1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
রাখাইনের সব বেসামরিক নাগরিককে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরকারি বাহিনীকে: যুদ্ধবন্দি সেনা ৫১ বিশেষ বিসিএসের আবেদন শুরু ১ অক্টোবর, শূন্যপদ স্বাস্থ্যে ৫০০০ জাপানের পোশাক বাজার ধরতে বিজিএমইএ’র ‘জাপান ডেস্ক’ চালু রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বিমানের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫ শতাংশ ঋণ খেলাপি এডিবির পূর্বাভাসে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ শতাংশে, মূল্যস্ফীতি পৌঁছাতে পারে ৯ শতাংশে হজ নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি -পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ ৮,৫৪২ জন জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণ: ইরান, এআই ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা

রাখাইনের সব বেসামরিক নাগরিককে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরকারি বাহিনীকে: যুদ্ধবন্দি সেনা

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাখাইনে পাল্টা সামরিক অভিযানে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাদের সেনাদের সামনে পড়া সব বেসামরিক মানুষকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আরাকান আর্মির (এএ) হাতে আটক হওয়া দুই সেনাসদস্য।

রাখাইনে হারানো অঞ্চলগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যে মিয়ানমারের জান্তা সরকার ৪ সেপ্টেম্বর ‘অপারেশন ৪৯২৬’ শুরু করে। এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, কামান ইউনিট এবং নৌবাহিনীর জাহাজ ব্যবহার করা হয়। তবে কিয়াউকফিউ ও পোননাগিউন টাউনশিপে অভিযানের সময় তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। এসব এলাকায় কমান্ডারসহ কয়েক ডজন সেনা আত্মসমর্পণ করে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এএ পোননাগিউন ও রাজ্য রাজধানী সিত্তের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৬ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষের পর উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর নিহত সেনাদের মরদেহ প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে ওই যুদ্ধে আটক হওয়া মিয়ানমার বাহিনীর দুই সদস্যের বক্তব্যের একটি ভিডিওও প্রকাশ করে এএ।

এএ-এর প্রকাশ করা ভিডিও সাক্ষাৎকারে মাইকেল নামের এক জান্তা সেনা বলেন, “আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সামনে যেসব জাতিগত রাখাইন জনগোষ্ঠীর মানুষকে পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে হত্যা করতে হবে। নারী ও শিশুসহ কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না—এমন নির্দেশই আমাদের দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি জানান, তাকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করে মাগওয়ে অঞ্চলের পাকোক্কু টাউনশিপে অবস্থিত ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ১০১-এর ব্যাটালিয়ন ২৫৭-এ পাঠানো হয়েছিল। জান্তা বাহিনীর সেনারা পিছু হটার সময় আমিন্ট কিয়ুন গ্রামের কাছে এএ-এর একটি ইউনিট তাকে আটক করে।

মাইকেল বলেন, “আমাকে ফ্রন্টলাইনে ফেলে যাওয়া হয়েছিল এবং এএ বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, তার অনেক নিম্নপদস্থ সহযোদ্ধা সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন এবং সুযোগ পেলে তাদেরও পক্ষত্যাগ করতে উৎসাহিত করতেন।

বেসামরিকদের হত্যার নির্দেশের বিষয়টি আরেক যুদ্ধবন্দি অং পায়ে সোয়োন-ও নিশ্চিত করেছেন বলে এএ জানায়। তিনি ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ১০১-এর ব্যাটালিয়ন ২৫২-এর একজন নিয়মিত সেনা ছিলেন এবং তাকেও আমিন্ট কিয়ুন গ্রামের কাছে আটক করা হয়।

এএ-এর প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমাদের সবাইকে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—শিশু ও বয়স্কদেরও। একই সঙ্গে সব গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, তাকে এবং তার সহকর্মী জুনিয়র সেনাদের শেষ পর্যন্ত লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পিছু হটা বা আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য পক্ষত্যাগ করতে মরিয়া ছিলেন। কিন্তু তারা জানতেন, ধরা পড়লে তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হতে পারে।

মিয়ানমারের রাখাইন ফ্রন্টে জান্তা সেনাদের সামনে পাওয়া সব বেসামরিক মানুষকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এই দাবিগুলো দ্য ইরাবতী স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা এবং দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সাবেক সেনা ক্যাপ্টেন জিন ইয়া বলেন, মিয়ানমারের সামরিক কমান্ডাররা দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত রাখাইন জনগোষ্ঠীর মানুষদের এএ-এর সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।

তিনি বলেন, রাখাইনে বেসামরিক মানুষদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—যুদ্ধবন্দিদের এই দাবি “প্রায় নিশ্চিতভাবেই সত্য”। তার মতে, বিদ্রোহী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের কৌশলের অংশ।

জিন ইয়া বলেন, “২০১৬ সালে আমি যখন একজন কর্মকর্তা ছিলাম, তখন উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নি নি সোয়ে আমাদের কাচিন রাজ্যে বেসামরিক মানুষদের দেখামাত্র হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি ও অস্ত্রের দিকে নজর না দিতে বলা হয়েছিল।”

রাখাইনে এএ-এর নিয়ন্ত্রণ
বর্তমানে এএ রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি, পাশাপাশি প্রতিবেশী চিন রাজ্যের পালেতওয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।

এখন তারা কিয়াউকফিউ দখলের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। কিয়াউকফিউতে চীনের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দর রয়েছে। একই সঙ্গে তারা রাখাইনের রাজ্য রাজধানী সিত্তে দখলের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে।

এছাড়া এএ সীমান্তবর্তী অভিযান মাগওয়ে, বাগো ও আয়েয়াওয়াদি অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করছে।

পাল্টা সামরিক অভিযান ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে জান্তা বাহিনী এখন নৌবাহিনীর জাহাজ ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বেসামরিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে এবং স্কুল, বাজার, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।

বিটি/ আরকে

Tags: , , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT