বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি মে মাসে রেকর্ড ৯.০৫ শতাংশ ছিল।
খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় শ্রেণীর মূল্য হ্রাসের ফলে গত জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭.৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মে মাসের তুলনায় ১.২ শতাংশ কম।
খাদ্যবহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতিও জুন মাসে ৯.৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। মে মাসে ছিল ৯.৪২ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাসের জন্য আলু, পেঁয়াজ এবং ডিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম হ্রাসকে দায়ী করেছেন।
তবে, তারা সতর্ক করে বলেছেন যে এই স্বস্তি সাময়িক হতে পারে, কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে অনেক অঞ্চলে ভোক্তা খাদ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চালের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, “হ্যাঁ, আমরা খাদ্যপণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখতে পাচ্ছি, তবে তা টিকবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে মোটা জাতের চালের দাম বেশ কয়েকটি জেলায় বাড়ছে এবং এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) খাদ্য উপাদানে চালের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি এই প্রধান পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।”
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেসবুক বার্তায় বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সুচিন্তিত নীতি–কৌশলের ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমছে। জুন (২০২৫ সাল) মাসের উপাত্ত অনুযায়ী পয়েন্ট–টু–পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় ২ শতাংশ পয়েন্ট কম।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পেতে শুরু করেছে এবং আগামী দিনে তা খুব দ্রুত কমে আসবে।”
বিটি/ আরকে
Tags: চালের দাম, মূল্যস্ফীতি