ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে খেলার স্বপ্ন দেখেছেন সুখি ইতোফুসা। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেকের মধ্য দিয়ে। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার পর নিজের পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতির জায়গা দেখছেন এই ফুটবলার। ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও উন্নত করে গোল বা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য বেশি অবদান রাখতে চান তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে ভাষাগত কিছুটা দূরত্ব থাকলেও ইংরেজি ও ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাকেও ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবেই দেখছেন সুখি। জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ও নিজের অনুভূতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।
প্রশ্ন: জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়েছে। নিজের পারফরম্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সুখি ইতোফুসা: ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। গতকালের ম্যাচের পারফরম্যান্সের কথা বললে, এখনও কিছু জায়গায় আমার উন্নতি করার প্রয়োজন আছে। ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও উন্নত করতে আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পাশাপাশি গোল করা বা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চাই।
প্রশ্ন: প্রথম ম্যাচেই লাল-সবুজ জার্সি পরে মাঠে নামবেন, এমনটা কি ভেবেছিলেন?
সুখি ইতোফুসা: আসলে আমি কখনো এভাবে ভাবিনি যে গতকালই আমার অভিষেক হয়ে যাবে। তবে দেশের হয়ে লড়াই করার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম।
প্রশ্ন: আপনার সতীর্থরা জাপানি ভাষা বলতে পারেন না। তাদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করেন?
সুখি ইতোফুসা: আমি জানি, তারা জাপানি ভাষা বলতে পারে না। তবে আমার সতীর্থরা ইংরেজি ভাষা কিংবা সহজ কিছু ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে, যেগুলো আমি বুঝতে পারি। এ ছাড়া কিছু সতীর্থ সবসময় আমার খেয়াল রাখে এবং আমার সঙ্গে কথা বলে। তাই এখন মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি। সময়টা খুব উপভোগ করছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার থেকে দূরে আছেন। তাদের মিস করেন? এবার মনে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে।
সুখি ইতোফুসা: পরিবার থেকে দূরে থাকা, এটা একজন ফুটবলার হিসেবে আমার স্বপ্নেরই অংশ। একই সঙ্গে এটা আমার পরিবারেরও স্বপ্ন। পরিবার থেকে দূরে থেকে আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে সেটা আমার পরিবার এবং আরও অনেক মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনবে। তাই আমি মনে করি, পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কোনো সমস্যা নয়।
প্রশ্ন: বাসায় কেউ বাংলায় কথা বলেন?
সুখি ইতোফুসা: হ্যাঁ, শুধু আমার বাবা বাসায় বাংলায় কথা বলেন। বাসার বাকি সদস্যরা, অর্থাৎ আমরা জাপানি ভাষাতেই কথা বলি।
এন/আই
Tags: ফুটবল, বাফুফে, বাংলাদেশ, সুখি ইতোফুসা