অমাবস্যার জোয়ারের পানি ও সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সেন্টমার্টিনের প্রায় ২০টি ঘরবাড়ি ও হোটেল রিসোর্ট পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রলার চলাচলে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জোয়ারের আঘাতে সেখানকার সমুদ্র তীরবর্তী অন্তত ১১টি হোটেল-রিসোর্ট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, টানা চার দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ দ্বীপের সুরক্ষা বাঁধে আঘাত হানতে শুরু করেছে। সমুদ্রের পানিতে অনেকের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। প্যারাডাইজ নামে তিনতলা বিশিষ্ট একটি রিসোর্ট পানিতে ডুবে আছে। গাছপালা ভেঙে গেছে। পানির তোড়ে বিভিন্ন স্থাপনায় ফাঁটল ধরেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের চর্তুপাশে ভাঙন ধরেছে। বিভিন্ন অংশ দিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত টানা চার দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সোমবার ২৮ জুলাই স্থানীয়দের বিষয় মাথায় রেখে ৭০ যাত্রী ও কিছু মালামাল নিয়ে ট্রলার চালু করা হয়। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলার চলাচল করতে বেশ কষ্ট হয়েছিল। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পৌঁছায় ট্রলার।
সেন্টমার্টিন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দ্বীপের বাসিন্দাদের খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংকটে ভুগতে হয়। এখন নৌযান বন্ধ থাকায় বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এভাবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চরম কষ্ট ও দুর্ভোগে পড়বে দ্বীপের ১২ হাজার মানুষ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম বলেন, অমাবস্যার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তত ১৫-২০টি ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানিতে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতির শিকার হয়েছে ১১ টি হোটেল রিসোর্ট। এতে দ্বীপবাসীর ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে নৌযান চলাচলে বাঁধা থাকায় সেন্টমার্টিন বাজারে সরবরাহকৃত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এভাবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চরম খাদ্য সংকটে ভুগবে দ্বীপের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই দিনে জোয়ারের পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সেন্টমার্টিনের চারপাশ। সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে হলে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, জোয়ারের পানির আঘাতে যে হোটেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই হোটেলগুলো মূলত সরকারি অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া কয়েকটা হোটেলের বিরুদ্ধে বালিয়াড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির আঘাতে বেশ কিছু হোটেল এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুনেছি। বিষয়টি আমরা দেখছি, এব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিটি/ আরকে
Tags: ঘরবাড়ি, রিসোর্ট, সেন্টমার্টিন