1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

যুদ্ধের আর্থিক চাপ: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগ ফেরত নিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর নিজেদের বাজেটের ওপর চাপ কমাতে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিদেশি বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা করতে পারে বলে বৃহস্পতিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (FT) রিপোর্ট করেছে।

একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, “বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশ বর্তমান চুক্তিগুলোতে ‘ফোর্স মেজিউর’ (অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি) ধারা প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নির্ধারণ করতে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ফলে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক চাপ লাঘব করতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ওই কর্মকর্তার নাম বা পদবি প্রকাশ করেনি।

রয়টার্সের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উত্থান দীর্ঘকাল ধরে দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে টিকে ছিল: প্রথমত, তাদের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলো একটি অস্থির অঞ্চলের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়স্থল; এবং দ্বিতীয়ত, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি রপ্তানি থেকে সম্পদের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই দুটি ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, জাতীয় বাজেটের ওপর এই চাপ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে বিদেশি সরকার ও কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের অঙ্গীকার, খেলাধুলায় স্পনসরশিপ, ব্যবসায়িক চুক্তি এবং বিদ্যমান শেয়ার বা সম্পদ বিক্রির সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের চারটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে তিনটি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার—যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে কোন কোন দেশ এতে জড়িত ছিল, তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে রাজি হননি।

কর্মকর্তাটির মতে, এই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক চাপ কমানো, বিশেষ করে যদি যুদ্ধ এবং এর সংশ্লিষ্ট খরচ বর্তমান গতিতে অব্যাহত থাকে।

তিনি এই পর্যালোচনাকে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের বিপরীতে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জ্বালানি উৎপাদন হ্রাস বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে রাজস্ব কমে যাওয়া এবং পর্যটন ও বিমান চলাচলে ক্ষতির কারণে এই চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বর্ধিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ও এই বোঝাকে আরও ভারী করেছে।

একই রিপোর্টে এক উপসাগরীয় সরকারি উপদেষ্টা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ধনী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ পর্যালোচনার বিষয়টি ওয়াশিংটনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বের বৃহত্তম কিছু সার্বভৌম সম্পদ তহবিল (সভরেন ওয়েলথ ফান্ড) নিয়ন্ত্রণ করে। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অঞ্চলটি সফরের পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এছাড়া তারা বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর বড় স্পনসর এবং নিজেদের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণভাবেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য পশ্চিমা দেশে বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো পদক্ষেপ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা চালাতে বাধ্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধে তেল-সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলো আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে।

এই সংঘাত হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে সামুদ্রিক কার্যক্রমকেও ব্যাহত করেছে, যা বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং অন্তত ১০টি ট্যাংকার উপসাগরীয় অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের প্রধান এলএনজি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর উৎপাদন স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজিউর’ ঘোষণা করে। এদিকে সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগারও আক্রান্ত হয়েছে।

ইরান এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস, বিমানবন্দর, হোটেল এবং আবাসিক ভবনগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আগে উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ পিছিয়ে দিয়ে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে তারা এখন তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হচ্ছে।

বিশিষ্ট আমিরাতি ব্যবসায়ী খালাফ আল-হাবতুর সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় এই অঞ্চলের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি এক্সে লিখেছেন, “একটি সরাসরি প্রশ্ন: ইরানের সাথে আমাদের অঞ্চলকে যুদ্ধে টেনে আনার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? এবং কিসের ভিত্তিতে আপনি এই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিলেন? ট্রিগার টানার আগে আপনি কি এর আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভেবেছিলেন?”

তিনি আরও বলেন, গাজা পুনর্গঠন এবং ট্রাম্পের বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগে অর্থায়নে উপসাগরীয় দেশগুলো বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন যে, আরব দেশগুলো “স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে”। ফলে এই অর্থ শান্তির প্রচেষ্টায় ব্যয় হচ্ছে নাকি অঞ্চলকে বিপদে ফেলা কোনো যুদ্ধে অর্থায়ন করছে, তা জিজ্ঞাসা করার অধিকার তাদের রয়েছে।

বিটি/ আরকে

Tags: , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT