বাংলাদেশ এখন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে, পাশাপাশি চলতি মাস ও আগামী মাসে আরও দুইটি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর শুল্ক সুবিধা হারানোর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে যত বেশি সম্ভব মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
২০২৬ সালের শেষের দিকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর অনেক উন্নত দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ)–এর ওপর আনুষ্ঠানিক আলোচনা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রথম দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের এফটিএ আলোচনা এই জুলাই মাসেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম রাউন্ডের আলোচনা মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে “কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট” (সিইপিএ)–এর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে এই মাসেই, বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এফইকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ইউএই মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে সিইপিএ আলোচনার অনুমোদন দিয়েছে।”
আগামী আগস্ট মাসে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এফটিএ আলোচনা শুরু করবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এফটিএ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। অবশেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম রাউন্ডের আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে।” বাংলাদেশ প্রতিবছর মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠায় এবং দেশটি থেকে ভোজ্যতেলসহ নানা পণ্য আমদানি করে।
আরেকজন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা আগামী মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, শুরুর দিকে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থার ১০টি সদস্য দেশ ও তাদের এফটিএ অংশীদারদের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি।
ওই কর্মকর্তা জানান, “সেই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালে ভারত বাংলাদেশকে আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে না যোগ দিতে অনুরোধ করেছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এ চুক্তিতে যোগদানের জন্য আবেদন করি এবং তারা তা গ্রহণ করেছে। এখন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।”
বিটি/ আরকে