1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলায় জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের কারণে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ফ্রানচেস্কা আলবানেজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় ইসরায়েলের হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়াই এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জাতিসংঘে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন ফ্রানচেস্কা আলবানেজ। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলবানেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফ্রানচেস্কা আলবানেজ জাতিসংঘে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েল ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা বহুদিন ধরেই আলবানেজকে তার পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে আলবানেজ এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি আল জাজিরাকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন দেশগুলোর প্রতি তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে— গণহত্যা বন্ধ ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, “মাফিয়া ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর কৌশলের বিষয়ে বলার কিছু নেই।”

বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের দায়ে আইসিসি’র ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের আকাশপথ ব্যবহার করছেন, যা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, “ইতালি, ফ্রান্স এবং গ্রিসের নাগরিকদের জানা উচিত যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সবার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহু এবং সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্তকে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ফিলিস্তিনিদের খাদ্য, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে জানিয়ে দেন, যারা আইসিসির মাধ্যমে ইসরায়েলকে টার্গেট করবেন, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে চারজন আইসিসি বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আলবানেজকে “ইহুদিবিদ্বেষী” বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির ওয়ারেন্টের কোনো ন্যায্যতা নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলবানেজ তার প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন, যারা গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে সহায়তা করেছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তি জব্দ করা হবে এবং তাদের ও তাদের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-এর প্রধান ন্যান্সি ওকাইল বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ এবং কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ। একটি রাষ্ট্র যখন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন তা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণেরই প্রতিফলন।”

বিটি/ আরকে

Tags: , ,

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT