প্যারিসের শান্ত সন্ধ্যায়, যখন শঁজেলিজে’র আলো ঝলমল করছে, তখন এক অসাধারণ গল্পের জন্ম হলো। এক স্বপ্ন, যা অনেকেই দেখতে চায়, কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ তা ছুঁতে পারে—সেই স্বপ্নের সিনার হলো প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর উইঙ্গার, উসমান ডেম্বেলে। সোমবারের ঝলমলে রাতে, তিনি জিতে নিলেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার, ব্যালন ডি’অর।
তার এই বিজয় কেবল তার একার নয়, এটি এক নতুন ইতিহাসের সূচনা। একজন কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রথম নজির গড়লেন তিনি।
কিলিয়ান এমবাপ্পে’র রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোর পর পিএসজি’র আক্রমণভাগের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ডেম্বেলে। তার দুরন্ত গতি, ড্রিবলিং আর ক্ষিপ্রতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার ভেঙে চুরমার করেছে। গত মৌসুমে সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫টি গোল করে তিনি পিএসজিকে এনে দেন ফরাসি লিগ ও কাপের ডাবল। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পিএসজি প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জেতে। এই জয়ের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন ডেম্বেলে।
পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে ডেম্বেলে ছিলেন আবেগপ্রবণ। তার কণ্ঠে ঝরে পড়ছিল কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছি না। পিএসজি’র সঙ্গে এটা ছিল এক অবিশ্বাস্য মৌসুম”।
আরও একটু যোগ করে তিনি বলেন, কোচ লুইস এনরিকে তার কাছে একজন বাবার মতোই ছিলেন। ডেম্বেলে অবশ্য পুরস্কারটি তার সতীর্থদের উৎসর্গ করেছেন।
তার ভাষায়, “এটা একটা ব্যক্তিগত ট্রফি, কিন্তু এটা আসলে দলেরই জয়। ব্যালন ডি’অর আমার ক্যারিয়ারে কখনো লক্ষ্য ছিল না, তবে আমি দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি যেন আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারি।”
বার্সেলোনা থেকে উঠে আসা ১৮ বছরের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল, যিনি ডেম্বেলে’র সাবেক সতীর্থ, জিতেছেন ২১ বছরের কম বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের কোপা ট্রফি।
অন্যদিকে, নারী ফুটবলের আঙিনায় স্পেনের আইতানা বোনমাতি তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো তিনি জিতে নিলেন নারীদের ব্যালন ডি’অর। তার এই ধারাবাহিক সাফল্য নিঃসন্দেহে এক বিরল কৃতিত্ব।
এই ব্যালন ডি’অর পুরস্কার শুধু ডেম্বেলে বা বোনমাতির জন্য নয়, বরং এটি তাদের নিজ নিজ দলের জন্য এক সম্মাননা, যা ফুটবলের ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে। এক কালো রাতে, এক নতুন যুগের আগমন ঘটলো, যেখানে স্বপ্ন আর পরিশ্রমের সংমিশ্রণে রচিত হলো এক মহাকাব্য।
বিটি/ আরকে
Tags: উসমান ডেম্বেলে, পিএসজি, ব্যালন ডি'অর