1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
পাকিস্তানের কাছে শান্তি আলোচনার নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে একদিনে রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সচল হলো টেকনাফ স্থলবন্দর বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বেড়া দেওয়ার জন্য’ ভারত কেন কুমির এবং সাপের সাহায্য নিতে চাইছে? শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল ইসলামী ব্যাংক করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই ব্যবসাবান্ধব সংস্কার ও সহজ কর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি এনবিআর চেয়ারম্যানের লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম, নতুন দর ১৯৯ টাকা তিন বেতন কমিশন নিয়ে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার

চীন থেকে রাসায়নিক উপাদানে ঠাসা ইরানি জাহাজগুলো দেশে ফিরছে: ওয়াশিংটন পোস্ট

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি ইরানি কোম্পানির মালিকানাধীন দুটি জাহাজ এই সপ্তাহে চীনের একটি রাসায়নিক স্টোরেজ বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই করে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা, স্যাটেলাইট চিত্র এবং ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের রেকর্ডের বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এই জাহাজগুলো ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান শিপিং লাইনস’ (আইআরআইএসএল)-এর অংশ। এটি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি যা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই কোম্পানিকে “ইরানি পারমাণবিক বিস্তারকারী এবং সংগ্রহকারী এজেন্টদের পছন্দের শিপিং লাইন” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

‘শাব্দিস’ এবং ‘বারজিন’ নামের এই জাহাজ দুটি যথাক্রমে ৬,৫০০ এবং ১৪,৫০০টি ২০-ফুট লম্বা কন্টেইনার বহন করতে সক্ষম। জাহাজগুলো চীনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় শহর ঝুহাই-এর গাওলান বন্দরে নোঙর করেছিল। বিশেষজ্ঞরা ‘দ্য পোস্ট’কে জানিয়েছেন, গাওলান বন্দরটি সোডিয়াম পারক্লোরেটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য বোঝাই করার একটি কেন্দ্র। সোডিয়াম পারক্লোরেট হলো কঠিন রকেট জ্বালানির একটি মূল উপাদান, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বছরের শুরু থেকে আইআরআইএসএল-এর আরও ডজনখানেক জাহাজ এই বন্দর পরিদর্শন করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম নিয়ে কোনো জাহাজকে ইরানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন সরাসরি সংঘাতের মধ্যে রয়েছে, তখন আমেরিকার প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী চীন এ ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো আইজ্যাক কার্ডন দ্য পোস্টকে বলেন, “চীন চাইলে এই জাহাজগুলোকে বন্দরে আটকে রাখতে পারতো, প্রশাসনিক বিলম্ব ঘটাতে পারতো কিংবা কাস্টমসের অজুহাতে আটকে দিতে পারতো—তাদের হাতে অনেক আমলাতান্ত্রিক সরঞ্জাম ছিল, কিন্তু তারা তা করেনি। এটি একটি সচেতন নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা এমন এক যুদ্ধ চলাকালীন নেওয়া হয়েছে যেখানে বেইজিং প্রকাশ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।”

যদিও আইআরআইএসএল একটি বড় বাণিজ্যিক ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে, কার্ডন বলেন, এই চালানের পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে নির্দেশ করে যে, এর পণ্যগুলো হলো সোডিয়াম পারক্লোরেট। তিনি বলেন, “অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হলো, তারা সেই একই পণ্য বোঝাই করছে যা তারা গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আনা-নেওয়া করছে।”

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। পেন্টাগন, হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

‘বারজিন’ গত শনিবার গাওলান বন্দরে পৌঁছায়। সোমবার যখন এটি বন্দর ত্যাগ করে, তখন জাহাজটি পানির নিচে কতটা ডুবে ছিল (ড্রাফট) তার ওপর ভিত্তি করে বোঝা যায় যে, এটি পণ্য বোঝাই করেছে। শিপ-ট্র্যাকিং ডেটায় থাকা এই তথ্যটি ইঙ্গিত দেয়, ‘শাব্দিস’ জাহাজটিও বুধবার পৌঁছানো এবং বৃহস্পতিবার প্রস্থানের মধ্যবর্তী সময়ে পণ্য বোঝাই করেছে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ‘পোল স্টার ডিফেন্স’ স্বাধীনভাবে পোস্টের এই ড্রাফট বিশ্লেষণ যাচাই করেছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার এবং সাবেক মার্কিন ট্রেজারি কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি বলেন, “গাওলান বন্দরে দক্ষিণ চীনের কিছু বৃহত্তম তরল রাসায়নিক স্টোরেজ টার্মিনাল রয়েছে।” মালেকি জানান, গাওলান বন্দর থেকে ইরানে রাসায়নিক স্থানান্তরের ইতিহাস, আইআরআইএসএল-এর সম্পৃক্ততা এবং বারজিন ও শাব্দিসের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তার মূল্যায়ন হলো—বর্তমানে ট্রানজিটে থাকা জাহাজ দুটি সোডিয়াম পারক্লোরেট বহন করছে।

এআইএস ডেটা অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত জাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে ছিল। এই ডেটা জাহাজগুলোর অবস্থান, ড্রাফট, গতি এবং গন্তব্য সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য প্রদান করে। গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘কেপলার’ এই তথ্য সরবরাহ করেছে।

‘বারজিন’ মালয়েশিয়ার উপকূলে নোঙর করেছে। এর গন্তব্য এখনও প্রায় ৪,০০০ মাইল দূরে বন্দর আব্বাস, যেখানে এটি আগামী শনিবার পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘শাব্দিস’ বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে, যার গন্তব্য চাবাহার বন্দর আরও ৪,৫০০ মাইল দূরে; এটি ১৬ মার্চ পৌঁছাতে পারে। উভয় বন্দরই হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত এবং সেখানে ইরানের বড় নৌঘাঁটি রয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর সোমবারের স্যাটেলাইট চিত্রে বন্দর আব্বাসের একাধিক স্থান থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

গত বছর ট্রেজারি’র ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল চীন থেকে ইরানে সোডিয়াম পারক্লোরেট এবং ডাইঅক্টাইল সেবাকেট সরবরাহ বন্ধ করা। সোডিয়াম পারক্লোরেট অ্যামোনিয়াম পারক্লোরেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অ্যামোনিয়াম পারক্লোরেট এবং ডাইঅক্টাইল সেবাকেট ব্যালিস্টিক মিসাইল পরিচালনাকারী কঠিন প্রোপেল্যান্টে ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে চীনের বিরুদ্ধে তার মিত্র ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ করে আসছে। বেইজিং প্রায়ই সরাসরি সহায়তার কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, মার্কিন অভিযোগগুলো বাণিজ্যিক বা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বাণিজ্যকে অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে। তবে রকেট প্রোপেল্যান্ট এবং আতশবাজি ছাড়া সোডিয়াম পারক্লোরেটের বেসামরিক ব্যবহার খুবই সীমিত।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো গ্রান্ট রুমলি বলেন, “যদি এই জাহাজগুলো সোডিয়াম পারক্লোরেট বহন করে থাকে, তবে তা হবে এই অঞ্চলে চীনের ভারসাম্য বজায় রাখার আগের কৌশলের ব্যতিক্রম। যখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে, তখন ইরানের প্রতি এই ধরনের সমর্থন প্রদর্শন অনেক উপসাগরীয় দেশের সাথে চীনের সম্পর্ক নষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি একটি অস্বাভাবিক সাহসী কৌশল।”

বছরের শুরু থেকে গাওলান বন্দর পরিদর্শন করা আইআরআইএসএল-এর অন্য ১২টি জাহাজও বারজিন ও শাব্দিসের মতো একই টার্মিনালে নোঙর করেছিল। ড্রাফট পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি বাদে বাকি সব জাহাজই পণ্য তুলে নিয়েছিল। বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ আগেও সোডিয়াম পারক্লোরেট বহন করেছে বলে জানা গেছে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যখন মার্কিন বাহিনী ইরানের কাছে জড়ো হচ্ছিল এবং দ্বিতীয় দফার পরমাণু আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছিল, তখন কিছু জাহাজ প্রায় প্রতিদিন গাওলান বন্দরে যাতায়াত করেছে।

ড্রাফট বিশ্লেষণ নির্দেশ করে যে, অনেক জাহাজ ইরানের শহীদ রাজায় বন্দরে পণ্য খালাস করেছে, যা দেশটির কন্টেইনার বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। গত বছর এই বন্দরে এক বিস্ফোরণে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার পর, দ্য পোস্টের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি শিপিং কন্টেইনারে রাসায়নিক আগুনের কারণে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞরা জানান, ধোঁয়ার রঙ দেখে বোঝা গেছে সেখানে পারক্লোরেট উপস্থিত ছিল।

এআইএস ডেটা বলছে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কারণে কিছু জাহাজ তাদের পরিকল্পিত রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। বন্দর আব্বাসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া তিনটি জাহাজ—হামুনা, আবিয়ান এবং আরজিন—হামলা শুরু হওয়ার পর তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে “মুক্ত সমুদ্র” হিসেবে দেখিয়েছে। অন্যদিকে ‘বাশত’ নামের আরেকটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দর আব্বাস থেকে ১৩ মাইল দূরে এআইএস ডেটা পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

এদিকে, আইআরআইএসএল-এর মালিকানাধীন অন্তত আরও দুটি জাহাজ গাওলান বন্দরের দিকে যাচ্ছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কার এবং ভূগর্ভস্থ ডিপোগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কার্ডন দ্য পোস্টকে বলেন, “তেহরানের জন্য এখন প্রোপেল্যান্ট সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা কেবল জরুরি নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে দাঁড়িয়েছে।”

বিটি/আরকে

Tags: , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT