1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

সাদা রাজ্যের স্বল্প বসন্ত, রাজপ্রাসাদে সুরভীহীন বিচ্ছেদ

রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

রিয়াল মাদ্রিদ এবং জাবি আলোনসোর সেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘রোমান্টিক’ ঘরানাটি মাত্র সাত মাসেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। যে স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল গত জুনের ক্লাব বিশ্বকাপে, তার করুণ সমাপ্তি ঘটল জেদ্দার মরুপ্রান্তরে, আলো-ঝলমলে রাতে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে সুপার কাপ হারের বিষাদে। সাদা জার্সির দল বুঝে নিল—মাদ্রিদের রাজকীয় আঙিনায় ‘সম্মানজনক পরাজয়’ বলে কিছু নেই। শুরুটা ছিল আশাবাদের, মাঝপথে জমেছিল অনিশ্চয়তা, আর শেষে আস্থা ভেঙে পড়লো। কেন এমন হলো?

যে কয়েকটি কারণে এই বিচ্ছেদ…

১. অগোছালো ছক ও প্রত্যাশার চাপ
জাবির বিদায়ের পেছনে মাঠের ফল যেমন আছে, তেমনি ড্রেসিংরুমের অদৃশ্য রাজনীতিও। শুরুটা হয়েছিল আশার আলো নিয়ে, কিন্তু মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেললো জাবির রণকৌশল। পিএসজির বিরুদ্ধে সেই বিবর্ণ সেমিফাইনাল থেকেই যেন পতনের সুর বেজে উঠেছিল। মাঠের উচ্চাভিলাষী প্রেসিং গেম, যা ছিল আলোনসোর ট্রেডমার্ক, তা মেত্রোপলিতানোতে ৫-২ গোলের হারের পর রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। যে ছন্দ দিয়ে তিনি মাদ্রিদ সমর্থকদের মন জয় করতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা কেবল হাহাকারেই সীমাবদ্ধ থাকল।

২. প্রতিশ্রুত ‘রক অ্যান্ড রোল’ যখন নিস্তব্ধ
জাবি কথা দিয়েছিলেন তার মাদ্রিদ খেলবে উদ্দাম ‘রক অ্যান্ড রোল’ ফুটবল। কিন্তু মাঠে দেখা গেল তার উল্টো চিত্র—এক ক্লান্তিভরা নিস্তেজ দল। যে বিদ্যুদ্বেগ ছড়ানোর কথা ছিল, তা যেন মরুভূমির মরীচিকায় পরিণত হলো। মাঝেমধ্যে বার্নাব্যুতে বার্সার বিপক্ষে ঝলক দেখা গেলেও, বেশিরভাগ সময় দলটি আনচেলত্তির শেষ সময়ের মন্থর ফুটবলকেই মনে করিয়ে দিচ্ছিলো। প্রতিশ্রুত সেই প্রাণশক্তি আর কখনোই ফিরে আসেনি।

৩. মাঝমাঠের শূন্যতা: এক বিমর্ষ হাহাকার
ফুটবল খেলাটা গড়ে ওঠে মস্তিষ্কের কারুকাজে, কিন্তু জাবি সেই মস্তিষ্কটিই পাননি। ক্লাবের নীতি আর কোচের চাহিদার মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক বিশাল ফাটল। জাবি চেয়েছিলেন জুবিমেন্দিকে, কিন্তু ক্লাব ৬০ মিলিয়ন খরচ করলো মাস্তানতুয়ানোর পেছনে। লুকা মদ্রিচের মতো শিল্পীকে বিদায় দিয়ে মাঝমাঠকে করা হলো শ্রীহীন। চুয়ামেনি বা ভালভার্দেদের শারীরিক শক্তি থাকলেও, জাবির কৌশলে যে সূক্ষ্ম কারুকাজ প্রয়োজন ছিল, তার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছিল। বেলিংহ্যামের প্রতিভা থাকলেও বারবার পজিশন বদল তাকেও দ্বিধান্বিত করে তুলেছিল।

৪. জেদ্দার সেই ম্লান প্রতিচ্ছবি
সুপার কাপে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে কুর্তোয়ার ৪০টি লম্বা কিক মাদ্রিদের দৈন্যদশাকেই ফুটিয়ে তুলেছিল। রিয়ালের মতো বড় ক্লাবের এমন ‘ক্ষুদ্র’ মানসিকতা এবং সাহসের অভাব খোদ ক্লাব কর্তাদেরও ক্ষুব্ধ করে। ফাইনালেও সেই একই গল্প—লং বলই প্রধান অস্ত্র। মাদ্রিদে শুধু ‘কি’ নয়, ‘কিভাবে’ও গুরুত্বপূর্ণ। জেদ্দায় সেই ক্ষুদ্রতার ছবি জাবির জন্য অতিরিক্ত হয়ে গেল—আরবেই আসার আগেই তাঁর জমিন নড়বড়ে ছিল। বল পায়ে রেখে নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার যে সক্ষমতা জাবি দেখাতে চেয়েছিলেন, জেদ্দায় তার লেশমাত্র ছিল না। সেই ম্লান প্রতিচ্ছবিই মূলত জাবির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।

৫. ড্রেসিংরুমের ফাটল ও ভিনিসিয়ুস বিতর্ক
জাবি আলোনসো ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কৌশল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা কোচ। সমালোচনা শুরু হয়েছিল শুরু থেকেই। জাবি ছিলেন অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপকারী—ভিডিও, বোর্ড, ট্যাকটিক্সে সূক্ষ্ম নজর। অ্যানচেলত্তির শিথিলতার পর অনেকেই তা ভালো নেননি। ভিনিসিউসের বদলি—শুরুর দিকেই—ফাটল বাড়ায়। ক্লাসিকোতে বদলির পর বার্নাবেউয়ের ৮০ হাজার আর টিভির কোটি দর্শকের সামনে ভিনির প্রকাশ্য অসন্তোষ—ক্লাব নীরব, শাস্তি নেই। সংকট মেটেনি; ব্রাজিলিয়ান ও বাস্ক কোচের সম্পর্ক কখনোই সাবলীল হলো না। ভিনির সঙ্গে একা নন—সমালোচকের দলে আরও নাম ছিল। এর সাথে যোগ হয়েছিল তরুণ প্রতিভা আরদা গুলের বা মাস্তানতুয়ানোদের ওপর অনাস্থা। সব মিলিয়ে ড্রেসিংরুমের এই বিভক্তিই তাকে ক্লাব থেকে ছিটকে দেয়।

মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে জাবি আলোনসো যে মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন, তার প্রতিটি পাতায় এখন কেবল বিচ্ছেদের কালো কালি। রিয়ালের ইতিহাস নির্মম—এখানে জয়ই একমাত্র ভাষা, আর হারের কোনো ক্ষমা নেই।

সূত্র: মার্কা

Tags: , , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT