পাবনার ঈশ্বরদীর দিয়াড় সাহাপুর এলাকায় হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে তার ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হৃদয় ওই উপজেলার মানিকনগর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে এবং পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার তিন দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমাইয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। রোববার রাতে বাড়ির মালিক হৃদয়ের কোনো সাড়া না পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন দরজা খুলে তাকে ওড়না দিয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করেছে। সেখানে হৃদয় নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রী সুমাইয়া এবং নবজাতক সন্তানকে হত্যার জন্য শ্যালক শরীফকে দায়ী করেছেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, প্রায় মাসখানেক আগে তাদের একটি ছেলেসন্তান জন্ম নিলেও কয়েক দিন পর সে মারা যায়। এই মৃত্যু ঘিরে হৃদয়ের মনে গভীর ক্ষোভ ও সন্দেহ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিরকুটে তিনি নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Tags: অস্বাভাবিক মৃত্যু, ঈশ্বরদী, পাবনা, পুলিশ তদন্ত