টাঙ্গাইলের আদালতে শিশু সাইফ আহমেদকে হত্যার দায়ে তার সৎমা সাবরিনা নাহার সিনথীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন, যা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। দণ্ডিত সিনথী রাজবাড়ীর পাংশার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিনের মেয়ে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডিত সিনথী (২৪) রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে। তাদের ঘরে সাইফ আহমেদ নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, টাঙ্গাইলের পশ্চিম কাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমনের সঙ্গে লিজার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর ২০১৮ সালে সিনথীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। টাঙ্গাইলের দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, টাঙ্গাইলের পশ্চিম কাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ইমন ২০০৯ সালে কালিহাতীর এলেঙ্গায় লিজা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সিনথীকে বিয়ে করেন ইমন।
এরপর ইমন দ্বিতীয় স্ত্রী সিনথীকে নিয়ে শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। অন্যদিকে, ১০ বছর বয়সী সাইফ তার দাদা সরোয়ার হোসেনের কাছে থাকত। ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে বাবা ইমন ছেলেকে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে সিনথী ওড়না দিয়ে সাইফের হাত-পা ও মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করেন। এরপর বালতিতে পানি ভরে তাতে মাথা ডুবিয়ে তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন ১৯ জানুয়ারি শিশুটির দাদা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে সিনথীকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২০ সালের ১৪ জুন পুলিশ এ ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। বুধবার আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণার পর তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারিক কার্যক্রমে আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে অংশ নেন অ্যাডভোকেট শেফালী আক্তার, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন। আসামির উপস্থিতিতেই বিচারক রায় পড়ে শোনান। একপর্যায়ে শিশু সাইফকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সিনথী।
Tags: অপরাধ, আদালত, টাঙ্গাইল, যাবজ্জীবন, শিশু হত্যা