1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ হেরেও বাংলাদেশের লড়াইয়ে খুশি কোচ

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ভিন্ন চেহারায় দেখা গেছে বলে মনে করেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ। তাঁর মতে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে জায়গা না দিয়ে লড়াই করেছে এবং বল দখলে রেখে ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘আজ রাতে আমরা গত ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি দল দেখেছি। খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং খেলোয়াড়রা মাঠে কী করার চেষ্টা করেছে, আপনারা তা দেখেছেন।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ ২০ মিনিটে বাংলাদেশ গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ফল আরও ইতিবাচক হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘সমিতের চমৎকার একটি সুযোগ ছিল, সে হেড মিস করেছে। তবে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা খুব ভালো ছিল।’

দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে কোচ বলেন, বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল কাঠামোয় নিয়মিত প্রতিযোগিতার অভাব রয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী লিগ বাংলাদেশে নেই। ফলে খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগও কম।

তিনি বলেন, ‘লিগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেখানে প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলে এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়। এই ঘাটতিটাই আমাদের রয়েছে। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্যও খুব কম সময় পাওয়া যায়। তাই আমাদের এমন খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়, যারা আন্তর্জাতিকভাবে বাইরে খেলছে এবং যাদের অভিজ্ঞতা বেশি।’

উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে খেলাকে বাংলাদেশের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সবাইকে হারিয়ে দিতে আসিনি। নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে এসেছি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য বড় শিক্ষা ছিল। আর আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে, আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও আমাদের আছে।’

তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা গোল করা বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো গোল করা। দলে এমন কোনো নিখুঁত স্ট্রাইকার নেই, যে বল জালে জড়াতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শুকি ইতোফুসা ও মোরসালিনের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন কোচ। শুকি প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। অন্যদিকে মোরসালিন প্রায় ১০ দিন ইনজুরির কারণে অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২০ মিনিট খেলেছিলেন তিনি।

কোচ বলেন, ‘মোরসালিন মাত্র দুই দিন অনুশীলন করে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২০ মিনিট খেলেছিল। স্বাভাবিকভাবেই একপর্যায়ে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যখন তারা এত দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন তাজা খেলোয়াড় নামানোর প্রয়োজন হয় এবং সে কারণেই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।’

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অতিরিক্ত লং বল নির্ভরতারও সমালোচনা করেন কোচ। তাঁর মতে, লং বল খেলে বলের দখল হারানোর পর খেলোয়াড়দেরই আবার সেই বলের পেছনে ছুটতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগের ম্যাচের মতো শুধু লং বল খেলিনি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে লং বল প্রতিপক্ষের পায়ে চলে যায়। এরপর সেই বলের পেছনে ছুটতে হয়। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আমাদের খেলোয়াড়রা গড়ে ১০ হাজার মিটারের মতো দৌড়েছিল, যার মধ্যে ৮ হাজার মিটারই দৌড়াতে হয়েছিল বল তাড়া করতে গিয়ে। এটা কোনো ভালো খেলা নয়।’

দলের খেলার ধরন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কোচ বলেন, ‘আমি চাই দল বলের দখল রেখে খেলুক। দাবা খেলার মতো ফুটবলেও পরিকল্পনা করে খেলতে হয়। পরবর্তী দুই-তিন সেকেন্ডে কী হবে, সতীর্থরা কোথায় আছে—তা স্ক্যান করতে হয়।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৫০-৫০ বলের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ভালো করেছে বলেও মনে করেন তিনি। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার তৈরি করতে সময় লাগবে বলে জানান কোচ।

আগামী ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ইতিবাচক কিছু শেখার প্রত্যাশা তাঁর। ‘মালয়েশিয়ার কাছে হার থেকে শিখে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল অনেক ভালো খেলেছে। আশা করি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকেও আমরা ইতিবাচক কিছু শিখতে পারব, যা আমাদের সাফে কাজে দেবে এবং ২০ বছর পর আবারও সাফ শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখবে।’

এদিকে দলের সেট পিস অনুশীলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও নাকচ করেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা সেট পিস অনুশীলন করেছি। তবে এখানে আসার পর নয়, বাংলাদেশে ক্যাম্প করার সময় করেছি। বৃষ্টির কারণে মাঠের অবস্থা খারাপ থাকায় আমাদের নির্ধারিত দুটি সেশন পুরোপুরি করতে পারিনি। ফ্রি কিকের জন্য আমাদের এক-দুটি নির্দিষ্ট কৌশল ছিল, কিন্তু ম্যাচে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই করে দেখার পরামর্শ দিয়ে কোচ বলেন, ‘ফেসবুকে যা শোনেন, তার সবকিছু বিশ্বাস করবেন না।’

এন/আই

Tags: , ,

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT