বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে নতুন গতি দিতে ব্যবসায়িক ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকায়। কেয়ার বাংলাদেশ, লাইটক্যাসল পার্টনার্স এবং ডেভলার্ন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে কর্পোরেট, ব্যাংকিং, ও নীতিনির্ধারণী খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা একত্রিত হন। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল কীভাবে প্রথাগত কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মূলধারার ব্যবসার সঙ্গে সমন্বয় করা যায়।
সম্মেলনের প্রথম দিনে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান এবং কৃষিখাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে কেয়ার বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, “যখন দৃঢ় বিশ্বাসে গড়ে ওঠে পুঁজি, ঐতিহ্য মেশে প্রযুক্তির সাথে, আর লক্ষ্য থাকে বাজার সম্প্রসারণের, আমরা তখন শুধু উন্নয়ন নয় সমাজে একটি গভীর প্রভাব ফেলতে কাজ করি। এভাবেই শুধু সমাজ বা জাতি হিসেবে নয়- আমরা সকলে এগিয়ে নিয়ে যাই এই উদ্দেশ্যসমৃদ্ধ উন্নয়নকে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, যিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য রাজস্ব আদায়ের পুরোনো পদ্ধতি পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “উন্নয়ন বাজেটের একটা বড় অংশ এখনো বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু এখানে নতুন উপায় বের করার সুযোগ আছে। বেসরকারি খাতের পক্ষে বিদেশি অর্থায়ন জোগাড় করার সুযোগ অনেক। উন্নয়নখাতের ঘাটতি পুরণে এই সুযোগ অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।”
এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য এনজিও এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল সম্পর্ক তৈরি করা। কেয়ার বাংলাদেশ তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং যৌথ প্রকল্পে লাভ করার সামর্থ্যকে তুলে ধরেছে, যাতে তারা নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে “ইকোসিস্টেম ব্লুপ্রিন্ট : কোলাবোরেশন ফর আ সার্কুলার ফিউচার” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, এবং অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উন্নয়নখাতের নতুন বাস্তবতায় কার্যকর কিছু ধারণা এবং পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা ভবিষ্যতে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এমবেট মেনা বলেন, “তরুণদের এগিয়ে নিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি। সেজন্য কোম্পানি, সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থা সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “এভাবেই আমরা নিশ্চিত করতে পারি- দেশের কোনো তরুণ তরুণীই পিছিয়ে পড়বে না।”
বিটি/ আরকে
Tags: কেয়ার বাংলাদেশ, বেসরকারি খাত