ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এদিকে দেশটির এমন পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত মাসে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী সংঘাত হয় ইরানের। এ সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একদম দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় এ হামলা তেহরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)’র মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
গত ২৫ জুন সংঘাতে জড়ানো দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এর একদিন পরই আইএইএ-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার পক্ষে বিপুল ভোটে রায় দেন ইরানের আইনপ্রণেতারা।
ইরানের সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পর গার্ডিয়ান কাউন্সিল তা অনুমোদন করে এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিতাদেশ কার্যকর করেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই আইনের লক্ষ্য, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) অধীনে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিজস্ব অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করা, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর জোর দেয়া।
ইরানের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, আমরা এটিকে অগ্রহণযোগ্য বলব। এমন এক সময়ে ইরান আইএইএ-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যখন তাদের সামনে শান্তির ও সমৃদ্ধির পথে ফেরার সুযোগ ছিল।
আর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এই সিদ্ধান্তকে ‘স্পষ্টতই উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, পেন্টাগন বুধবার জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় চালানো হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা মূল্যায়নে এটিই দেখা গেছে।’
আইএইএ পরিদর্শকদের ইরানের ঘোষিত পরমাণু স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার থাকলেও, এই স্থগিতাদেশের কারণে তাদের বর্তমান অবস্থা অনিশ্চিত।
এ বিষয়ে গত রোববার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, পরিদর্শকদের কাজ স্থগিত করা হয়েছে, তবে তাদের বা আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসির বিরুদ্ধে কোনো হুমকির ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরো বলেন, পরিদর্শকরা ইরানে আছেন এবং নিরাপদ আছেন। কিন্তু তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং তারা আর আমাদের স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না।
নতুন আইনে স্থগিতাদেশের পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
দেশটির এক আইনপ্রণেতা আলিরেজা সালিমিকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা আইএসএনএ বলেছে, এখন থেকে পরিদর্শকদের পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশ করতে হলে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন লাগবে।
আরেক আইনপ্রণেতা হামিদ রেজা হাজী বাবাইকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা মেহর বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএ’র ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও এটি নতুন আইনের আওতায় আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিটি/ আরকে