শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে টানা সাত দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, ঈদের দিন ছাড়া বাকি ছুটির দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে টানা সাত দিনের এই ছুটিতে বন্দর কার্যত বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার থেকে অফিস খোলার পর পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে এনবিআরের কাস্টমস নীতি শাখার দ্বিতীয় সচিব রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটির মধ্যেও সীমিত আকারে কাস্টমস কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। শুধু ঈদের দিন ছাড়া অন্য সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের ছুটিতেও অন্যান্য কাস্টমস হাউসের মতো বেনাপোল কাস্টমস হাউজে সীমিত আকারে কার্যক্রম চলবে। তবে ঈদের দিন সব শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকবে।
তবে বেনাপোল কাস্টমসের সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে কর্মচারীদের কাজ করার আগ্রহ কম থাকে। ফলে ছুটির সময়ে বাস্তবে কতটা কাজ করা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে বন্দর ও শুল্কভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটির সময়েও কোনো আমদানিকারক চাইলে তাকে পণ্যের ডেলিভারি দেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যবাহী ট্রাকের জট বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ইতোমধ্যে অনেক ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কার্ত্তিক চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, বন্দরে জায়গা সংকট থাকায় ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁও টার্মিনালে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। এসব ট্রাক ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করবে, ফলে পেট্রাপোল এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমিতভাবে খোলা রাখা হবে। কোনো আমদানিকারক পণ্য নিতে চাইলে তাকে ডেলিভারি দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ছুটির সময় বন্দরে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিন-রাত টহল দেবে। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ছুটির মধ্যেও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে। ঈদের সময় যাত্রীদের ভিড় বাড়ে বলে ইমিগ্রেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট ‘কপোতাক্ষী এজেন্সিজ’-এর মালিক মশিয়ার রহমান মনে করেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই বন্দর দিয়ে। মাত্র সাত দিনের এলসিতে এখানে পণ্য আনা সম্ভব।
এছাড়া বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার হওয়ায় প্রায় আড়াই ঘণ্টায় পেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছানো যায়। এ কারণে অনেক আমদানিকারক পণ্য আনার জন্য বেনাপোল বন্দরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।
বিটি/ আরকে
Tags: আমদানি-রপ্তানি, ঈদ, কাস্টমস, বেনাপোল