আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার ইতিবাচক এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় নিবন্ধন বাতিল করেছে। ফলে দলটি আইনগতভাবেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার এবং এতে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, সরকার তার দেশে ফেরাকে স্বাগত জানায়। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দলটি যে পরিমাণ ও ধরনের নিরাপত্তা চাচ্ছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সরকার তদারকি করছে। সরকারের কাছে যে সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে, তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, এ ঘটনায় সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও ভিজ্যুয়াল প্রমাণের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন—মামলাটির বিচার দ্রুত বিচার আইনের আওতায় সম্পন্ন করা হবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য বড় ধর্মীয় উৎসবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।
এ ছাড়া ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ঘটনাসংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ ও ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান প্রেস সচিব।
Tags: তারেক রহমান, প্রেস সচিব