পেপার রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার (সিপিসি) ব্যবহার করা হতো। এই প্রক্রিয়ায় ভ্যাট কর্মকর্তারা রিটার্নের তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করতেন। তবে ভুল হলে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ জটিল হয়ে যেত এবং বিপুল সংখ্যক রিটার্ন এন্ট্রি করতে দীর্ঘ সময় লাগত।
ফলে অনেক সময় রিটার্ন সঠিক সময়ে সিস্টেমে এন্ট্রি না হওয়ায় করদাতাদের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদ ও জরিমানা আরোপ হতো। পরে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে চাইলে করদাতাদেরকে জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ মিলতো না।
নতুন সাব-মডিউল চালুর মাধ্যমে যারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হার্ড কপি রিটার্ন দাখিল করেছেন, তারা কোনো সুদ বা জরিমানা ছাড়াই নিজেদের রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে পারবেন। করদাতাদের ই-মেইল ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ই-ভ্যাট সিস্টেমের লিঙ্ক পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে সহজে ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ সাব-মডিউল ব্যবহার করা যাবে।
আগে দাখিল করা সব পেপার রিটার্ন ৩১ মার্চ পর্যন্ত জরিমানা ও সুদ মুক্তভাবে ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করা যাবে। একবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে করদাতারা ভবিষ্যতের সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে নিরবচ্ছিন্নভাবে দাখিল করতে পারবেন।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর প্রশাসনের পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। এনবিআর এ প্রক্রিয়ায় করদাতাদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছে।
বিটি/ আরকে
Tags: ই-ভ্যাট, এনবিআর, ভ্যাট রিটার্ন