নতুন করে ১৩৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় যুক্ত করে ২৯৫টি ওষুধ জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এসময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কিত একটা গাইডলাইন- দুটোই নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮২ সালে একটা ওষুধ নীতি তৈরি হয়েছিল, যেটা বাংলাদেশের ওষুধ খাতকে স্বাবলম্বী হতে, সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান রক্ষার্থে একটা বিরাট অবদান রেখেছে।’
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘সেই সময়ে বাজারে ৩৫০ ওষুধ ছিল। তার মধ্যে ১১৭টি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এরপর গত প্রায় ৩০ বছর যাবৎ এই পদ্ধতি অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে এই তালিকার বা বহির্ভূত ওষুধগুলো পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে। এই মুহূর্তে ১১৭ এর বাইরে প্রায় ১৩০০ ওষুধ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অত্যাবশ্যকীয় না এমন আরও ১১০০ ওষুধের দামের সীমানা নির্ধারণ করবে সরকার। সেক্ষেত্রে সরকারের বেধে দেওয়া দামের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে ওষুধ কোম্পানিগুলো। তবে এই ওষুধগুলোর দাম কার্যকরে চার বছর সময় বেধে দিয়েছে সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধের দাম সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধের আবেদন গ্রহণ করবে না সরকার।’
নতুন উৎপাদনে আসা ওষুধের ক্ষেত্রেও এ নীতিমালা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন সায়েদুর রহমান।
স্বাস্থ্য খাতে মানুষের ব্যয়ের দুই তৃতীয়াংশই আসলে ওষুধ খাতে ব্যয় করে উল্লেখ করে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এই ব্যয় কমানোর জন্য পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের মডেল কাজ করে। কোনো দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিট স্কিম, কোনো দেশে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, কোনো দেশে মেডিকেট মেডিকেয়ার অনেক রকম। বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো ইন্স্যুরেন্স অথবা এই ধরনের বেনিফিট স্কিম নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় বাংলাদেশে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের একটা রাষ্ট্রীয় ইন্টারভেনশন ছাড়া আসলে এটাকে মানুষের জন্য এফোরডেবল রাখা কঠিন হচ্ছিল।’
বিটি/ আরকে