কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার ১৮টি থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ৩৫১ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মুচলেকা নিয়ে ২১৯ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উঠতি বয়সি কিশোরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান শুরু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশে এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকাসহ জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় কিশোর বখাটেদের উৎপাত দমনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে নতুন করে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। গত ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশের এই বিশেষ কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপ্রতিম হত্যার ঘটনার পর থেকে জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্কতা ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান চলাকালীন আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
Tags: অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা, কিশোর গ্যাং, কুমিল্লা, পুলিশ অভিযান