বাংলাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বিদ্যুৎ সংকটের মুখে জ্বালানি সমস্যা নিরসনে এক বিশাল সৌরশক্তি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌর প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানের ৫.৬ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
তাপদাহে বিপর্যস্ত এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জর্জরিত বাংলাদেশের জন্য এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ৫.৬ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণ হচ্ছে, যেখানে ভারতে এই হার ২৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৪০ শতাংশ। এই পিছিয়ে থাকাকে কাটিয়ে উঠতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব সরকারি অফিস, স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতালে অবিলম্বে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস জোর দিয়েছেন যে, এই সোলার প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতের ওপর ন্যস্ত করা হবে।
তিনি বলেন, “বেসরকারি খাত তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থেই সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনা করবে এবং সিস্টেমগুলো কার্যকর রাখবে। সরকার কেবল তাদের ছাদে প্রবেশাধিকার দেবে।”
এর আগে গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগটি মূলত ব্যর্থ হয়েছিল। এই নতুন পদ্ধতি সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও আগ্রহকে কাজে লাগাতে চাইছে।
এছাড়াও, সরকার ৫,২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই পদক্ষেপগুলি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রতিবেশী ভারত ও নেপালের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে, পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার সহায়তায় একটি ২,৪০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ২০১৭ সাল থেকে চলছে, যা সম্পূর্ণ চালু হলে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হবে। তবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর এই নতুন জোর দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি মিশ্রণে একটি টেকসই পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিটি/ আরকে
Tags: জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশ, সৌরশক্তি