পাকিস্তানের পার্লামেন্ট দেশটির সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী পাস করেছে। এই বিতর্কিত সংশোধনী দেশটির সেনাপ্রধানের ক্ষমতা আরও বাড়াবে। এর মাধ্যমে তাকে আজীবন আইনি দায়মুক্তি দেবে। একই সঙ্গে এটি সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতাও সীমিত করবে। সমালোচকেরা একে গণতন্ত্রের মৃত্যু বলছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি তথা জাতীয় পরিষদে বিলটি পাস হয়। পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই ২৭ তম সংশোধনীর প্রধান উপকারভোগী।
বিলে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে সেনাবাহিনীর প্রধান একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে, এই ধারার অধীনে তার মেয়াদ উল্লিখিত পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে গণনা শুরু হবে।
এছাড়া, সরকার সেনাপ্রধান ও সিডিএফের দায়িত্ব, কার্যাবলী ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ করবে। এর মধ্যে বহুমাত্রিক সমন্বয়, প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ যৌথ কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্পর্কিত দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেলদের মধ্য থেকে জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের প্রধান নিয়োগ দেবেন তিন বছরের জন্য। তা করা হবে সেনাপ্রধান ও সিডিএফের সুপারিশের ভিত্তিতে। জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের কমান্ডারের চাকরির শর্তাবলি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারাই নির্ধারিত হবে। এই পদে নিয়োগ পাওয়া জেনারেল তিন বছরের একটি অতিরিক্ত মেয়াদও পেতে পারেন- যা প্রধানমন্ত্রী সময় সময় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন।
বুধবার নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দুই ধাপে ২৩৪ ভোটে পাস হয় ২৭তম সংশোধনী। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র চারটি। এর আগে সোমবার, বিরোধীদের বয়কটের পরও উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হয় বিলটি। পরে বিলটি আবার সিনেটে পাঠানো হয়। সেখানে আরেক দফা পরিমার্জনের পর আবারও ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয় সংশোধনীটি।
এরপর প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেন তা প্রণয়ন করা হয়। সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীতে নতুন সৃষ্ট প্রতিরক্ষা প্রধান পদের মাধ্যমে আজীবন সুরক্ষা দেয়া হবে সেনাপ্রধানকে এবং দায়িত্বে থাকাকালীন যে কোনো ফৌজদারি মামলা থেকে দায়মুক্তি পাবেন।
প্রতিরক্ষা প্রধানের অধীনে থাকবে নৌ ও বিমানবাহিনী। বিলটি এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিলটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ভঙ্গুর গণতন্ত্র থেকে পুরোদস্তুর সামরিক শাসনের দিকে চলে যেতে পারে পাকিস্তান। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বৃদ্ধি পাবে সামরিক প্রভাব।
সাংবিধানিক আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই সংশোধনী ‘পাকিস্তানের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ধারণাটিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি কার্যত আজীবন একনায়কতন্ত্রের পথে হাঁটছে।’
বিরোধীরা বলছেন, এই আইন সামরিক শাসনকে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে এবং পাকিস্তানকে পূর্ণ কর্তৃত্ববাদে ঠেলে দিচ্ছে। বিরোধীদলগুলো বলেছে, সরকার বিলটি খুব দ্রুত পাস করাতে চাইছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর ব্যাপ্তি নিয়েও তারা নাখোশ।
বিটি/ আরকে
Tags: military coup, Pak army chief, Parliamentary 'crew', পাকিস্তান, পাকিস্তান পার্লামেন্ট, পাকিস্তান সেনাপ্রধান