1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বেড়া দেওয়ার জন্য’ ভারত কেন কুমির এবং সাপের সাহায্য নিতে চাইছে? শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল ইসলামী ব্যাংক করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই ব্যবসাবান্ধব সংস্কার ও সহজ কর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি এনবিআর চেয়ারম্যানের লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম, নতুন দর ১৯৯ টাকা তিন বেতন কমিশন নিয়ে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার আগের দামেই ধান-চাল কিনবে সরকার বাসভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করবে সরকার

টোকিওতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন: ভাষা, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক সংহতির বার্তা

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জাপানের টোকিও শহরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি কাতসুশিকা সিটির মিজুমোতো লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ সেন্টারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটি’।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ডক্টর খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয় এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।

উদ্বোধনী পর্বে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, প্রবাসী বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং স্থানীয় অতিথিরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের লক্ষ্য শুধু ভাষা শহীদদের স্মরণ নয়, বরং ভাষা, সংস্কৃতি এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ডক্টর খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন আর শুধু একটি স্মরণ দিবস নয়, এটি বিশ্বব্যাপী মানুষের আত্মপরিচয়, অধিকার এবং মর্যাদার প্রতীক। তিনি বলেন, “ভাষা মানুষের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। ভাষার অধিকার রক্ষা মানে মানুষের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষা করা।”

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্টার্টআপ প্রদর্শনী, মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এমইউএন), ফ্যাশন শো এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্টার্টআপ প্রদর্শনীতে ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মডেল ইউনাইটেড নেশনস পর্বে তরুণ প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানবিক সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শো, যেখানে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শন করা হয়। এতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক পোশাকও স্থান পায়। আয়োজকরা বলেন, পোশাক একটি জাতির সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিকেলে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় বাংলাদেশ, জাপান এবং অন্যান্য দেশের শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পরিবেশনায় বাংলা গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা স্থান পায়। এতে উপস্থিত দর্শকরা ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য উপভোগ করেন।

আলোচনা পর্বে বক্তারা মাতৃভাষা সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মানবিক সংকটের বিষয়েও মতামত দেন। তারা ভাষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের ধারক।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, বিদেশে বসবাস করলেও মাতৃভাষা এবং দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করে।

একজন প্রবাসী অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে চাই। এই ধরনের অনুষ্ঠান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং অনুপ্রেরণার উৎস।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আন্তর্জাতিক নৈশভোজ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের মাধ্যমে তারা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংহতি বৃদ্ধি করতে চান।

ডক্টর খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম বলেন, ভবিষ্যতেও তারা আরও বৃহৎ পরিসরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষা সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এ দিবস পালিত হয় এবং পরবর্তীতে UNESCO দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিবস পালিত হচ্ছে।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আবেগ এবং সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা মনে করেন, ভাষার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সংযোগ এবং সংহতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Tags: ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT