ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, সে বিষয়ে সম্ভাব্য তিনটি পথ বিশ্লেষণ করেছেন তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিসের জ্যেষ্ঠ গবেষক আব্বাস আসলানি।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, প্রতিক্রিয়াটি হতে পারে সীমিত। এর মাত্রা নির্ভর করবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের ওপর। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না, এটি কেবল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা নয়—এই হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ করল যুক্তরাষ্ট্র।‘
তিনি বলেন, ‘ইরান আগেই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা করলে তারা তার জবাব দেবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ইরান এখন প্রস্তুত।‘
আসলানি দ্বিতীয় যে দৃশ্যপটের কথা বলেছেন তা হল পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে বড় পরিসরে হামলা চালাতে পারে। লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাসহ আরো বিস্তৃত অঞ্চল। এ ধরনের সংঘাতে ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও জড়িত হতে পারে।‘
তৃতীয় ও শেষ সম্ভাব্য পথ হিসেবে আসলানি উল্লেখ করেছেন একটি ‘হাইব্রিড’ প্রতিক্রিয়ার কথা। তিনই বলেন, ‘এক্ষেত্রে ইরান কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে, যেমন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়া। এর ফলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।‘
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের মতো পদক্ষেপ শুধু তেল বাজার নয়, গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই বড় ধাক্কা দিতে পারে।
বিটি/ আরকে