ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সরাসরি হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানে—খুবই সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে।’
এ হামলার পর ইরানকে আবারও হুমকি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হয় শান্তি আসবে, নয়তো ইরানের জন্য গত আট দিনে আমরা যা দেখেছি তার চেয়েও অনেক বড় ট্র্যাজেডি হবে।’
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে চালানো এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান অংশ নিয়েছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের B-2 Spirit স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো মিসৌরির হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেস থেকে ফ্লাই করে, মাঝ আকাশে KC-135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার থেকে জ্বালানি নিয়ে ইরানের গভীরে প্রবেশ করে। আমেরিকা B-57 ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (MOP) ব্যবহার করেছে— এগুলো একটি ৩০,০০০ পাউন্ডের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা, যা ফোর্ডোর মতো ১০০-৩০০ ফুট গভীরে অবস্থিত স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম। নাতানজ ও এসফাহানে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৩০ টি টমাহক ক্রুজ মিসাইল।
আরও জানা গেছে, ফোর্ডো হচ্ছে ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট সাইট। একাধিক GBU-57 বোমা ফেলা হলেও, এর গভীর ভূগর্ভস্থ কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন। তবে, এর কার্যক্রম ২-৩ বছর পিছিয়ে গেলো। এমন হামলার পর ইরান হয়তো এবার পারমাণবিক বোমা বানানোর প্রয়োজনীয়তা আরও ত্বরান্বিত করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
নাতানজ ইসরায়েলের পূর্ববর্তী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আর এবার এই স্থাপনায় আমেরিকার বোমা আরও বেশি ক্ষতি করেছে। এসফাহান পারমাণবিক গবেষণা ও ইউরেনিয়াম রূপান্তর স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, কত দূর রেডিয়েশন লিক হয়েছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ইরান ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে, এই স্থাপনাগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় বেসামরিক হতাহত কম হতে পারে।
হামলার বিষয়ে ইরানের সাংসদ সাবেতি বলেছেন, “ফোরডোতে মার্কিন হামলার ফলে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আসলে ডাইভারশন, আসল বিষয়টি হল “আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সাথে যুদ্ধে প্রবেশ করেছে” এবং ইরান যদি এর বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া না দেখায়, তাহলে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে।”
Tags: ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ, ডোনাল্ড ট্রাম্প