যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মুদ্রানীতি ও মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতির বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় থাকায় এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ রাখতে ঋণ গ্রহণের খরচে পরিবর্তন আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে ফ্রান্সের বন্ডবাজারে অস্থিরতার কারণে ব্যাংকটির সিদ্ধান্তের চেয়ে ওই পরিস্থিতি বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে নেমে আসে। পাশাপাশি ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতনের চিত্র।
ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও আগামীতে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন সবার নজর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) দিকে, যা মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান জানিয়েছেন, পিসিইর তথ্য যদি প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়, তবে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে মূল্যস্ফীতি নতুন রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম এ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন হান তান। তবে এর মধ্যেই কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন, যা তেলের বাজারে সাময়িক প্রভাব ফেলেছে।
মূল্যবান ধাতুর বাজারে কেবল স্বর্ণ নয়, অন্যগুলোর দামও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ফ্রান্সের বন্ডবাজারের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
Tags: ফেডারেল রিজার্ভ, বিশ্ববাজার, মূল্যস্ফীতি, যুক্তরাষ্ট্র, স্বর্ণের দাম