মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কারাগারে বন্দি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নেত্রী অঙ সান সু চির মুক্তি নিশ্চিতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁর ছোট ছেলে কিম এরিস।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী সু চি জীবনের প্রায় ১৯ বছর বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন—প্রথমে গৃহবন্দি আর বর্তমানে কারাগারের একক সেলে। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি, যা তার অনুপস্থিতিতে ছেলে কিম এরিস গ্রহণ করেন।
জনজীবন থেকে দূরে থাকা এরিস (৪৮) সাধারণত প্রচারবিমুখ হলেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মায়ের শারীরিক অবস্থা ও বন্দিজীবনের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে মুখ খুলেছেন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কিম এরিস জানান, তিনি চান কারাগারে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সু চির সম্পর্ক সেনাপ্রধান মিন অঙ হ্লাইয়ের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক ছিল।
এরিস বলেন, সু চি ও তার দল এনএলডি’র সঙ্গে চীনের একসময় ভালো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল, যা সু চি নিজেই গড়ে তোলেন এবং তা দেশের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন।
তিনি আরও বলেন, “বার্মার (মিয়ানমারের) পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল। চীন বার্মার সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে এগিয়ে যেতে পারত এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারত।”
এরিস সতর্ক করে বলেন, জান্তার সমর্থনে গড়ে ওঠা প্রতারণামূলক কার্যক্রম এখন চীনের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠনে চীনের ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শেষে এরিস বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, মিয়ানমারের সংকট সমাধানের পূর্বশর্ত হচ্ছে আমার মায়ের মুক্তি।”
বিটি/ আরকে