1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
মেসি যখন সময়ের গতি বদলে দেন বিশ্বকাপ ২০২৬: মুসলিম ফুটবলাররা যেভাবে ইউরোপের পরিচয়–বিতর্ককে চ্যালেঞ্জ করছেন বাংলাদেশ–রাখাইন সীমান্তে নতুন বাস্তবতা অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ জিতে সেমিতে আর্জেন্টিনা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী ইইউ’র কারিগরি দল বাংলাদেশে আসছে শিগগিরই ইরানে নতুন যৌথ হামলা চালাতে ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় নেতানিয়াহু বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ইরানের ‘জানাজা কূটনীতি’: কোরআনের আয়াতে আয়াতে মিত্র-প্রতিদ্বন্দ্বীদের বার্তা মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার কেপ ভার্দের রূপকথার ইতি টেনে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা

ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ: ট্রাম্পের হুমকি ও বাস্তবতার কঠিন সমীকরণ

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিচ্ছেন। ইরানের শাসকগোষ্ঠী যখন গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ জনরোষ ও বিক্ষোভের মুখে রয়েছে, তখন ট্রাম্পের এই বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনে একটি পুরনো প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে—ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপ আসলে দেখতে কেমন হবে? বিশেষ করে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিগত দিনের পদক্ষেপগুলো খুব একটা সফল হয়নি।

প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাব সত্ত্বেও, পেন্টাগন এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে কোনো বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেনি। আমেরিকার উপসাগরীয় মিত্ররা, যারা গত বছরের ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তারাও ইরানে হামলার জন্য নিজেদের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেকোনো মার্কিন সামরিক হামলা শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ইরান সরকারকে অভ্যন্তরীণ জনমত গঠনে সহায়তা করবে। এটি চলমান বিক্ষোভকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে আঞ্চলিক জোটকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

লজিস্টিক বা কৌশলগত সংকট
ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বললেও ওই অঞ্চলে কোনো আগাম সামরিক প্রস্তুতি বা রসদ সাজানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ওই অঞ্চল থেকে উল্টো সেনা কমানো হয়েছে, যা সামরিক বিকল্পগুলোকে আরও সংকুচিত করে দিচ্ছে।

গত অক্টোবর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কোনো বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গত গ্রীষ্মে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল এবং ইউএসএস নিমিটজ শরতের দিকে মার্কিন পশ্চিম উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, ইরানের লক্ষ্যবস্তু বা সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ওপর কোনো হামলা চালাতে হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিমানঘাঁটিগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে। সেক্ষেত্রে কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবের (এমনকি সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ আক্রোতিরি ঘাঁটি) অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি এসব দেশ ও ঘাঁটিকে ইরানের পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা করার কঠিন দায়িত্বও নিতে হবে আমেরিকাকে।

দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে গত জুন মাসে ফোরদোর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো হামলার মতো কোনো দূরপাল্লার অভিযান। কিন্তু জনবহুল শহুরে এলাকায় এমন হামলা বড় ধরনের প্রাণহানি ও বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইরানের পাল্টা আঘাতের ক্ষমতা
আমেরিকা তার মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার না করলেও, ইরান হুমকি দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা হলে তারা ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলোতে আঘাত হানবে। যদিও ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও তেহরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি রয়েছে। তাদের প্রধান উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো পাহাড়ের নিচে সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ২,০০০ ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা একসাথে নিক্ষেপ করলে মার্কিন বা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ
আমেরিকার জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হলো সঠিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা। যদিও শাসকগোষ্ঠীর সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করা কঠিন নয়, কিন্তু বর্তমান বিক্ষোভ এবং তার ওপর সরকারের দমন-পীড়ন পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শহুরে এলাকায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং এবং এতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের চরম ঝুঁকি থাকে।

রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৯৫৩ সালের সিআইএ সমর্থিত অভ্যুত্থানসহ মার্কিন হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাসকে পুঁজি করে ইরান সরকার যেকোনো হামলাকে তাদের টিকে থাকার লড়াই হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। খামেনি সরকার সাধারণ মানুষের কাছে এই মুহূর্তে অজনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু তারা মোটেও দুর্বল নয়; গত জুন মাসে ইসরায়েলের টানা আক্রমণ তারা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট রোক্সেন ফারমানফারমাইয়ান দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “ইরানে সরকার, সামরিক বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী সংহতি রয়েছে। সরকার এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের কোনো ‘রেড লাইন’ নেই; তারা যেকোনো মূল্যে সীমান্ত এবং রাস্তাঘাট নিয়ন্ত্রণে রাখবে।”

এমনকি আমেরিকা যদি সরাসরি খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্ম দেবে। এছাড়া এতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও কম, কারণ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ইতিমধ্যেই তিন শীর্ষ ধর্মীয় নেতার একটি তালিকা চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান, এএফপি, এনডিটিভি

Tags: , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT