1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
সাপের কামড় ও আরশোলার দুধ: মানবজাতির বড় বড় প্রশ্নের উত্তর দিলেন ‘ইগ নোবেল’ বিজয়ীরা কী আছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আইফোন ডুওতে? জালিয়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন পুতুল মেসি যখন সময়ের গতি বদলে দেন বিশ্বকাপ ২০২৬: মুসলিম ফুটবলাররা যেভাবে ইউরোপের পরিচয়–বিতর্ককে চ্যালেঞ্জ করছেন বাংলাদেশ–রাখাইন সীমান্তে নতুন বাস্তবতা অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ জিতে সেমিতে আর্জেন্টিনা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী ইইউ’র কারিগরি দল বাংলাদেশে আসছে শিগগিরই ইরানে নতুন যৌথ হামলা চালাতে ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় নেতানিয়াহু বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

সাপের কামড় ও আরশোলার দুধ: মানবজাতির বড় বড় প্রশ্নের উত্তর দিলেন ‘ইগ নোবেল’ বিজয়ীরা

রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রতি বছর এমন কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হয়, যেগুলো প্রথমে শুনলে অদ্ভুত বা মজার মনে হয়। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, এসব গবেষণার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন রয়েছে।

এ ধরনের অদ্ভুত কিন্তু সত্যিকারের গবেষণার জন্য দেওয়া হয় ‘ইগ নোবেল পুরস্কার’। এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো—এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দেওয়া, যা প্রথমে মানুষকে হাসায়, পরে চিন্তা করতে বাধ্য করে।

২০২৬ সালে কোনো একটি গবেষণাকে সেরা ঘোষণা করা হয়নি। বরং সমানভাবে মজার ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্বসম্পন্ন ১০টি গবেষণা দলকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কয়েকটি গবেষণা বিশেষভাবে মজার ও আকর্ষণীয়।

তেলাপোকার দুধ কি গরুর দুধের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর?
তেলাপোকা সাধারণত আমাদের কাছে বিরক্তিকর একটি পোকা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তেলাপোকার একটি বিশেষ প্রজাতি নিয়ে এমন গবেষণা করেছেন, যা বেশ অবাক করার মতো। গবেষণাটি করা হয়েছে ‘ডিপ্লোপ্টেরা পাংটাটা’ নামের এক ধরনের তেলাপোকা নিয়ে। এটি মূলত হাওয়াই অঞ্চলে পাওয়া যায়।

এই তেলাপোকা অন্য বেশিরভাগ তেলাপোকার মতো ডিম পাড়ে না। এর বাচ্চারা মায়ের শরীরের ভেতরের একটি বিশেষ থলিতে বেড়ে ওঠে। সেখানে তারা মায়ের শরীর থেকে পাওয়া বিশেষ ধরনের তরল খাবার খায়।

এই তরলের মধ্যে প্রোটিন, চর্বি ও চিনি থাকে। বাচ্চার অন্ত্রে যাওয়ার পর এই উপাদানগুলো ছোট ছোট স্ফটিক বা ক্রিস্টালের মতো আকার নেয়। পরে সেগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে বাচ্চাকে খাবার সরবরাহ করে।

অর্থাৎ, এটি দেখতে মানুষের পরিচিত দুধের মতো না হলেও বাচ্চাদের পুষ্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে দুধের মতোই কাজ করে।

তাহলে তেলাপোকার ‘দুধ’ কতটা পুষ্টিকর? গবেষকদের মতে, সমপরিমাণ হিসেবে এই তেলাপোকার দুধে থাকা প্রোটিনের পুষ্টিমান গরু বা মহিষের দুধের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হতে পারে।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা তেলাপোকার দুধে থাকা বিশেষ প্রোটিনের ক্রিস্টালকে খুব সূক্ষ্ম বা পারমাণবিক পর্যায়ে পরীক্ষা করেছেন। এই কারণেই গবেষণাটি রসায়ন বিভাগে ‘ইগ নোবেল পুরস্কার’ পেয়েছে।

তবে এর মানে এই নয় যে, এখন আমাদের তেলাপোকার দুধ খাওয়া শুরু করা উচিত! তেলাপোকার দুধকে ‘সুপারফুড’ বানানোর ধারণা মূলত মজার কথা। বাস্তবে বিপুল পরিমাণ তেলাপোকা পালন করে এই দুধ সংগ্রহ করা কতটা সম্ভব বা কার্যকর—তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

সাপ কখন মানুষকে কামড়াতে পারে?
এবার আসা যাক আরও অদ্ভুত একটি গবেষণায়। একদল গবেষক জানতে চেয়েছিলেন—বিষধর সাপ কখন মানুষকে কামড়ানোর সম্ভাবনা বেশি?

এই প্রশ্নের উত্তর বের করতে তারা বিষধর সাপের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষণায় বিভিন্ন বিষধর সাপের শরীরের বিভিন্ন অংশের কাছে পা রাখার পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছিল। তারা প্রায় ৪০,০০০ বার পরীক্ষা চালান এবং ১১৬টি পিট ভাইপার সাপ নিয়ে গবেষণা করেন।

গবেষণায় দেখা যায়-
সাপের মাথার ওপর পা পড়লে কামড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি-প্রায় ৪৪%। সাপের শরীরের ওপর পা পড়লে সম্ভাবনা প্রায় ২০%। সাপের লেজের দিকে পা পড়লে সম্ভাবনা প্রায় ১১%। সাপের একেবারে কাছাকাছি গেলেও কামড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

গবেষকরা আরও দেখতে পান, ছোট ও কম বয়সী সাপ তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারে।

এই গবেষণা কেন বিতর্কিত?
গবেষণাটি ২০২৪ সালে প্রকাশিত হলেও পরে ২০২৫ সালে জার্নালটি গবেষণাটি প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ ছিল গবেষণার নৈতিক অনুমোদন নিয়ে সমস্যা। গবেষণার সময় সাপের ওপর যে ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছিল, বিশেষ করে ‘সফট স্টিপিং’ বা পা দিয়ে চাপ দেওয়ার পদ্ধতি, সেটি অনুমোদনের মধ্যে ছিল না।

তাই গবেষণাটি নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন ওঠে।

তারপরও ২০২৬ সালের ‘ইগ নোবেল বাইওলোজি পুরস্কার’ এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের দেওয়া হয়। তবে এই গবেষণা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা খুব সহজ:

সাপের ওপর কোনোভাবেই পা দেওয়া উচিত নয়।

চুম্বন আসলে কী?
‘ইগ নোবেল’-এর আরেকটি মজার গবেষণা ছিল চুম্বনের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা নিয়ে।

গবেষকরা চুম্বনকে একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। সহজ ভাষায়, তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী চুম্বন হলো—দুই প্রাণীর মধ্যে এমন এক ধরনের মুখে-মুখে যোগাযোগ, যেখানে ঠোঁট বা মুখের অংশ নড়াচড়া করে এবং খাবার আদান-প্রদান হয় না।

মজার বিষয় হলো, এই সংজ্ঞা শুধু মানুষের ক্ষেত্রে নয়। গবেষকদের মতে, প্রাণীদের মধ্যেও এ ধরনের আচরণ দেখা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তারা মানুষ, পাখি, মেরু ভালুক এমনকি পিঁপড়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। এই গবেষণার জন্য তারা জীবযান্ত্রিকবিদ্যা বিভাগে ‘ইগ নোবেল পুরস্কার’ পেয়েছেন।

ধনী মানুষ কি বেশি অনৈতিক আচরণ করে?
আরেকটি গবেষণা ছিল সমাজ ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে মানুষের আচরণের সম্পর্ক নিয়ে।

গবেষক পল পিফ এবং তার সহকর্মীরা ২০১২ সালে একটি গবেষণায় দেখানোর চেষ্টা করেন যে, উচ্চ সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণির মানুষ কিছু পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি অনৈতিক আচরণ করতে পারে।

তারা কয়েকটি আলাদা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

  • তাদের গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ সামাজিক শ্রেণির কিছু মানু-
  • আলোচনায় মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী হতে পারে
  • প্রতিযোগিতায় প্রতারণা করতে পারে
  • অন্যের মূল্যবান জিনিস নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে
  • রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় অন্যদের তুলনায় বেশি স্বার্থপর আচরণ করতে পারে।

গবেষকদের মতে, এর একটি কারণ হতে পারে লোভ বা অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব। অর্থাৎ, মানুষের কাছে যত বেশি সম্পদ থাকে, কিছু ক্ষেত্রে তার মধ্যে ‘আমার আরও চাই’ ধরনের মানসিকতা তৈরি হতে পারে—এমনটাই গবেষণার একটি ব্যাখ্যা।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, সব ধনী মানুষ খারাপ বা অনৈতিক। গবেষণাটি একটি সাধারণ প্রবণতা বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আচরণের পার্থক্য নিয়ে ছিল।

এই গবেষণার জন্য অর্থনীতি বিভাগে ‘ইগ নোবেল পুরস্কার’ দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের অনুষ্ঠানের বিশেষ বিষয়
২০২৬ সালের ‘ইগ নোবেল পুরস্কার’ অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল ছত্রাক। তবে মজার বিষয় হলো, পুরস্কার পাওয়া গবেষণাগুলোর সঙ্গে ছত্রাকের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।

পুরস্কারের ট্রফির নকশাও ছিল বেশ অদ্ভুত। এটি দেখতে অনেকটা মাশরুম বা ছত্রাকের মতো, যা একটি নকল মানুষের পায়ের ওপর তৈরি করা হয়েছিল। পায়ের আঙুলের মাঝেও ছোট ছোট মাশরুমের আকৃতি ছিল। পুরস্কারটি আবার এমন একটি ভিত্তির ওপর রাখা হয়েছিল, যা দেখতে নীল পনিরের মতো।

অনুষ্ঠানের আরেকটি মজার বিষয় হল-‘ইগ নোবেল পুরস্কার’ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের বক্তব্য খুব বেশি দীর্ঘ হতে দেওয়া হয় না।

আয়োজকদের মতে, বিজয়ীদের বক্তব্য খুব সংক্ষিপ্ত ও মজার ছিল। বক্তব্যের সময়সীমা ঠিক রাখতে তিনজন ব্যক্তি কলা বা বেনানা-এর পোশাক পরে সময় নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

প্রত্যেক বিজয়ীকে আরও একটি মজার পুরস্কার দেওয়া হয়-জিম্বাবুয়ের ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি নোট। এই বিশাল অঙ্কের নোটের প্রকৃত মূল্য অবশ্য খুব বেশি নয়। সংগ্রহযোগ্য জিনিস হিসেবে ইন্টারনেটে বিক্রি করলে হয়তো প্রায় ২০ ডলার পাওয়া যেতে পারে।

২০২৬ সালের ‘ইগ নোবেল পুরস্কার’-এর গবেষণাগুলো শুনতে অনেকটা হাস্যকর বা অদ্ভুত মনে হলেও এগুলো আসলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা। যেমন-

  • তেলাপোকার দুধ-এর পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা
  • সাপ- কখন মানুষকে কামড়ানোর সম্ভাবনা বেশি তা নিয়ে গবেষণা
  • চুম্বন-চুম্বনের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা নির্ধারণ
  • ধনী মানুষ- সামাজিক শ্রেণি ও অনৈতিক আচরণের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা

‘ইগ নোবেল পুরস্কার’-এর বিশেষত্ব হলো-গবেষণাগুলো মানুষকে প্রথমে হাসায়, কিন্তু পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। আর সাপের গবেষণা থেকে সবচেয়ে সহজ ও বাস্তব শিক্ষা হলো: সাপকে বিরক্ত করবেন না এবং কখনো সাপের ওপর পা দেবেন না।

সূত্র: হারেৎজ

Tags: , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT