1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস: কতটা চিন্তার কারণ? লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে যা জানা জরুরি

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতে সম্প্রতি প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা ও স্ক্রিনিং জোরদার করা হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে—এই ভাইরাসটি ঠিক কতটা বিপজ্জনক এবং এটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিই বা কতটুকু?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যের ভিত্তিতে নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।

নিপাহ ভাইরাস আসলে কী?
নিপাহ হলো একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাস, যা মূলত প্রাণী (বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড়) থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার এলাকাভেদে ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত হতে পারে। এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় এটি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত।

এটি কতটা সাধারণ?
১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতে এর ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই)-এর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৭৫০ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪১৫ জনই মৃত্যুবরণ করেছেন।

সংক্রমণ ছড়ায় কীভাবে?
নিপাহ ভাইরাস প্রধানত দুটি উপায়ে ছড়ায়:

সংক্রামিত প্রাণীর মাধ্যমে: সাধারণত আক্রান্ত বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব লেগে থাকা ফল অথবা কাঁচা খেজুরের রস পান করলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া আক্রান্ত শুকরের সংস্পর্শ থেকেও এটি ছড়াতে পারে।

মানুষ থেকে মানুষে: আক্রান্ত রোগীর খুব কাছাকাছি থাকা পরিবার বা সেবাদানকারীদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এটি কোভিডের মতো খুব দ্রুত বা সহজে বাতাসে ছড়ায় না।

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণসমূহ
নিপাহ ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ জ্বরের মতোই, যা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
১.তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা।

২. শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসের জটিলতা।

৩. মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস, যা রোগীকে তন্দ্রাচ্ছন্ন বা বিভ্রান্ত করে তুলতে পারে।

৪.মারাত্মক পর্যায়ে খিঁচুনি এবং রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।

আমরা কতটা উদ্বিগ্ন হব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক হলেও এটি বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। কারণ এটি মানুষের মধ্যে খুব দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং খুব একটা কার্যকর নাও হতে পারে, কারণ এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (আক্রান্ত হওয়ার পর লক্ষণ প্রকাশের সময়) বেশ দীর্ঘ।

টিকা বা চিকিৎসা কী আছে?
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ নেই। তবে আশার কথা হলো, বেশ কিছু টিকা বর্তমানে গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি টিকা তৈরি করেছেন (যা কোভিড ভ্যাকসিনের প্রযুক্তিতে তৈরি), যার দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)-এর সহযোগিতায় শুরু হয়েছে।

সতর্কতা: এই সময়ে কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকুন এবং পাখি বা বাদুড়ের খাওয়া ফল এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ রোগীর সেবা করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

বিটি/ আরকে

Tags:

এই ধরনের আরও নিউজ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT