গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে প্রাণ হারানো তৌফিক হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি মুঠোফোনে তৌফিকের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। পরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পোস্টে জামায়াত আমির আক্ষেপ করে লেখেন, অভাবের কারণে দুই ভাই একই কারখানায় কাজ করতেন। চোখের সামনে ভাইকে হারাতে দেখাটা বড় ভাইয়ের জন্য ছিল হৃদয়বিদারক। তৌফিক হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন, তাই ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথাটুকুও বলার সুযোগ হয়নি। তিনি জানান, তৌফিকের মৃত্যুর পর তার ১১ মাস বয়সী শিশু সিয়াম ও বিধবা স্ত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় সিয়ামের মা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, যা তাদের পারিবারিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তৌফিকদের নিজস্ব কোনো জমি নেই। বর্তমানে তারা স্বামীর চাচার ছোট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের এই করুণ দশা তাকে মর্মাহত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত জেনেও আমরা এ লড়াই চালিয়ে যাব। এই বিচারটুকু পেলে পরিবারটি অন্তত সান্ত্বনা পাবে।’
পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ জামায়াতে ইসলামী এই অসহায়দের দায়িত্ব নেবে। এদিকে, জামায়াত আমিরের সাথে কথা বলার সময় গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তৌফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
Tags: গাজীপুর, জামায়াতে ইসলামী, ডা. শফিকুর রহমান, তৌফিক হোসেন, শ্রমিক আন্দোলন