যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার পারদ কমাতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কাতার। তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে যেন তারা জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র পরিদর্শকদের তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেবে এবং দেশটির অবরুদ্ধ ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের একাংশ মুক্ত করে দেবে। শনিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যে বিষয়টি সামনে এসেছে। শনিবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
এই প্রস্তাবটি মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কায়রোতে হওয়া একটি প্রাথমিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা পরবর্তীতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই; এর পরিবর্তে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলার মতো বিকল্প কৌশলগুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এই ইস্যু নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে আমিরের কার্যালয় জানিয়েছে যে তিনি সংকট নিরসনে কূটনীতি ও সংলাপের পথ ধরে উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আমির ‘বিবাদ নিরসনে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ও কূটনীতির পথ অবলম্বনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।’। এই প্রতিশ্রুতিগুলো কোন ক্রমে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েই মূলত মধ্যস্থতার আলোচনা চলছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে যুদ্ধের সমাপ্তি, ইরানি উপকূল থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নিশ্চয়তা। এছাড়া, ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের রূপরেখা থাকলেও এই বিশাল অংকের অর্থের উৎস নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। বোঝাপড়ার স্মারকলিপিতে ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল গঠনের কথা ছিল, তবে এই তহবিলের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা কখনোই স্পষ্ট করা হয়নি।
ট্রাম্প এখনো ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ তার এ ধরনের হুমকির গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে যুদ্ধের আর্থিক প্রভাব বড় ভূমিকা রেখেছে। এদিকে ইরানও বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পারমাণবিক পরিদর্শক দলের প্রধান রাফায়েল গ্রোসির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলায় পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তেহরান কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে ইরানে তার হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা কমেছে।
Tags: ইরান, কাতার, ডোনাল্ড ট্রাম্প, পারমাণবিক চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালি