প্রজননের সময় হলে সাগর থেকে পদ্মা-মেঘনাসহ আশপাশের নদ-নদীতে চলে আসে ইলিশ। আর এ সময়টাতে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, যা আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে। ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টায়। এ সময়ে পদ্মা-মেঘনাসহ ইলিশের বিচরণ রয়েছে এমন নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ আহরণ, বিপণন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে বেকার হয়ে পড়া ৩৭ জেলার ৬ লাখ ২০ হাজার জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেবে সরকার। পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের চারদিন এবং অমাবস্যার পরের তিনদিনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা চলবে। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে চাঁদপুর মৎস্য বিভাগ ও টাস্কফোর্স। মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশের নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়েছে মৎস্য বিভাগ। তাছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা করা হয়েছে। অভিযানের সময় জলসীমার বাইরে মাছ ধরা ট্রলারের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
চাঁদপুর মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি উপজেলার ৪৩ হাজার জেলে পরিবার ইলিশ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। এবারো জেলেদের বিগত সময়ের মতো খাদ্যসহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হবে।
গতকাল সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনাপারের জেলেপল্লী আনন্দবাজার, হরিণা, বলিয়া, তরপুরচণ্ডী ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক জেলেই নৌকা ও জাল তীরে উঠিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ জাল মেরামত করছেন তুলে রাখার জন্য। আবার কোনো কোনো জেলে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। মা ইলিশ রক্ষায় সব ধরনের মানুষ সহযোগিতা করবে।’
জেলা প্রশাসক মো. মোহসিন উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা হবে। আমরা মা ইলিশ রক্ষায় অতিরিক্ত কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ সদস্যদের নিয়োজিত করব। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও সহযোগিতা করবে।’
চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ইলিশ ধরবেন না ও কিনবেন না। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন আমরা যার কাছে ইলিশ পাব। তাকেই জেলে পাঠাব। মনে রাখবেন এ সম্পদ আমাদের সবার। তাই এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সবার।’
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ সারা বছরই ডিম দেয়। তবে ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম দেয় আশ্বিনে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে প্রবেশ করে। তাই প্রতি বছর আশ্বিনের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা মাঝে রেখে ২২ দিন মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল বিভাগের পদ্মা-মেঘনাসহ তৎসংলগ্ন নদ-নদীও রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা শতভাগ পালন করতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ তালিকাভুক্ত জেলেদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
বরিশাল নৌ-পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় এবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে ড্রোন দিয়ে নজর রাখা হবে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দিকে।’
ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, ‘মা ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হলো চাঁদপুরে ষাটনল থেকে বরিশালের হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জঘেঁষা মেঘনা নদী। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা ও শরীয়তপুরে জাজিরা, গোসাইহাটসংলগ্ন পদ্মায় বিচরণ করে ইলিশ।’
বিটি/ আরকে
Tags: নদ-নদী, মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা